সারা বাংলা

গৃহবধুকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ ও প্রাণনাশের হুমকি

বিএনএন ৭১ ডটকম
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): শ্রীনগরে এক গৃহবধুকে নগ্ন করে ভিডিও ধারন ও শারীরিক নির্যাতন এবং মোবাইল ফোনসহ টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তন্তর গ্রামের মোঃ খলিল শেখের ছেলে মোঃ মিশু (৩৫), মোঃ আকবর বেপারীর ছেলে আল আমিন বেপারী (২৫), মৃত সামছু ঢালীর ছেলে নুর আলম ঢালী (৩০) ও মৃত ফজল শেখের ছেলে শাজাহান শেখ (২৮) এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার স্থানীয়ভাবে এ ঘটনার সমাধানে বৈঠকে বসার প্রস্তুতিকালে রহস্যজনক কারণে তা ভেস্তে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত ২২ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তন্তর এলাকার ৯নং রোডে নওপাড়া (হাট নওপাড়া) গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা অটো চালক গফর আলী (২৮) ও তার স্ত্রী (২০) নিজ অটোতে করে ওই রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্ত মিশু ও তার সহযোগিরা রাস্তায় তাদের থামায়। ওই গৃহবধুকে নামিয়ে তারা চালক স্বামীকে মেয়ে নিয়ে ভেগে যাওয়ার অপবাদ দিয়ে টানা-হেচরা করতে থাকে। রাস্তার নিচে নিয়ে ওই গৃহবধূকে নগ্নকরে ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে স্বামী-স্ত্রীকে রাস্তা থেকে ওই অটোতে করে ইউনিয়নের রুসদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি স্থানে নিয়ে স্বামী গফর আলীকে ছেড়ে দেয় এবং বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে। স্ত্রীকে মুক্ত করে নেয়ার জন্য ওই গৃহবধূর স্বামী মিশুর সহযোগি নুর আলমের নম্বরে বিকাশ করে ২ হাজার টাকা পাঠায়। পরে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তারা গৃহবধূকে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মিশু, আল আমিন, নুর আলম ও শাজাহান তারা এলাকায় মাদক সেবন ও কেনা বেচার সাথে জড়িত। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই দম্পতিকে সহযোগিতা করার লক্ষে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। এরি ধারাবাহিকতায় গত ৫ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের সালিশ বৈঠক বসার প্রস্তুতিকালে রহস্যজনক কারণে সালিশটি ভেস্তে যায়।

নওপাড়া বাজারের চা দোকানী ও ওই গৃহবধূর বাবা মো. জনু সরকার বলেন, ঘটনার পরের দিন তন্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে জানিয়েছি। এর পর থেকে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দেয়াসহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার কারণে মেয়ে ও মেয়ে জামাই আত্মগোপন করেছে। তাছাড়া অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাদের ভয়ে থানায় অভিযোগ করার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছিনা।

তন্তর ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দুইটি মোবাইল ও ছিনিয়ে নেয়া কিছু টাকা ফেরত দেয়। ভিডিও ধারনের বিষয়টি আমার প্রথমে জানা ছিলনা। বিচার সালিশ বসার আগে ওই গৃহবধূকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানতে পেরে আমি ভুক্তভোগীর বাবাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

Related Posts