অর্থনীতি রাজনীতি লিড নিউজ সারা বাংলা

জি কে শামীম ও শফিকুল আলম ফিরোজ রিমান্ডে

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: অস্ত্র ও মাদক মামলায় ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। দুই মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তার। এ ছাড়া শামীমের সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র মামলায় চার দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। দেহরক্ষীরা হলেন— দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

এদিকে জুয়ার আখড়া বন্ধে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম ফিরোজকে দুই মামলায় হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। র‌্যাবের করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকালে ফিরোজকে ঢাকার আদালতে পাঠায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরউদ্দিন এবং মাদক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশিকুর রহমান আসামি ফিরোজকে ১০ দিন করে ২০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার দুই মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড বাতিল করে ফিরোজের জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। তবে তা নাকচ করে দেন বিচারক। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার সিনিয়র সহসভাপতি ফিরোজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শুক্রবার কলাবাগান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ফিরোজসহ পাঁচজনকে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল র‌্যাব।

অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে পরে র‌্যাব বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন র‌্যাব-২-এর পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ খান। এতে শুধু ফিরোজকে আসামি করা হয়। বাকি চারজনকে আসামি করা হয়নি কেন— জানতে চাইলে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ বলেন, ওই চারজন ছিল কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা সমীচীন হতো না এবং তাদের সম্পৃক্ততাও পাওয়া যায়নি। ওই চারজনকে প্রত্যেকের অভিভাবক ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তার পর ঢাকায় জুয়ার আখড়া বন্ধে অভিযানে নেমেছে র‌্যাব, যেগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পুলিশের আবেদনে শামীম ও তার দেহরক্ষীদের শনিবার রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার। যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা শামীম রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। গণপূর্ত ভবনে ঠিকাদারি কাজে তার দাপটের খবর ইতোমধ্যে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। শুক্রবার গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। এরপর শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুয়ার আখড়া বন্ধে অভিযানের মধ্যে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যুবলীগ পরিচয় ব্যবহার করলেও যুবলীগের শীর্ষনেতাদের দাবি— শামীম সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না।

র‌্যাব সদর দপ্তর, সচিবালয় ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ এখন শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের হাতে রয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। শনিবার দুপুরের পর জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এ সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে শামীম ও তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে মাদক আইন, অস্ত্র আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তিনটি মামলা দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর শামীম ও তার দেহরক্ষীদের আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। শামীমের আইনজীবী আবদুর রহমান হাওলাদার আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মাহমুদা আক্তার জামিন নাকচ করে শামীম ও তার দেহরক্ষীদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Related Posts