অর্থনীতি লিড নিউজ

২৯০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে কার্গো টার্মিনাল

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সেজন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ‘বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাতে খরচ ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ ও আমদানি-রফতানি কাজে গতিশীলতা আসবে এবং স্থলবন্দরসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ডিপিপিটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তাছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে ২৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত। আর ৫৮০ কিলোমিটার সমুদ্রসীমানা দ্বারা বেষ্টিত। ভারতের সাথে সীমান্তে স্থলপথে আমদানি-রফতানি তথা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। এ বন্দর ব্যবহার করে স্থলপথে প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। প্রতিবছর এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এখান থেকে প্রতিবছর প্রত্যক্ষভাবে সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে।

সূত্র আরো জানায়, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক এবং ৫০০-৬০০টি বাংলাদেশী ট্রাক পণ্য পরিবহন করে। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে আসার পর তা টার্মিনালে অবস্থান করার কথা। কিন্তু বেনাপোলে ব্যবহারযোগ্য কোন টার্মিনাল না থাকায় অধিকাংশ পণ্যবাহী ট্রাক সড়কের ওপর পার্কিং করে রাখতে হয়। স্থান সংর্কুলান ও অবকাঠামো স্বল্পতার কারণে বন্দরের কাজে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে এ্যাপ্রোচ রাস্তাসহ একটি কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন। টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি যানবাহন পার্কিং সম্ভব হবে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় ২৯ দশমিক ১০ একর জমি অধিগ্রহণ, ২ লাখ ৪৫৬ হাজার ৯৭ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ২১০০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ৬ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, ১ হাজার ৭৪৭ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ, ৩টি টয়লেট কমপ্লেক্স ও ২টি মেইন গেট, ২টি গেট হাউস ও সিকিউরিটি সিস্টেম, ৪টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস জানান, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আগত পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ ও আমদানি-রফতানি কাজে গতিশীলতা আসবে। বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় বাড়বে। ভারতের সঙ্গে স্থলবাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বন্দর ব্যবহারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বন্দরটি। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।

Related Posts