খেলা

জিয়ার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শেখ জামালের অবিশ্বাস্য জয়

বিএনএন ৭১ ডটকম
সাব্বির হোসেন ও শরিফুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ব্যাটসম্যানরা। জিয়াউর রহমানের দৃঢ়তায় কোনোমতে একশ ছাড়াল তারা। সেই রান নিয়েই ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার ও সালাউদ্দিন শাকিলের বোলিং তোপে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের প্রথম জয় পেল শেখ জামাল।

তৃতীয় রাউন্ডের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ১২ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। ১০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৯ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর। টানা তিন ম্যাচে হারল আফিফ হোসেনের দল।

কুয়াশার জন্য নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৬ ওভারে। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেলোয়ারের ছোবলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় শেখ জামাল।

১২ রানের ভেতর ফিরে যান দুই ওপেনার। মিডল অর্ডারে ছোবল দেন শরিফুল। তরুণ বাঁহাতি এই পেসার পরপর দুই বলে তুলে নেন নাসির হোসেন ও সোহানের উইকেট।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে তিন অঙ্কে নিয়ে যান জিয়া। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার দুটি করে ছক্কা-চারে ৫৮ বলে করেন ৪১ রান। তার সঙ্গে তানবীর হায়দার, এনামুল হক ও শহিদুল ইসলামকে ফিরিয়ে দেন সাব্বির।

মিডিয়াম পেসে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন সাব্বির। ক্যারিয়ারে এই প্রথম একাধিক উইকেট পেলেন তিনি। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ৩ উইকেট নেন ২০ রানে। অভিজ্ঞ পেসার দেলোয়ার ১৪ রানে নেন ২ উইকেট। ছোট রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটির দৃঢ়তায় ৭ ওভারে ৪৩ রান তুলে লাঞ্চে যায় শাইনপুকুর। বিরতি থেকে ফিরে জিয়া ও শাকিলের ছোবলে এলোমেলো হয়ে যায় দলটি।
পেসারদের জন্য দারুণ সহায়তা ছিল উইকেটে। এর মধ্যেই ২৫ বলে ২৬ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন সাব্বির। তরুণ এই ওপেনারকে ফিরিয়ে ৪৬ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন জিয়া।
আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে শিকার ধরেন বাঁহাতি পেসার শাকিল। পরে ফিরিয়ে দেন ওপেনার উদয় কাউলকে। জিয়া ও শাকিলের পেসে এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে শাইনপুকুর।

ধসে বাঁধ দিতে পারেননি কেউই। সোহরাওয়ার্দী শুভ ছাড়া শেষ নয় ব্যাটসম্যানের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। তেমন কোনো জুটিই গড়তে পারেনি শাইনপুকুর।
১৩ রান করা শুভকে থামিয়ে দলকে টুর্নামেন্টে প্রথম জয় এনে দেওয়ার সঙ্গে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নেন জিয়া। ২৩ রানে ৫ উইকেট নেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার আগের সেরা ছিল ২৩/৫। বাঁহাতি পেসার শাকিল ২১ রানে নেন চার উইকেট।
বিপর্যয়ের মধ্যে দাপুটে ৪১ রান আর ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব: ৩৫.১ ওভারে ১০৬ (ইমতিয়াজ ৬, ফারদিন ৩, বিশত ২২, নাসির ১৩, সোহান ০, তানবীর ১৪, জিয়া ৪১, এনামুল ১, শহিদুল ০, শাহবাজ ১*, শাকিল ০; শরিফুল ৩/২০, টিপু ০/২৩, দেলোয়ার ২/১৪, শুভ ১/২১, সাব্বির ৪/২৮)
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ২৯ ওভারে ৯৪ (উদয় ১৭, সাব্বির ২৬, আফিফ ২, হৃদয় ৫, শুভাগত ৩, আমিত ৪, রাকিব ১, শুভ ১৩, দেলোয়ার ৩, টিপু ১, শরিফুল ০*; শহিদুল ১/৩২, এনামুল ০/৭, শাকিল ৪/২১, শাহবাজ ০/৫, জিয়া ৫/২৩)
ফল: শেখ জামাল ১২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জিয়াউর রহমান

Related Posts