আন্তর্জাতিক

কাশ্মীরের বন্দিদের রাখা হয়েছে দুর্গম এলাকায়!

বিএনএন ৭১ ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার পর থেকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকর্মী, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষকে আটক করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এমনকি অনেককে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দুর্গম কারাগারেও স্থানান্তর করা হয়েছে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসি হিন্দি’র সংবাদদাতা ভিনিত খারে উত্তর প্রদেশের এমনই একটি র্কারাগার পরিদর্শন করেছেন। আগ্রায় শুক্রবার সকালটা ছিল গরম ও গুমোট। উত্তর প্রদেশের এই জনাকীর্ণ ও ধুলাবালিময় শহরটি তাজমহলের আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত। মাঝে মধ্যে হালকা বাতাস এই গরম আবহাওয়াকে সহনীয় করে তুলেছিল – তবে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে আসা অসংখ্য নারী-পুরুষের পক্ষে এই আবহাওয়া মোটেই সহনীয় ছিল না। কেননা কাশ্মীরে যেখানে সেপ্টেম্বর মাসের তাপমাত্রা ১৮ সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি থাকে। সেখানে আগ্রায়, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি স্পর্শ করেছে। আগ্রার কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্ধ গেটের বাইরে একটি বিশাল ওয়েটিং হলে বসে আছেন কাশ্মীরের এই মানুষেরা।

পরিবারের কারাদণ্ড পাওয়া সদস্যদের সাথে অল্প সময় সাক্ষাতের পালা কখন আসবে তার জন্য সবাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয়ার আগে ওই অঞ্চলটিকে অচল করে দেয়- মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক, ল্যান্ডলাইন এবং ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেয়া হয়; এবং গৃহবন্দি করা হয় আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক নেতাদের। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকাটিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। সরকারের এই অকস্মাৎ পদক্ষেপের জেরে ওইদিন কাশ্মীরের হাজার হাজার আন্দোলনকর্মী এবং অন্যান্য লোকজনকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীর থেকে কয়েক শতাধিক বন্দীকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের কারাগারে স্থানান্তর করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮০ জনেরও বেশি বন্দীকে আগ্রায় পাঠানো হয়েছে।কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারটি ভীষণ গরম আর দুর্গন্ধে ভরা। টয়লেটের দুর্গন্ধ ওয়েটিং হল থেকেও পাওয়া যাচ্ছিল। যেখানে পরিবারগুলো বসে অপেক্ষা করছেন তাদের স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য। এই দুর্গন্ধের কারণে তাদের বেশিক্ষণ ধরে অপেক্ষা করাও হয়ে পড়েছিল বেশ কঠিন। এখানে খুবই গরম। আমি এখানেই মরে যাব, অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন নিজের জামা দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে এভাবেই তার পরিস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করেন।

স্মিত হাসি দিয়ে বলেন, আমার নাম জিজ্ঞেস করবেন না। আমরা নয়তো ঝামেলায় পড়তে পারি। তিনি এসেছেন কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পুলওয়ামা শহর থেকে। তিনি তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন, যাকে চার আগস্ট রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা আমাদের জানানো হয়নি। কেন তাকে তুলে নেয়া হয়েছিল সেটাও জানি না। নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছোঁড়ার সাথে তার কোনও যোগসূত্র নেই। তিনি একজন সাধারণ গাড়িচালক ছিলেন।

এদিকে ভাইয়ের খোঁজ জানতে তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে বার বার দেখা করেন। সে সময় তাকে বলা হয়েছিল যে তার ভাইকে শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর অনেক চেষ্টা করার পরে তিনি জানতে পারেন যে তার ভাইকে আসলে আগ্রায় আনা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *