সারা বাংলা

শ্রীনগরে বাংলার আমাজন!

বিএনএন ৭১ ডটকম
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): দেখে মনে হবে ঘন জঙ্গল! ঠিক যেন আমাজন। আসলে এটি একটি সড়ক। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান প্রধান কাঁচা-পাকা রাস্তার দুই পাশে এমন অতিরিক্ত ঝোপ-জঙ্গলের ভরে গিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের হাটা চলা সমস্যা হচ্ছে। অনেকে এ রাস্তাকে বাংলার আমাজন বলে তাচ্ছিল্য করতেও ছাড়ছে না।

বিশেষ করে উপজেলার তন্তর-নওপাড়া সড়কের পূর্ব বেজগাঁও, বাড়ৈগাঁ-বিবন্দী রাস্তার করকট পাড়া থেকে টুনিয়ামান্দ্রা, আটপাড়া-কল্লিগাঁও রাস্তা, সোন্ধারদীয়া-পানিয়া কাঁচা রাস্তাসহ সব ইউনিয়নের প্রায় সংযোগ রাস্তার দুই পাশে ব্যাপক আগাছা ও ঝোপ-জঙ্গল দেখতে পাওয়া গেছে। এতে করে ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচলেও বিপদজনক হয়ে উঠেছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে পথচারীরা।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক রাস্তার দুই পাশের ঝোপ জঙ্গলে ১২ ফুট পাকা রাস্তার প্রায় সব টুকুই গিলে খেয়েছে। গ্রামের আঁকা-বাকা রাস্তা গুলোতে অতিরিক্ত জঙ্গল থাকার কারণে গাড়ীর চালকরা অনেক সময় বিপরীত (বাক গুলোতে) দিক থেকে আসা গাড়ী দেখতে পাননা। এতে করে সরু রাস্তায় দুর্ঘটনার আশংক্ষায় থাকতে হয় চালকদের। জঙ্গলে ভরপুর রাস্তায় দিন দুপুরে শিয়াল, সাপ, বেজী দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে। এতে করে রাস্তায় পথচারীরা পাগলা শিয়াল ও বিষাক্ত সাপ আতংঙ্কে থাকেন।

রাস্তায় বিভিন্ন অটো রিক্সা চালকরা এ বিষয়ে জানান, উপজেলার হাতেগুনা কয়েকটি প্রধান ব্যস্ততম সড়ক ছাড়া ইউনিয়নের প্রায় সংযোগ কাঁচা-পাকা রাস্তার দুই পাশে অতিরিক্ত ঝোপ-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু রাস্তা আছে জঙ্গলের কারণে মানুষের হাটা চলা ফেরায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গ্রামের শরু রাস্তা গুলোর দুই পাশের আগাছা, লতা পাতা ও জঙ্গলের কারণে দুর্ঘটনা আতংঙ্কে থাকতে হয় তাদের।

বিভিন্ন রাস্তায় পথচারী আব্দুল হাকিম, ইকবাল, মোঃ জসিম মোল্লা, জাকির হোসেন, মোঃ শহিদুল, মোস্তফা শেখসহ অনেকের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা জানান, এই সিজনে প্রায় সব রাস্তায় আগাছা ও জঙ্গলা বেশী জন্মায়। তবে মানুষের হাটা চলাফেরায় ও গুরুপূর্ণ স্থানে ঝোপ-জঙ্গল থাকতে পারেনা! তারা বলেন, উপজেলার তন্তর, কুকুটিয়া, আটপাড়া, বীরতারা, কোলাপাড়াসহ প্রায় ইউনিয়নেই এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা-পাকা রাস্তা আছে যে, দুই পাশের জঙ্গল রাস্তা গিলে খেয়েছে। এমন ঘন জঙ্গলের জন্য দিনে দুপুরে রাস্তায় পাগলা শিয়াল ও বিষাক্ত সাপের ভয়ে থাকতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, গ্রামের রাস্তায় রাত ৮ টার পর অনেক সময় অটো রিক্সা পাওয়া যায়না। দূরের ব্যবসা বাণিজ্য কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে তাদের ঝোপ-জঙ্গলে ভর্তি ফাঁকা রাস্তায় আতংঙ্কের মধ্যে পায়ে হেটে পারি দিতে হচ্ছে তাদের।

তারা বলেন, সরকারের মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ রাস্তার ঝোপ-জঙ্গল অপসারণ করতে পারে। রাস্তা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা কি এই অভিযান আওতায় পরেনা? এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।

অপর একটি সূত্র থেকে জানাযায়, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রাস্তার ঝোপ-জঙ্গল, খাল বিলের কচুরি পানা অপশারণের জন্য স্থানীয়ভাবে ঘোষণা দেয়া হলেও মূলত কার্যকর হচ্ছেনা। হাতেগুনা দুই একটি রাস্তার ঝোপ-জঙ্গল আংশিক কাট-ছাট করা হলেও বাকি রাস্তাগুলো অবহেলায় পরে থাকছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ গুলো সূত্রে জানাযায়, প্রতি বছরই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যেদের নিজ নিজ এলাকার রাস্তা ঘাটের ঝোপ-জঙ্গল মুক্ত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন ইউপি সদস্য এ বিষয়ে জানান, রাস্তায় ঝোপ-জঙ্গল মুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ থাকলেও এ কাজের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়না তাদের।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *