অর্থনীতি

অগ্রনী ব্যাংকে মাঠ সহকারীদের চাকরি স্থায়ীকরণে দাবিতে বিক্ষোভ

বিএনএন ৭১ ডটকম
অর্থনীতি ডেস্ক: চাকরি স্থায়ীকরণে দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন অগ্রনী ব্যাংকের মাঠ সহকারীরা। এরআগে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় ১ আগস্ট ২০১১ থেকে ৭৪৫ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীকে মাঠসহকারী পদে স্থায়ীকরনের আশ্বাস দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে কোন রকম নিয়োগপত্র ছাড়াই ব্যাংকের চলমান ঋণ আদায়, বিতরণ ও সাধরণ ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত করানো হয়।

পরবর্তীতে মাঠসহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় চাকরি স্থায়ী করার আন্দোলন ও আবেদন করলে এক পর্যায়ে গত ২১ অক্টোবর ২০১৮ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত ও এমডি মোঃ শামসুল ইসলামকে একটি চিঠি দেন। সেখানে অর্থমন্ত্রী নভেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে অগ্রণীব্যাংকের সকল অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
কিন্তু সে প্রতিবেদন এখনো দাখিল করেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ব্যাংকের এমডি ৭৪৫ জন মাঠসহকারীর/এসিস্ট্যান্ট অফিসার (পল্লী ঋণ) গ্রেড ২ এর পদ সৃষ্টির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবরে তিনটি চিঠি দেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সেই চিঠির কোন জবাব অগ্রণী ব্যাংকের হেড অফিসে আজও পৌঁছেনি। বরং অর্থমন্ত্রনালয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নির্দেশনার মাধ্যমে বলে- পদ সৃষ্টির দায়িত্ব অগ্রণী ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার যখন থেকে এটি লিমিটেডে (২০০৭ ইং) রূপান্তরিত হয়েছে এবং (২০০৮ইং) সনে নিজস্ব নিয়োগ প্রবিধানমালা প্রণয়ন করেছে। অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ( পুণঃ নিয়োজিত) বলছেন, তার একার পক্ষে এদের স্থায়ী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। এতে অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে । সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমন ঠেলাঠেলিতে ৭৪৫ জন উচ্চ শিক্ষিত মাঠসহকারী বঞ্চিত হচ্ছেন দীর্ঘ আট(৮) বছর ধরে। যারা বেতন পান No work, no payment ভিত্ততে। যাদের বর্তমানে নাই কোন নির্দিষ্ট বেতন, ছুটি, চাকরির নিশ্চয়তা। মাঝেমধ্যে চাকরিচ্যুতির আশংকায় থাকেন অনেকে।

এরইমধ্যে ৭৪৫ জনেরই বয়স ৩০ বছর অতিক্রম হয়ে গিয়েছে। ফেনীর লিঠনসহ কয়েকজন মাঠসহকারী দূরারোগ ব্যাধিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। যাদের পরিবার অত্যন্ত অনটন ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন। ব্যবস্থাপনার এমন অবহেলায় কেউ কেউ চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। কেউবা অন্যত্র চাকরি নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজিবীদের কাজের পারফরমেন্স রিপোর্ট বছরের শেষে দেয়া হলেও মাঠসহকারীদের পারফরমেন্স রিপোর্ট প্রতি তিন মাস শেষে হেড অফিসে পাঠানো হয়। যদিও সেখানে তাদের সকল কাজের পারফর্মেন্স রিপোর্ট থাকেনা। তবুও সে ত্রৈমাসিক রিপোর্টগুলো অত্যন্ত সন্তোষজনক। বিভিন্ন শাখাতে নিয়োজিত মাঠসহকারীরা ঋণ প্রদান, কিস্তি সংগ্রহ, কৃষকের হিসাব খোলা ও সাধারণ হিসাব খোলা, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান, পেনশন প্রদান, রেমিট্যান্স প্রদান ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস তৈরি করে থাকেন।

একটি স্বাধীন বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিত যুবকেরা চাকরির জন্য এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরার কথা ছিল না। আর এমন অবহেলা থেকে মুক্তির জন্যেইতো জাতির পিতার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।

মাঠসহকারীদের যে পদে স্থায়ী করনের জন্য ব্যাংক শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সুপারিশ করেছে সেটি ছিল এসিস্ট্যন্ট অফিসার (গ্রেড০২)। বর্তমানে সেই সুপারিশ কী আদৌ বাস্তবায়িত হবে নাকি অধরাই থেকে যাবে? সেটিই এখন দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এমডি সরকারের দৃষ্টি কাড়ার জন্য ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু কর্ণার খুলেছেন কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন কি জাতির জনকের আত্মা আরো বেশী খুশী হতো যদি তিনি নিপিড়ীত মাঠসহকারীদের স্থায়ীর সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হতেন।

সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমান অস্থায়ীদের স্থায়ী করে নতুন কোন অস্থায়ী নিয়োগ না দিতে, অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় সময় প্রজ্ঞাপন দিয়েছেন। মাঠসহকারীরা সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা বা তার চেয়ে বেশি সময় কাজ করেন, দিনশেষে তাদের পকেটে কেবল যায় মাত্র ৬৫০/- টাকা যা দ্বারা তাঁদের পরিবার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে । এমন কি জরুরি ঋণ আদায় কাজে ছুটির দিনগুলোতে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণ আদায় করেন কিন্তু তখন তাদেরকে বেতন কিংবা ভাতা দেয়া হয় না। তাঁরা যদি অসুস্থ হয়ে কাজে যেতে না পারেন তবে তখন তাঁদের বেতন দেয়া হয় না। (দৃশ্যত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন লঙ্ঘণ)। ব্যাংক বন্ধ থাকলে তখন তাঁরা বেতন পান না।

অগ্রণী ব্যাংক উচ্চ শিক্ষিত মাঠসহকারীকে যে হারে মজুরি প্রদান করছে সেটা ব্যাংকে নিয়োজিত অষ্টম শ্রেণী পাশ এমএলএসএস/ড্রাইভারের চেয়ে মাত্র ১০০/- টাকা বেশী। অন্যদিকে মাঠসহকারীদের সমান ডিগ্রিধারী একজন স্থায়ী অফিসার পান ৫ গুন বেশি, সিনিয়র অফিসার পান ৯ গুন বেশি এবং ক্রমান্বয়ে উচ্চপদে নিয়োগকৃতরা পান ২৫/২৬ গুনেরও বেশী সুযোগসুবিধা।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ স্থায়ী কর্মচারি/কর্মকর্তাদের জন্য অগ্রণীব্যাংক মুনাফার অংশ হতে মুল বেতনের ৩.২৫ গুন ইনসেন্টিব বোনাস প্রদান করলেও অস্থায়ীদের দেয়া হয়েছে ২ গুন। তাও প্রায় দশ দিন পরে। অথচ মুনাফা অর্জনে অস্থায়ী মাঠসহকারীদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

অধিকন্তু, অগ্রণী ব্যাংকের গ্রামীন শাখাগুলোতে বর্তমানে লোকবল সংকট রয়েছে যথেষ্ট। অস্থায়ী কর্মী হওয়াতে মাঠসহকারীরা T-24 software আইডিতে কাজ করার সুযোগ পাননা। এদের স্থায়ীকরন করা হলে লোকবল সংকটের সমাধান হতে পারতো। সার্বিক বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতি ৭৪৫ জন ভুক্তভোগী মাঠসহকারীরা অতিসত্বর তাদের চাকরি স্থায়ী করে যোগ্যতার বিবেচনায় পদবী ও বেতন নির্ধারনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *