খেলা বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশকে সেরা চারে দেখতে চাই: রাসেল ডমিঙ্গো

বিএনএন ৭১ ডটকম
খেলা ডেস্ক: টাইগারদের নতুন কোচ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ক্রিকেটপ্রেমিদের। সম্প্রতি মাশরাফিবাহিনীর হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পরই মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়েছেন। বলেছেন, প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চান, একইসঙ্গে দেখতে চান ধারাবাহিকতা। আগামী দুই বছরে সব সংস্করণে দলকে নিতে চান র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪/৫ নম্বরে।
এদিকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে কোচিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন ডমিঙ্গো। লম্বা সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন পর্যায়ে কোচিং করিয়ে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে আসছেন বাংলাদেশে। দেশ ছাড়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া তার সাক্ষাতের চুম্বক অংশ আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো-

> কোচ নিয়োগের সাক্ষাৎকারের সময় আপনার প্রেজেন্টেশনে মুগ্ধ হয়েছিল বিসিবি। কি ছিল সেই প্রেজেন্টেশনে?

রাসেল ডমিঙ্গো: অল্প কথায় বলা কঠিন। সেখানে দলটাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে গড়ে তোলার কথা বলেছি, যেন ধারাবাহিকভাবে জিততে পারে। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা কথা বলেছি। তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করার কথা বলেছি। আমাকে এই দুইয়ের সমন্বয় করতে হবে। বর্তমান সময়ের জন্য দলের পারফরম্যান্স, ম্যাচের ফল খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবার একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পথটাও আমার বের করতে হবে। বিশ্বকাপের আগে যদি আমরা কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে পারি সেটা হবে খুব ভালো একটা ব্যাপার।
আমি যখন দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন আমাদের দলের জন্য সাফল্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হার আমাদের দলের ওপর চাপ তৈরি করতো। কোনো কোচ তার দলকে হারার জন্য প্রস্তুত করেন না। কোচ হিসেবে আমি চেষ্টা করবো ছেলেদের তাদের কাজের ব্যাপারে ইতিবাচক রাখতে, ওদের খেলার দিকে মনোযোগী রাখতে। একই সঙ্গে দলের সাফল্যের জন্য সবার সমর্থনও খুব জরুরি।

>দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রস্তুতির জন্য সময়টা কি যথেষ্ট?

রাসেল ডমিঙ্গো: ঢাকা পৌঁছানোর পর অনুশীলন ক্যাম্পে ১০ দিন ছেলেদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। আমাদের দলে ঠিক কি আছে, না আছে সেটা সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য এই সময়টা যথেষ্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। ওদের বিপক্ষে জিতবই এটা আমরা ধরে নিতে পারি না। ওদের বিশ্বমানের কিছু খেলোয়াড় আছে। আমি ওদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।

>নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ব্যাপারে আপনার সুনাম আছে। উঠতি প্রতিভাদের পথ দেখানোর ক্ষেত্রেও আপনি পারদর্শী। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?

রাসেল ডমিঙ্গো: অবশ্যই আমি বয়সভিত্তিক দলগুলোর ম্যানেজার ও কোচের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাব। প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ওঠে আসা সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখবো। আমার মনে হয়, পরের দলটা কেমন হতে পারে বুঝতে পারা সব সময়ই খুব ভালো একটি ব্যাপারে। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা মাঠে বসে দেখব। দেশের সেরা লিগে (ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ) নতুন একটা ছেলে কিভাবে খেলে সেটা সরাসরি দেখব। আমার ধারণা, ঘরোয়া ক্রিকেটে দলগুলো ভালো কোচের অধীনে আছে। আমি জানি, ঢাকা লিগে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

>প্রাথমিকভাবে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর। এই সময়ে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?

রাসেল ডমিঙ্গো: আমার মনে হয় অবশ্যই র‌্যাঙ্কিংয়ে চার-পাঁচে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে ওয়ানডেতে আমাদের অবশ্যই সেরা চারে থাকার সামর্থ্য আছে। এটা হবে বাস্তবসম্মত একটা লক্ষ্য। আমি জানি, এটা কঠিন হবে। লক্ষ্য পূরণ করতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পরের ধাপে যেতে বাংলাদেশকে পথ দেখাতেই এসেছি আমি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *