অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

বিএনএন ৭১ ডটকম
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ): এক সময় এ দেশেরই বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেতে তৈরি হতো হাজারো পণ্য। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বাসা-বাড়ি কিংবা অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলাতেও।

বাঁশ আর বেতকেই জীবিকার প্রধান বাহক হিসাবে বাপ-দাদার এই পেশাকে এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছে সিরাজদিখানের রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ার প্রায় ৪০ টি ঋষি পরিবার। এই বাঁশ আর বেতই বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান বাহক। কিন্তু দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ায় প্রায় ৪০ টি পরিবারই বর্তমানে এই শিল্পটি ধরে রেখেছেন। পুরুষদের পাশাপাশি সংসারের কাজ শেষ করে নারী কারিগররাও বাঁশ ও বেত থেকে তৈরী করেন বাচ্চাদের দোলনা, তালায়, র‌্যাগ, পাখা, ঝাড়ু, টোপা, ডালী, মাছ ধরার পলি,খলিশানসহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র ।

বর্তমানে আধুনিতার যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আর্কষনীয় বিভিন্ন প্লাষ্টিক পণ্য ও আন্যান্য দ্রব্য মূল্যের সাথে পাল্লা দিতে না পারায় এই শিল্পের অনেক কারিগররা তাদের বাপ-দাদার পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

বাশঁ ও বেত শিল্পের কারিগর নিরঞ্জন দাস(৫৫) বলেন,‘আমার বাপ-দাদারাও এই পেশায় ছিল আমিও ৩৩ বছর যাবৎ এ পেশায় আছি । পন্যের চাহিদাও ভালো কিন্ত সরকার থেকে কোন অনুদান আমরা পাইনা,এমনকি পৃষ্ঠপোষকতার জন্যও আমরা উপজেলা থেকে কোন সহযোগিতা ও পাইনি এখন পর্যন্ত । আমাদের এসব পণ্যের মূল কাঁচামাল হলো বাঁশ ও বেত। বেত কিনতে হয় বহু দূর-দূরান্ত থেকে যে কারনে খরচটা বেশী পড়ে লাভ হয় কম। আমরা ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড,গাউছিয়া,আড়ং এবং চিটাগং বিক্রি করে থাকি।’

রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন হাদি বলেন,‘আমার ইউনিয়নে মধুপুর গ্রামের মনিপাড়া ১শ বছরের বেশী হবে প্রায় ৪০ টি পরিবার বাশঁ ও বেত শিল্পর সাথে জড়িত । আগে আরো বেশী ছিল দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্প । যদি সরকার এই পেশার মানুষকে একটু সহযোগিতা করে তাহলে এই শিল্প টিকে থাকবে কারিগররা ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।’

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার বলেন,‘এ বিষয়টি আমি অবগত । এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব তাদের যদি ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয় তারও ব্যবস্থা করব। ’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *