সারা বাংলা

বালাশুর-ভাগ্যকুল রাস্তার কাজে অনিয়ম, জনদুর্ভোগ চরমে

বিএনএন ৭১ ডটকম
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): শ্রীনগরে একটি রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি খোরাখুরির নামে রাস্তাটি আরো বেহাল করে রাখায় হাজারো মানুষের চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে রাস্তায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পরেছে। বৃষ্টির পানিতে প্রায় এক-দেড় ফুট কাদামাটি জমেছে।

সূত্রমতে জানাযায়, এফডিআর প্রকল্পের আওতায় (আর এন্ড এইচ ভাগ্যকুল জিসি মাওয়া সড়ক পূর্ণবাসন, চেইন:০০-৭৫০ মি: এবং ১৪৬০-৪২০০ মিটার শ্রীনগর অংশ) বালাশুর-ভাগ্যাকুল নামক রাস্তার কাজ বাস্তবায়নের লক্ষে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা মূল্যে কাজ পায় মেসার্স মিজান এন্ড ব্রাদার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর আগে গত বছর সেপ্টম্বর মাসে কাজ করার লক্ষে খোরাখুরি শুরু করলে নিম্ন-মানের উপকরণ ব্যবহার করায় স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন। পরে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লষ্টি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে কাজের টেন্ডারটি বাতিলের দিকে যেতে থাকে। পরে দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পরে রহস্যজনক কারণে পুনরায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই দেড় মাস পূর্বে রাস্তায় কাজ শুরে করে।

বালাশুর চৌরাস্তা থেকে ভাগ্যকুল র‌্যাব-১১ কার্যালয় পর্যন্ত ৬০০ মিটার রাস্তার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করলেও কাজে অনিয়ম পেয়ে গত সপ্তাহে উপজেলা প্রকৌশলী কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে রডের দুরত্ব ৮ ইঞ্চি থাকার কথা। সেখানে ঠিকাদার মিজান রডের দুরুত্ব রেখেছেন ৯-১০ ইঞ্চি করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যে নিয়ম-কানুন মেনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা তার কিছুই মানা হচ্ছেনা বলে জানাযায়। বর্তমানে ওই রাস্তা এতটাই বেহাল হয়ে পরেছে যে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। এছাড়াও কাজের জন্য নিম্ন-মানের উপকরণ এনে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, ঠিকাদার মিজান উপজেলার সদরে বসবাস করায় প্রভাব খাটিয়ে কাজ করেন। অনিয়মের বিষয়ে কথা বললে সে কোন কথা শুনেন না। রাস্তার চলামান কাজেও অনিয়ম করার জন্য তদরকীর দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মিজানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। অপর একটি সূত্র জানায়, শ্রীনগর বাজার সংলগ্ন একটি ব্রীজের কাজেও মিজান অনিয়ম করার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকৌশলীকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে ওই প্রকৌশলী মিজানের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

ভাগ্যকুল বাজার ও বালাশুর বাজার ব্যবসায়ী জুয়েল খান, বুলু সিকদার, সিপু সাহা, অমল স্বর্ণকার, আইয়ুব খান, আফসার উদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, মিজান যদি কাজে অনিয়ম না করতো তাহলে গত বছরেই এই রাস্তার কাজ শেষ হতো। ঠিকাদারের গাফলতির কারণে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পরেছে। ব্যবসা বাণিজ্য, স্কুল কলেজসহ প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজকর্মে যাতায়াতের জন্য হাজারো মানুষের জন্য রাস্তাটি অতিগুরুত্বপূর্ণ। বেহাল রাস্তার কারণে আর দুর্ভোগ পোহাতে চাননা স্থানীয়রা। তারা আরো বলেন, মিজান বিএনপির নেতা হয়ে ও সরকারি কাজে এতো অনিয়ম করার পরেও সে কিভাবে এতো কাজের ট্রেন্ডার পান? ঠিকাদার মিজানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।

শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আঃ মান্নান জানান, কাজের অনিয়ম করার বিষয়ে ট্রেন্ডার বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়ে চিন্তা করে উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে মিজানকে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। চলমান ঢালাইয়ের কাজে অনিময় (রডের দুরত্ব) পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও ঢালাইয়ের কাজে রেডীমিক্স ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *