বিশেষ প্রতিবেদন

সক্রিয় মৌসুমী অপরাধীরা, প্রশাসনে বিশেষ সতর্কতা

বিএনএন ৭১ ডটকম
সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ): মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মাঠে নেমেছে জাল টাকার নোট চক্র, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টিসহ মৌসুমি অপরাধীরা। সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিতে উপজেলার বিপণি বিতান, টার্মিনাল, ব্যাংকপাড়া ও ব্যস্ততম মোড়গুলোসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিচ্ছে এসব অপরাধীরা।

জানা যায়, শুধু মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে নয় চলতি ঈদ মৌসুমে কোটি টাকার নিখুঁত জাল নোট রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। এ ছাড়া অন্তত কয়েক শতাধিক ছিনতাইকারী তথা টানা পার্টি ও অজ্ঞানপার্টি চক্রগুলো যথারীতি সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে মানুষের ঈদের কেনাকাটা ও চলাচলকে নির্বিঘ্ন করতে এসব অপরাধী প্রতিরোধ ও আটকে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সম্প্রতি এ নিয়ে উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার বাজার কমিটি সহ ব্যাংক বীমা অন্যান্য সংগঠন সহ সমাজের সুধীজনদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। অপরাধীদের কৌশলের বিপরীতে পাল্টা কৌশল গ্রহণ করে অভিযান চালাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। উপজেলার তালতলা বাজার,বালুচর বাজার নিমতলা কুচিয়ামোড়া ইছাপুরা গোয়ালবাড়ির মোড় ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের চলাচলকারী যানবাহন ও বাসষ্টান্ড সহ ব্যাংগুলোতে রয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি পাশাপাশি বড় বিপণি বিতানগুলোর আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান নাহিদ জানান,সিরাজদিখানে কয়েকটি স্পটে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা ঈদে প্রতি বছরই লক্ষ্য‌্য করা যায় বিশেষ করে নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরাজদিখান বাজারে যাওয়ার রাস্তা ও কুচিয়ামোড়া থেকে সৈয়দপুরের রাস্তা সহ চিত্রকোটে ঈদের এই সময়টাতে ডাকাতি ও ছিনতাই বেশি হয়। এছাড়া ঈদ মৌসুমে যথারীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। তারা মার্কেট, বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ও ব্যাংকপাড়া এলাকায় শিকারের অপেক্ষায় সক্রিয় থাকে। সুযোগ বুঝে নিরীহ মানুষদের নানা কিছু খাইয়ে অচেতন করে টাকা লুটে নেয়ায়ই তাদের টার্গেট।

সিরাজদিখান উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক লাখো যানবাহন চলাচল করে এই রুটে কয়েকটি বাসস্টেশন ও এই উপজেলার আওতাধীন তাই মৌসুমী অপরাধীদের আনাগোনা ও এখানে বেশি বিশেষ করে এখানে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে, চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, খেজুর, ক্রিম জাতীয় বিস্কুট ব্যবহার করে থাকে। টার্গেটকৃত ব্যক্তি রাজি হলে সেই খাদ্যদ্রব্য তাকে খাওয়ানো হয়। খাদ্য গ্রহণের পর অচেতন হলে তার মূল্যবান দ্রব্যাদি নিয়ে দ্রুত চলে যায়।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদ উদ্দিন জানান,আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সব ধরনের অপরাধীদের দমন ও নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তায় টহল আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *