অর্থনীতি লিড নিউজ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান বিপিসির

বিএনএন৭১ ডটকম
ঢাকা: আবারো জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এরফলে আরেকদফা বাড়তে পারে জ্বালানি দেলের দাম। কারণ বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বিক্রিতে প্রতিদিন ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা লোকসান গুণছে। বছর শেষে বিপিসির লোকসানের ওই অংক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি (৩ হাজার ৩৯১ কোটি) টাকায় গিয়ে ঠেকবে।

যদিও বিপিসি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা জানিয়ে গত নির্বাচনের আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল। তাছাড়া বিপিসি বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়কে লোকসানের কথা জানিয়ে আসছে। জ্বালানি বিভাগ থেকেও সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি না মেলায় বিপিসি এতদিন চুপ ছিল। তবে ক্রমাগতভাবে লোকসান দিতে হলে বিপিসি আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিপিসি এবং জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি ব্যারেল গ্যাসোলিন ৮০ ডলারের ওপরে উঠলেই বিপিসিকে লোকসান গুণতে হয়। সেক্ষেত্রে ৮০ ডলার পর্যন্ত ব্রেক ইভেন (লাভ ক্ষতির সমতা বিন্দু) ধরা হয়। বিপিসিকে এখন প্রতি ব্যারেল গ্যাসোলিন কিনতে হচ্ছে ৮৭ ডলারে। গত ৮ মে’র দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল বিক্রিতে ৩ টাকা ৮৪ পয়সা এবং প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে ১১ টাকা ৫০ পয়সা বিপিসির লোকসান হচ্ছে। ওই হিসাবে প্রতিদিন বিপিসি লোকসান করছে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৫ হাজার ৮৭০ টাকা। বছর শেষে ওই টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। বিগত ২০১৬ সাল থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উর্ধ্বমুখী। এর আগের কয়েক বছর বিপিসি কিছুটা লাভ করেছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ে বিপিসির কর্মকর্তারা সরকারকে একটি ফর্মুলার কথা বলেছিল। একইভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তেলের দাম নির্ধারণ হয়। তাহলে তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে এতে জটিলতা তৈরি হবে না। পাশাপাশি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করায় বিপিসিরও লোকসান হবে না। তবে শুরুতে মূল্য সমন্বয়ের ওই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হলেও পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি। অথচ জ্বালানি তেল বিক্রিতে অব্যাহত লোকসান দিতে থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাঁধাগ্রস্ত হবে।

বিপিসি এখন সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম তেল পাইপ লাইন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা তেল পাইপ লাইন নির্মাণ করছে। তাছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের চেষ্টা করছে। ক্রমাগতভাবে লোকসান দিলে বিপিসি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপিসি ওসব প্রকল্প আর করতে পারবে না। বর্তমানে ডিজেল ও কেরোসিন ৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন যথাক্রমে ৮৬ ও ৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ তার চেয়ে বেশি দামে প্রতিবেশী দেশে ডিজেল এবং পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসানের কথা জানানো হয়েছে। এখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. শামসুর রহমান জানান, বিপিসি প্রতিদিন ৯ কোটি টাকার ওপরে লোকসান গুণছে। বছর শেষে ওই অঙ্কটা বেশ বড় হবে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে লোকসান বহন করা কঠিন। জ্বালানি বিভাগে বিপিসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে লোকসানের কথা বলা হয়েছে। তবে এর ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়া বিপিসির এখতিয়ারের বাইরে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *