সারা বাংলা

একযুগেও রাস্তার কার্পেটিং হয়নি!

বিএনএন ৭১ ডটকম
মোহন মোড়ল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): শ্রীনগরে একযুগেও করা হয়নি একটি রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির বেহাল চিত্র দেখে মনে হয় ডিজিটাল যুগে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া এসে পৌছাতে পারছেনা। অথচ রাস্তাটি এলাকার জন্য এতই গুরুত্বপূর্ণ যে দুইটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের লোকজন প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই তাদের স্কুল, কলেজ, হাট-বাজারসহ উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। উপজেলার বিবন্দী-তন্তর নামক রাস্তাটি এখন মানুষের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরেছে….দেখার যেন কেউই নেই!

সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানাযায়, কুকুটিয়া ও তন্তর ইউনিয়নের বনগাঁও, বিবন্দী, টুনিয়ামান্দ্রা, ঝুলদী, বাগবাড়ী, পাঁচলদিয়া, মুসলিমপাড়া, রুসদী, পশ্চিম নওপাড়া, তন্তর, পুড়ারবাগ, উত্তরগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামবাসীর কাজেকর্মে বিবন্দী-তন্তর নামক রাস্তাটিই তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। দুর্ভোগের স্বীকার এলাকার মানুষ যাতায়াতের প্রয়োজনে বিকল্প কোন মাধ্যম না থাকায় স্থানীয়দের প্রতিদিন ওই বেহাল রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

এছাড়াও রাস্তা ভালো না থাকায় এ অঞ্চলের ৫’শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ৩ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগের স্বীকার হন। ওই রাস্তায় রয়েছে দুইটি ব্রীজ। ব্রীজের দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে মরন ফাদের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, একযুগ আগে মাটি ভরাটের পর রাস্তায় ইট বিছানো হয়েছিল। ইট বিছানো অবস্থায় বেবী, রিক্সা, প্রাইভেটকারসহ যেকোন যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ রাস্তার ইট উঠে গিয়ে এমই বেহাল হয়েছে যে বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই।

এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি আরো ভয়ংকর হয়ে উঠে। এর আগে রাস্তাটি সংস্কারে কাজ একাধিকবার শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে নিয়ে এর সমাধানে বেহাল রাস্তাটি অতিদ্রুত কার্পেটিং করা প্রয়োজন।

একটি সূত্র জানায়, রাস্তায় কার্পেটিং কাজের বরাদ্দ হয়েছে শুনেছি। তবে সঠিকভাবে তদারকি করা না হলে রাস্তার কাজে বিঘ্ন ঘটবে। কারণ হিসেবে জানা গেছে ওই রাস্তায় বিছানো সাবেক ইট নেই বলে ঠিকাদার কাজে বিলম্ব করছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে রাস্তাটি সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে তালবাহনা করা শুরু করলে তাদের বাদ দেয়া হয়। এবার রাস্তটি কার্পেটিং কাজের অনুমোদন হয়েছে। মেসার্স খাজা চিস্তীয়া এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *