লিড নিউজ সারা বাংলা

তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আইডি নাম্বার দেয়ার উদ্যোগ

বিএনএন ৭১ ডটকম
প্রাথমিক শিক্ষাকে শিক্ষার মূলভিত্তি ধরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নামে পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান করা হবে। আর আইডি নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাসম্পর্কিত অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিভিল রেজিস্ট্রেশন এ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসের (সিআরভিএস) মাধ্যমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে একই ফ্রেমে নেয়া সম্ভব হবে। ওই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের ১৫ বছরের উর্ধে সাড়ে ১০ কোটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগ আরেকটি ডাটাবেজের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০ কোটি নাগরিকের জন্য সময়ভিত্তিক স্বাস্থ্য শুমারি পরিচালনা করছে। আর পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ১৬ কোটি মানুষের দারিদ্র্যসূচক প্রস্তুতের অংশ হিসেবে একটা ডাটাবেজ তৈরি করছে। কিন্তু ওসব ডাটাবেজে প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কোন তথ্য না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নাম, বাবা-মায়ের নাম একেক জায়গায় একেক ধরনের থাকে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক ধরনের তথ্য থাকে। তথ্যের গরমিলে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ছে। পরবর্তীতে সংশোধন করতে গিয়েও শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ইউনিক আইডি ওসব সমস্যা নিরসনে সহায়ক হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কোন তথ্য নেই। সেজন্যই সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়ার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এখন একটা ডাটাবেজ তৈরি হবে। আর ইউনিক আইডির মাধ্যমে এক ক্লিকেই শিক্ষার্থীর সব ধরনের তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপবৃত্তি ও বই ঠিকমতো পেল কিনা ওসব তথ্য খুব সহজে জানা যাবে।

সূত্র জানায়, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২ কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নতুন ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থীসহ মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। তাছাড়া প্রতিবছর এ প্রকল্পের আওতার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একক পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান করা এবং আইডির মাধ্যমে বই সরবরাহ, ভর্তি, উপবৃত্তিসহ অন্যান্য শিক্ষা সেবা প্রদান করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কর্তৃক ইলেক্ট্রনিক ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে বা তৈরির কাজ চলমান আছে। কিন্তু ওসব ডাটাবেজ পারস্পরিক সমন্বয়যোগ্য না হওয়াতে ওসব থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ডাটাবেজে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আর এমন ধরনের সমন্বয়যোগ্য ডাটাবেজের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কয়েক বছর আগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একক সিভিল রেজিস্ট্রেশন এ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

সূত্র আরো জানায়, প্রাথমিক শিক্ষায় দেশের শতভাগ শিশুকে নিয়ে আসার সরকারি পদক্ষেপের ফলে প্রতিটি শিশুর জন্য একটি একক আইডি প্রদান করা হলে শুরু থেকেই একজন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য ধারণ এবং ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাতে করে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়াও কমবে। তাছাড়া প্রকল্পের সম্প্রসারিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করার নিমিত্তে প্রাথমিকোত্তর শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের ডাটাবেজ সমন্বয়যোগ্য করা, এনআইডির ডাটাবেজ থেকে শিক্ষার্থীদের বাবা-মা বা অভিভাবকের এনআইডি যাচাই করার জন্য এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা। প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রাথমিক স্তরে প্রতিবছর তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য এন্ট্রি করার ব্যবস্থা রাখা, ইবতেদায়ি পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল বা ডাটাবেজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক করা। সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা অন্তর্ভুক্ত করা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল বা ডাটাবেজ ব্যানবেজ কর্তৃক করা। ওই ডাটাবেজ করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দেয়ায় সরকারের জন্য সহজ হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করাও সম্ভব হবে।

অন্যদিকে বিগত ২০১৬ সালে শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে অনানুষ্ঠানিক এক সভায় সিআরভিএস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কম্পোনেন্ট তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে গত ২০১৬ সালের নবেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সিআরভিএস কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রস্তুত করা এবং শিক্ষার্থীদের তথ্যভা-ার গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। ওই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ওই প্রকল্পটি সিআরভিএস বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সভায় উপস্থাপন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ বিষয়টি একনেকের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মূল কাজ হলো প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ২ কোটি ১৭ লাখ (বেইসলাইন) ও প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নতুন ভর্তিকৃত ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার্থী প্রোফাইল প্রস্তুত করা, প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রস্তুত করা। প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একক পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান। আইডি নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাসম্পর্কিত অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে। সেবার মধ্যে রয়েছে বই বিতরণ, ভর্তি, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং ইত্যাদি। ৩ বছর মেয়াদে ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আর ওই প্রকল্পের জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার পুরোটাই সরকারি খাত থেকে ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, প্রাথমিকের বাচ্চাদের জন্য একটি স্পেশালাইজড প্রোফাইল তৈরি করা হবে। তাদের গতিবিধি, জন্ম তারিখÑ এ রকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে সংযুক্ত থাকবে। একটা কার্ড থাকবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুরা ওই কার্ড কন্টিনিউ (চলমান থাকবে) করবে। উপবৃত্তি পেল কি না পেল, কত টাকা পেল সেগুলো সেখানে থাকবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *