প্রবাস

নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট ডে’ পালনের বিল পাস

বিএনএন ৭১ ডটকম
প্রবাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট ডে’ হিসেবে পালনের লক্ষে বিল পাস করেছে স্টেট সিনেট। প্রবাসী বাংলাদেশীদের উত্থাপিত এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্টেট সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে এই বিল পাস করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথমবারের মত সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই প্রস্তাব দিয়েছিল।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনিতে অনুষ্ঠিত সিেেনট অধিবেশনে ‘বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট ডে’ বিলটি উত্থাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয় এবং তারিখটিকে স্টেট ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার রেজ্যুলেশন নং- ৩২২।

নিউইর্য়ক স্টেট সিনেটের ওয়েবসাইটে দেয়া রেজ্যুলেশনে এই সংবাদ দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, যেহেতু ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন সেজন্য এই দিনটি নিউইর্য়কের বাংলাদেশী অভিবাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এতে আরো বলা হয়, এছাড়াও মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ২৫ সেপ্টেম্বরকে বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্ট ডে ঘোষণার জন্য যে প্রস্তাব করেছেন তাতে জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাংলায় ভাষণের কথা সবচেয়ে গুরুত্বে¡র সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্ট ডে ঘোষণার প্রস্তাবক ও নিউইর্য়কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিত সাহা আজ ফোনে বাসসকে বলেন, দিনটিকে বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট ডে ঘোষণা করার লক্ষ্যে তিনি ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম সিনেটর টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সিনেট অধিবেশনে এ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

হতোদ্যম না হয়ে তিনি আবার ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি সিনেটর হোজে প্যারাল্টার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তাঁকে জানান। সিনেটর আশ্বাস দিন এই বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করবেন।
পরে ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হোজে পেরাল্টার প্রকলেমেশনে ২৫ সেপ্টেম্বরকে ’বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্টস ডে’ হিসাবে ঘোষণা করেন এবং এটি মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এন আর বি গ্লোবাল কনভেনশনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০১৮ সালের শেষ সিনেট নির্বাচনে হোজে প্যারাল্টা পরাজিত এবং তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটলে বিশ্বজিত সাহা হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ, ইতোপূর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রেজ্যুলেশটিও সিনেটর হোজে প্যারাল্টার প্রস্তাবনায় নিউইয়র্কে স্টেটে পাশ হয়েছিল এবং তা স্টেট ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

বিশ্বজিত বলেন পরে তিনি আরো কয়েকজন সিনেটরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সিনেটর টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কির কাছে প্রস্তাবনাটি পাঠান। এই পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটর টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কির ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে আলবেনিতে অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত ও স্টেট ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখন থকে প্রতিবছর নিউইয়র্ক স্টেটে দিনটি পালিত হবে।

সিনেটের এই রেজুুলেশনটি পাশের পর তা গতকাল ১২ মার্চ এর কপি নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর এন্ড্রু ক্যামো ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। খবর বাসসের।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *