শিল্প সাহিত্য

কৈশোরের বৈকালিক প্রেমের গল্প

কৈশোরের বৈকালিক প্রেমের গল্প
-সুখী ইসলাম

হঠাৎই বাকরুদ্ধ অবস্থা আমার, আকস্মিকতায় আমার যাবতীয় বুদ্ধি বিবেচনা লোপ পেল। মন, বুদ্ধি, উপস্থিত চিন্তা থমকে গেল বিপদ পাড়ার মোড়ে। হীমশীতল হয়ে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিন। রাতের আঁধারের নিস্তব্ধতা যেন ছেয়ে গেল ক্ষণিকের মধ্যে। কেন জানি নিজেকে আড়াল করতে চাইলাম বিপদ পাড়ার মোড়ের ভিড়ে। শত লোকের ভিড়ে ক্ষণিকের মতো মুক্ত ভেলায় ভেলায় পাল তোলা নাওয়ে হারিয়ে গেলাম উজান বেলায়।

সেদিন আগ্নেয়লাভর তীব্র তোলপাড় চলেছিল বুকের ভিতর। এতোটাদিন পর আজ স্বগতোক্তিরমতো নিজেই বলি নিজের ভালোবাসার গল্প।
সেদিন এরকম একটা বিপদ পাড়ার মোড়ে প্রথম দেখা।তোমার পানে চেয়ে থাকায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়েছিল মূষলধারায়। আর তুমি দুহাত তুলে ছুয়ে দেখেছিলে সেই বৃষ্টি। কিছুক্ষনের জন্য হতে চেয়েছিলাম বৃষ্টি ,কিন্তু পারিনি।
কোন এক বিকেলে তাকিয়েছিলাম দক্ষিণের জানালা দিয়ে বাইরের দুনিয়ায়। বাতাসের ঝাপটায় ঝরাপাতা নৃত্যেপর ভঙ্গিমায় রুপান্তরিত হয়েছিল এক ধূর্লভ চিত্রকর্ম।অপার বিস্ময়ে তোমার কোঁকড়ানো এলোচুলে চোখ আটকিয়ে গিয়েছিল। অসম্ভব আন্তরিকতায় অপলক দৃষ্টির আদান প্রদান হয়েছিল। ভালোবাসার আগুননদী আমাদের বুকে সাঁতার কেটেছিল ।বুকের মাঝে ভালোবাসার জলপ্রপাত শব্দহীন আহ্বানে বহুবার ক্যাফেটেরিয়া থেকে ঝাউ গাছের নিচে। সরিষাফুলে রঙ ছড়িয়ে ব্যাস্ত প্রজাপতিরা যেন আমাদের মিলিয়ে দেওয়ার জন্য সম্মিলিত প্রয়াস। সমম্বিত প্রস্তুতি আকাশ ও বাতাসের সোনালী আলোতে সবুজ বিছিয়ে দুর দিগন্তে আকাশও মাটির সুচারু মিলন এ যেন আমাদের বাসর বেলা।

সেদিন মা খুব বকেছিল।কেন জানি আড়াল করতে চেয়েছিল বাবার থেকে।শেষ অবদি রক্ষা হয়নি।পাড়াতো ভাইয়েরা শাসিয়ে গিয়েছিল আমার ভাইকে।ঠাঁই দাড়িয়ে ছিলাম বকুনি খেয়ে কল পাড়ে।ভাইয়ের দেওয়া কপালের কাঁটা দাগে এখনও স্বপ্নরা কেঁদে ফেরে।
সেদিন বাসস্টপে দাড়িয়ে ছিলাম তুমি আসোনি।অফিস শেষে বাবা এসে কান টেনে নিয়ে গেছিলো। তোমাদের সুসজ্জিত ড্রইং রুমের সোফার নরম গদিতে মাথা নিচু করে বসেছিলাম।তোমাকে একবার দেখার বড় শখ ছিল তোমার বাবা কর্কশ গলায় বলেছিল দশম শ্রেণীতে পড়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখ।ভালোবাসার মানে বোঝ অপদার্থ ছেলে।নটা টু পাঁচটা অফিস শেষে ঘরে ফিরে আজও সে প্রশ্নের মানে খুজি।

ধূলিধুসরিত ভালোবাসার ঝরা পাতার গন্তব্য কোথায়? হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে গেছে কোন এক অজ্ঞাতপথে।তোমার হৃদয় থেকে উড়ে গেছি আশ্চর্য দীর্ঘশ্বাস হয়ে অচেনা তুষার সীমানায়।
তুমি নেই, তবে কী এমনই কথা ছিল?
প্রিয়তমা, আজ আমার সাথে থাকা তোমার স্মৃতিরা ভালো আছে।বেশ উজ্জ্বল রোদের উপর খেলা করে।আমি জানালার বাইরে আকাশ দেখি,আকাশে মেঘ দেখি,মেঘের পিছনে দেখি আলো।জানিনা তুমি আজকের আকাশটা দেখছ কিনা?সেই আকাশে সাদা মেঘের নিচে তোমার স্মৃতিরা খেলা করে।দেখ দেখ ওই যে তুমি আমাকে শাসন করেছিলে ওই স্মৃতিটা দৌড়াচ্ছে। দেখ আমার দিকে আনমনে চেয়েছিলে আর আইসক্রিমটা গলে মাটিতে পড়ছে ওই স্মৃতিটা কেমন লজ্জা পেয়ে মুচকি হাসছে।ওই যে ঘাসের উপর বসে আছে ওটাকে চিনতে পেরেছ? ওটা সেই দিনের একসাথে ভেজার স্মৃতি। জানালার এপারে থাকা আমার ছোট ঘরে আলো নেই, শব্দ নেই, ঘুম নেই, সুর নেই, তোমার স্মৃতিরা ভালো থাকলেও আমি ভালো নেই।

আজ এতোদিন পর তোমার দেখা পেলাম বিপদ পাড়ার মোড়ে। আমার বেলায় অষ্টপ্রহর বাঙালির পোশাকের বাড়াবাড়ি আর এখন আকাশ সংস্কৃতির জিন্স আর টপস।তোমার পাশের ওই হ্যান্ডসাম ছেলেটাকে দেখেচোখ ঝলসে গেল।প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে ঈর্ষান্বিত হলাম বারবার। তবে যাই বলো তোামর সাথে আমাকেই মানিয়েছিল বেশ।কারণ সেটা ছিল তোমার আমার দুর কৈশোরের বৈকালিক প্রেম।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *