অর্থনীতি লিড নিউজ

এলপি গ্যাসের সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারায় বাড়ছে দাম

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা : বটলিং প্ল্যান্টগুলোতে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওবি)। ফলে খুচরা বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। একই সাথে এলপিজি সঙ্কটে পড়েছে বেসরকারি বটলিং প্ল্যান্টগুলো। মূলত এলপিজি সঙ্কট সৃষ্টির পাঁয়তারাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলপিজি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমেছে। ফলে আমদানিকারকরা দেশের পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সিন্ডিকেট করে বটলিং প্ল্যান্টগুলোতে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি প্রায় ৯টি বটলিং প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকে এলপিজি কিনে নিয়ে বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করে। বটলিং কোম্পানিগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ সিলিন্ডার রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা তাদের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে এলপিজি বোতলজাত করে খুচরা বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাতে দেশের এলপি গ্যাসের খুচরা বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

সূত্র জানায়, বিগত প্রায় ২ মাস যাবৎ এলপিজি আমদানিকারকরা বেসরকারি প্ল্যান্টগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ কওে দেয়। ফলে বর্তমানে গুটিকয়েক এলপিজি আমদানিকারক দেশের এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে পাইকারী বিক্রেতদের অভিযোগ। ফলে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৩০০/৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সরকারিভাবে দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট রয়েছে। ওই দুটি প্ল্যান্ট থেকে ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আর ওসব গ্যাস বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রতি সিলিন্ডার ডিলারদের নিকট ৬৭৫ টাকায় বিক্রি করে। দেশে বিপিসির অনুমোদিত প্রায় ৩ হাজার ডিলার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিপিসির এলপি গ্যাস বাজারজাত করা হয়। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করার নির্দেশনা থাকলেও বাজারে চড়া দামে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়িরা বেসরকারি বটলিং প্ল্যান্টগুলোতে এলপিজি সরবরাহ চালু করার দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক এলপিজি সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই দেশের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের ফলশ্রুতিতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনের নামে হঠাৎ এমন একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর মনোপলি ব্যবসা পরিচালনার পাঁয়তারা কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সাথে ওই অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনতিবিলম্বে দূর করে সকল স্তরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার সমান সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ পুনরায় চালু করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *