অর্থনীতি লিড নিউজ

রেলওয়ের কাণ্ড!

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে রেলওযের মালবাহী ট্রেনের কার্যক্রম। মূলত রেলের নিন্মতম ধাপের কয়েকটি পদে প্রয়োজনীয় লোকবল সরাসরি নিয়োগের সুযোগ না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মালবাহী ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারছে না রেলওয়ে। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এরফলে রেলওয়ের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরভিত্তিক ৩টি ইয়ার্ড ও একটি স্টেশনে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৮৭টি। কিন্তু আছে মাত্র ৩৩ জন। তাতে গুরুত্বপূর্ণ ওই ৩ ইয়ার্ড ও একটি স্টেশনের সান্টিং কার্যক্রম, অপারেশনাল ও ট্রেন ফরমেশন বিঘিœত হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে রেলের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নিয়ম থাকলেও লোকবল সংকটে অধিকাংশ সময়ই এক শিফট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ট্রেন পরিচালনা ক্ষেত্রে শান্টিং পোর্টার, জমাদার ও পি-ম্যান- ওই ৩টি পদের কোনো একটিতে কর্মী অনুপস্থিত থাকলে একটি ট্রেন কোনোভাবেই পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ন্যূনতম ৩ বছর ফিডার পোস্ট বা সংশ্লিষ্ট নিম্নশ্রেণির পদে কাজ করার পর ওসব পদে পদায়ন করা হয়। কিন্তু নিম্নশ্রেণির একাধিক পদেও লোকবল সংকট থাকায় শান্টিং পোর্টার, শান্টিং জমাদার ও পি-ম্যান পদে লোকবল বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। যদিও প্রতিবছর ওসব পদের অভিজ্ঞ কর্মীরা অবসরজনিত ছুটিতে যাওয়ায় পদ শূন্য হচ্ছে। ফলে রেলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গেটম্যান থেকে শান্টিং জমাদার, পোর্টারে পদোন্নতি হয়। কিন্তু রেলের পূর্বাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক গেট কিপারের পদও শূন্য রয়েছে। ২৭০ গেটকিপার পদের বিপরীতে আছে মাত্র ৪০ জন। অর্থাৎ ২৭০টি পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ২৩০টি পদ। মামলাজনিত কারণে গেটকিপার ও পোর্টার নিয়োগ বন্ধ থাকায় পোর্টারেরও সংকট রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ইয়ার্ডগুলোতে ধীরে ধীরে শান্টিং পোর্টার ও জমাদার পদ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই সম্প্রতি চট্টগ্রামের ৩টি ইয়ার্ড ও একটি স্টেশনে লোকবল সংকট মোকাবেলায় অস্থায়ীভিত্তিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টিএলআর ভিত্তিতে ১৫ জন গেটকিপার নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করলেও রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করায় তা বন্ধ হয়ে রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, মামলাসহ নিয়োগ বিধির জটিলতায় ওসব পদে লোকবল আসছে না। তাছাড়া পোর্টারের কাজ অধিকতর সহজ হওয়ায় অনেকে শান্টিং জমাদার কিংবা শান্টিং পোর্টারের কাজে অনাগ্রহী। এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে নতুন নিয়োগ কিংবা ফিডার পদ থেকে পদায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী ভিত্তিতে টিএলআর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলেও অজানা কারণে তা থেমে আছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনে রেলের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ জানান, শান্টিং পোর্টার, জমাদার, পি-ম্যান (পয়েন্টস ম্যান) পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নেই। ওসব পদের কাজ চ্যালেঞ্জিং বিধায় ফিডার পোস্ট থেকে পদায়নও করা যায় না। নিয়োগবিধি সংশোধনের চেষ্টা চলছে। সেজন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে সমপদের যে কোনো বিভাগ থেকে পদায়ন করা সহজ হবে। তখন সংকট কেটে যাবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *