অর্থনীতি লিড নিউজ

বেসরকারি খাতে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: বিদ্যুৎ বিভাগ বেসরকারি কোম্পানির হাতে জাতীয় বিদ্যুৎ লাইন ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর সঞ্চালন ব্যবস্থার সাথেও বেসরকারি খাত যুক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভাগ বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা ছেড়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় আরো বাড়বে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের কারণে বিদ্যুতের ব্যয় বেড়েছে। আর সাধারণ গ্রাহকের ওপর পড়বে তার চাপ। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও লোকবল ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে কাক্সিক্ষত সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দেয়া হলে বিভিন্ন কোম্পানি খুব দ্রুত আগ্রহী হবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন। আর ওই সম্ভাবনা থেকেই প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে মদুনাঘাট এবং চট্টগ্রামের রাউজান থেকে মিরসরাই পর্যন্ত বেসরকারি খাতে দুটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ওই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পিজিসিবিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পিজিসিবি দুটি লাইনের একটি বিডার ফিন্যান্সিং পদ্ধতি ও অন্যটি আইপিপি প্রক্রিয়ায় করার প্রস্তাব তৈরি করেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে আমদানি, ক্যাপটিভ ও অন্যান্য খাতসহ বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে ওই সক্ষমতা ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়াবে। গত কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও সঞ্চালন ব্যবস্থার দিকে তেমন নজর দেয়া হয়নি। এখন সঞ্চালন ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তবে সঞ্চালন খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হলে সরকারকে ফিক্সড রেট অব ইনভেস্টমেন্ট কঠোরভাবে দেখতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে জাতীয় গ্রিডভুক্ত সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিগত ২০০৯ সালে মোট সঞ্চালন লাইন ছিল মাত্র ৮ হাজার সার্কিট কিলোমিটার। বর্তমানে সেটি ১১ হাজার ৩৩ সার্কিট কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে ৪০০ কিলোভোল্টেজের লাইন রয়েছে ৬৯৭ সার্কিট কিলোমিটার, ২৩০ কিলোভোল্টেজ ক্ষমতার লাইন রয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ সার্কিট কিলোমিটার এবং ১৩২ কিলোভোল্টেজ লাইন ৬ হাজার ৯৯৪ সার্কিট কিলোমিটার। তাছাড়া সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬ এমভিএতে।

এদিকে বেসরকারি খাতে বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ছেড়ে দেয়ার নজির পার্শ্ববর্তী দেশেও নেই। ভারতে ওয়ান ন্যাশন, ওয়ান গ্রিড নামে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাতীয় সঞ্চালন কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হয়। রাষ্ট্রীয় সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (পিজিসিআই) পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যে রয়েছে আলাদা সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান। সেগুলোও পিজিসিআই নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পিজিসিআইয়ের আওতায় সারা ভারতে সঞ্চালন লাইন রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার সার্কিট কিলোমিটার। আর দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা পিজিসিবির মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থাকার পরও মাত্র ২০ হাজার মেগাওয়াটের জন্য বেসরকারি খাতে সঞ্চালন লাইন ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে বিদ্যুতের ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সঞ্চালন লাইনের ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ নিলে ব্যয়ের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। কারণ সেখানেও ক্যাপাসিটি চার্জ রাখা হবে, যা পুরোপুরি জনস্বার্থবিরোধী।
এ প্রসঙ্গে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুম আল বেরুনী জানান, প্রাথমিকভাবে পিজিসিবি দুটি লাইন করার বিষয়ে ভাবছে। তবে আইপিপির কোন মডেলটি অনুসরণ করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য সরকারের বিদ্যুৎ বিষয়ে নীতিগবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলকে বলা হয়েছে। তারা একটি মডেল চূড়ান্ত করলে ওই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *