অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

পেঁপেতেই লাখপতি আসাদুর!

বিএনএন ৭১ ডটকম
হৃদয় দেবনাথ: ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে একটি জনপ্রিয় ফল। যদিও একসময় শুধু মাত্র পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাড়ির আঙিনায় চাষ করতে দেখা যেত এ ফলটি।কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে পেঁপে চাষ। জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাসন গ্রামের কৃষক আসাদুর রহমানের সফলতা দেখে এ গ্রামের অনেকেই এখন ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে।

সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য পেঁপে। গত ৭ মাস ধরে গাছ থেকে পেঁপে তুলে বিক্রি করছেন তিনি!যদিও আরো সমপরিমাণ বিক্রিযোগ্য পেঁপে গাছেই রয়েছে! মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাসন গ্রামের আসাদুর রহমান গড়ে তুলেছেন এই পেঁপে বাগান। তাঁর বাগানে বার্মিজ এবং ইন্ডিয়ান পেঁপে চাষ করা হয়। ৯ বিঘা জমিতে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। সাত মাসে বিক্রি করেছেন ৫ লাখ টাকার।অবশিষ্ট যেপরিমান পেঁপে এখন গাছে রয়েছে তাও ৫ লাখ টাকা বিক্রি করত পারবেন বলে জানিয়েছেন কৃষক আসাদুর!

কৃষক আসাদুর জানান, এবার নতুন করে আরো ৫ বিঘা অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পেঁপে চাষ করে এলাকায় আসাদুর হয়ে উঠেছেন এক সফল মডেল।তার এ সফলতা দেখে গ্রামের অন্যরাও পেঁপে বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আসাদুর জানান, মাকড়সা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। তবে তিনি অনেকটা আক্ষেপের সাথেই সারাবাংলাকে বলেন,পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা কিংবা সহজ শর্তে ঋণ পেলে ব্যাপক পরিসরে পেঁপের চাষ করতেন!

তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শুধু আধুনিক এ প্রযুক্তিতে পেঁপে চাষ করেই দেশের অনেক বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি পেঁপে চাষে এগিয়ে আসেন তবে নিঃসন্দেহে তারাও লাভবান হবে।পাশাপাশি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে!

স্থানীয় কৃষক বাবুল দাস জানান, কৃষক আসাদুরের প্রথম থেকেই লেবু এবং গরু ছাগলের খামার রয়েছে এবং লেবু আর গরু ছাগলের খামারেও সে সফল! ২০১৬ সাল থেকে হঠাৎ করেই মাঠে পেঁপে চাষ শুরু করেন!এবং অল্প সময়ে পেঁপে চাষেও সে সফল হয়েছে। তার চাষ দেখে আমাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার এ সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছে।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসাদুরের বাড়িতে পেঁপে কিনতে আসেন আর এই পেঁপে এখান থেকে কিনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, পেঁঁপেতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে আসাদুরকে দেখে অনেকেই পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন!আমরা উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনমতো সব ধরণের সহযোগিতা করে আসছি!

তিনি আরো বলেন বেকার যুবকরা যদি পেঁপে চাষে এগিয়ে আসে তবে আমরা তাদের সবধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি!

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *