অর্থনীতি লিড নিউজ

বাস সংকটে সেবাদানে পিছিয়ে রয়েছে বিআরটিসি

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: বাস সঙ্কটে ভুগছে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সংস্থাটির প্রায় ৬শ বাস অকেজো হয়ে পড়েছে। আর যেগুলো চলছে, তার ৩৪ শতাংশই আবার ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সচিবালয়ের স্টাফ বাস হিসেবে। অথচ রাজধানীতে জনসংখ্যার তুলনায় গণপরিবহন কম হওয়ায় ক্রমাগত বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকায় রয়েছে। বর্তমানে বিআরটিসির বহরে থাকা সিংহভাগ বাসই বেশ পুরনো। আর পুরনো হলে অকেজো হয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে আশার কথা হচ্ছে- শিগগিরই বিআরটিসির বহরে নতুন বাস যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিআরটিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিআরটিসির বহরে বাসের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩০। তার মধ্যে দৈনন্দিন চলাচল করছে মাত্র ৮২৬টি। বাকিগুলো অকেজো অবস্থায় বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে রয়েছে। সচল বাসের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৩৪টি ও সচিবালয়ের স্টাফ বাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪৪টি। অর্থাৎ বহরের ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাস ব্যবহৃত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা পরিবহনে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ২৫টি রুটে চলাচল করছে ২৫০টি সিটি বাস। আর আন্তঃজেলা, মহিলাদের জন্য বিশেষায়িত ও আন্তর্জাতিক রুটে চলছে প্রায় ৩শটি বাস। তাছাড়া ৮শটির বেশি সচল বাসের মধ্যে সরাসরি সাধারণ যাত্রী পরিবহন করছে সাড়ে ৫০০টি।

সূত্র জানায়, বিআরটিসির সচল বাসগুলোর সিংহভাগই ভাঙাচোরা। বিশেষ করে করুণ দশায় রয়েছে রাজধানীতে চলাচল করা ডাবল ডেকার বাসগুলো। খোদ বিআরটিসি সংশ্লিষ্টদের মতেই বর্তমানে সংস্থাটিতে যানবাহন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গত অক্টোবরের শেষ দিকে পরিবহন ধর্মঘটের সময় বিআরটিসির যানবাহনস্বল্পতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তার আগেও পরিবহন ধর্মঘটের সময় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেজন্য সংশ্লিষ্টরা জনস্বার্থের বদলে লিজ সার্ভিসকে প্রাধান্য দেয়াকে দায়ি করছেন। অথচ বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সেবার দিকটা সেখানে মুখ্য বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু লিজের মাধ্যমে সার্ভিস পরিচালনা করায় অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি সময়ে বিআরটিসির সেবা পাওয়া যায় না।

সূত্র আরো জানায়, পরিবহন ব্যবসা সবসময়ই লাভজনক। অথচ লোকসানের খাতা থেকে বেরই হতে পারছে না সরকারি পরিবহন কোম্পানি বিআরটিসি। যেখানে দেশের সব বেসরকারি বাস কোম্পানি লাভে চলে, সেখানে বিআরটিসি হাঁটছে উল্টো পথে। মূলত পদে পদে দুর্নীতি-অনিয়মের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অথচ বিআরটিসি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয়, সেবার মান ও বহরের পরিসর বৃদ্ধির জন্য সরকারের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হতো না। বরং নিজেরাই যানবাহন সংকট কাটিয়ে উন্নত যাত্রীসেবা দিতে সমর্থ হতো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া জানান, বিআরটিসির বাস সংকট কাটাতে ভারত থেকে ৬০০টি নতুন বাস আনা হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ৩০টি নন-এসি, ৫টি এসি বাসসহ ১০০টি ট্রাক বুঝে পাওয়া যাবে। আর আগামী মার্চের মধ্যেই সবগুলো নতুন বাস বহরে যুক্ত হবে। বর্তমানে বেশকিছু বাস অচল রয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু মেরামতের পর ব্যবহার করা সম্ভব। সবমিলে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিআরটিসি পরিবহন সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠবে। পাশাপাশি বিআরটিসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন রুট চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিআরটিসির জমি ও অবকাঠামো রয়েছে। সেগুলো লাভজনক কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনাও চলছে। আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিআরটিসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *