অর্থনীতি লিড নিউজ

গুদাম স্বল্পতায় নষ্ট হচ্ছে ১ হাজার কোটি টাকার সার‍‍!

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশের প্রায় সব বাফার গুদামেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুদ ইউরিয়া সার খোলা আকাশের নিচে রাখতে হয়। ফলে ঘন কুয়াশা বা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয় সারের গুণগত মান। এভাবে বছরে ১ হাজার কোটি টাকার সার নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে দেশে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সারের বার্ষিক মোট চাহিদা ২৫ লাখ টন। আর ওই চাহিদা মেটাতে প্রায় ৮ লাখ টন ইউরিয়া সার সবসময় মজুদ রাখতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বাফার গুদামগুলোর ধারণ সক্ষমতা মাত্র ৩ লাখ টন। ফলে ধারণক্ষমতা ও সার্বক্ষণিক মজুদের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে প্রায় ৬৩ শতাংশ সারই খোলা আকাশের নিচে রাখতে হয়। আর চাহিদার চূড়ান্ত সময়ে গুদামের বাইরে রাখতে হয় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ জানা যায়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে আপতকালীন মজুদ ছাড়াও সার্বক্ষণিক চাহিদা মেটানোর জন্য ৩৩ লাখ টন ইউরিয়া সার সরবরাহ ও মজুদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তার মধ্যে বিএডিসির ২৪টি গুদামে আপতকালীন সার সংরক্ষণ করা যায় মাত্র ৩ লাখ ৭ হাজার টন। অথচ বিসিআইসির নিজস্ব ৬টি ইউরিয়া সার কারখানা থেকে উৎপাদিত হয় প্রায় ১০ লাখ টন সার। বাকি সার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু বিসিআইসির নিজস্ব কোনো গুদাম না থাকায় এবং বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় সিংহভাগ সারই খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে সার মজুদে গুদাম সংকট থেকে উত্তরণে সরকার আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৪৭টি বাফার গুদাম নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। যার মাধ্যমে ৯ লাখ ৩০ হাজার টন বাড়তি সার সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্পের আওতায় ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে ইউরিয়া সার সংরক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওসব বাফার গোডাউন নির্মাণ করা হবে। অন্য একটি প্রকল্পে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাফার গুদাম নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে।

এদিকে বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল জলিল খান জানান, সার কারখানা ও গুদামে পর্যাপ্ত স্থানের অভাবে খোলা জায়গায় সার রাখতে হয়। তাতে সার জমাট বেঁধে যায়, সার অপচয় হয় ও আর্দ্রতার কারণে সারের গুণগত মান নষ্ট হয়। তাছাড়া পরিবহন ও স্থানান্তরের কারণে সারের পরিমাণও এদিক-সেদিক হয়। তাতে কৃষকের কাছে গুণগত মানসম্পন্ন সার পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নতুন বাফার গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে ওই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।

অন্যদিকে একই বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল হালিম জানান, ইউরিয়া সার মজুদের জন্য প্রয়োজনীয় গুদাম বিসিআইসির নেই। এমন অবস্থায় সর্বোচ্চ চাহিদার মৌসুমে ইউরিয়া সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদে সার সংরক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো আপত্কালীন গোডাউন প্রয়োজন। নতুন দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৭টি বাফার গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে আপত্কালীন প্রায় ৯ লাখ টন সারের মজুদ নিশ্চিত করা যাবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, সারের বাফার গুদাম না থাকায় প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ইউরিয়া সার নষ্ট হচ্ছে। গুণগত মান বিবেচনায় নিলে নষ্টের পরিমাণ আরো বেশি হবে। তাই সারা দেশে সারের মজুদ ও সংরক্ষণের জন্য ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭টি বাফার গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ওসব গুদাম চালু হলে ২০২১ সালের পর আর কোনো মজুদ সংকট থাকবে না।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *