লিড নিউজ সারা বাংলা

আসন্ন শীতে রাজধানী ঢাকায় তীব্র গ্যাস সঙ্কটের আশঙ্কা

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: রাজধানীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও সঙ্কট কাটছে না। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু তা থেকে তিতাস গ্যাস সিস্টেমে কোনো গ্যাস আসছে না। তাছাড়া সাধারণত শীতে গ্যাসের সংকট বাড়ে। এবার শীত আসার আগেই অনেক এলাকায় গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আসন্ন শীতে ওই সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর তিতাস গ্যাস কোম্পানির অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সঙ্কট বিষয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ আসআসন্ন শীতে রাজধানী ঢাকায় তীব্র গ্যাস সঙ্কটের আশঙ্কাছে। আর গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে। গত জুন মাসে জাতীয় গ্রিডে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হয়। পর্যায়ক্রমে যোগ হয় আরো ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু তিতাসে নতুন গ্যাস যোগ হওয়া দূরে থাক, বরং তিতাসে আগের বরাদ্দ গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং সার কারখানাগুলোকে গ্যাস বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা থেকে তিতাস পায় প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সেখান থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিতে হচ্ছে পিডিবিকে। ওই গ্যাস ঘোড়াশাল, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া সার কারখানার জন্য তিতাস থেকে নেয়া হচ্ছে প্রায় আরো ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সূত্র জানায়, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে বর্তমানে প্রতিদিন মোট ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। আর তিতাসেরই এখন গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। আবাসিক এবং শিল্প খাতে প্রচুর চাহিদাপত্র জমা রয়েছে। তাদের গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির মধ্যে কর্ণফুলী গ্যাস সিস্টেমে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে। তাছাড়া বাখরাবাদ ও জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেমে যাচ্ছে। ফলে তিতাস গ্যাস সিস্টেমে নতুন করে কিছুই যোগ হয়নি। এ বছর ডিসেম্বর নাগাদ প্রতিদিন আরো ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হবে। তখনো তিতাসকে বাড়তি গ্যাস দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে এখনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের দিকে আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির কথা রয়েছে। তারপর আরো এক হাজার মিলিয়ন এলএনজি আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই এলএনজি এলে তা তিতাসে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস সঙ্কটের কারণে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, রাধিকামোহন বসাক লেন, রাজার দেউড়ি, পানিটোলা, এস কে দাস রোড, গেন্ডারিয়া, বাগিচাসহ আশপাশের অনেক এলাকায় গ্যাস সংকট রয়েছে। তাছাড়া গ্যাস সমস্যা চলছে মোহাম্মদপুরের আদাবর, শেখেরটেক, জাকির হোসেন রোড এলাকাতেও।
এদিকে গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান জানান, চাহিদা বাড়ার কারণে গ্যাস সঙ্কটও বেড়েছে। আগামী শীত মৌসুমে রাজধানীর গ্যাস সঙ্কট মেটাতে হলে এলএনজির ওপর নির্ভর করা ছাড়াা কোনো উপায় নেই।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *