বিশেষ প্রতিবেদন হেলথ

শৈশবের হাঁপানি থেকে স্থূলতার শঙ্কা!

বিএনএন ৭১ ডটকম
লাইফস্টাইল: শৈশবে হাঁপানির সমস্যা থাকলে কৈশোর বা পরিণত বয়সে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি। এমনটাই দাবি করছেন ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, শৈশবে হাঁপানিতে আক্রান্ত শিশুদের পরবর্তী বয়সে ওজন অস্বাস্থ্যকরভাবে বৃদ্ধি পাওয়া আশঙ্কা যারা হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়নি তাদের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।
গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে, যেসব শিশু প্রতিনিয়ত হাঁচি-কাশিতে ভোগে তাদের অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি আশঙ্কা সুস্থ শিশুদের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
এই বাড়তি ঝুঁকির সম্ভাব্য কারণ হল শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হাঁপানি। কারণে শরীরে বাড়তি চর্বি জমা হতে থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনহেলার।

এতে থাকা ‘কর্টিকোস্টেরয়েডস’ হাঁপানিতে আক্রান্ত শিশুদের ওজন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মতামত দেন গবেষকরা।
ভারতের ইউএসসি’র ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’ বিভাগের অধ্যাপক লিডা চ্যাটজি বলেন, “হাঁপানি এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন শিশুর সুস্বাস্থ্যের পথে মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বাস্থ্যের উপর এই দুই বিষয় অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যার প্রতি আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা। আর তা যদি অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়, তবে আমরা মা-বাবাকে পরামর্শ দেব কীভাবে এই রোগের হাত থেকে শিশুকে বাঁচাতে হবে সেই বিষয়ে, যাতে তারা পরিণত বয়সে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারে।”

‘ইউরোপিয়ান রেসপিরাটরি জার্নাল’য়ে প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণার জন্য নয়টি দেশের ২১ হাজার ১শ’ ৩০ জন পরিণত বয়সের মানুষকে নিয়ে কাজ করেন গবেষকরা। দেশেগুলোর মধ্যে আছে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, দ্য নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য।
গবেষকরা দেখতে পান, যাদের সক্রিয় হাঁপানি ছিল তাদের পরিণত বয়সে স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা যাদের শৈশবে হাঁপানি কিংবা হাঁচি-কাশির সমস্যা ছিল না তাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। আর যারা এই রোগের জন্য ওষুধ গ্রহণ করেছেন তারাই রোগাক্রান্ত হয়েছেন বেশি।

অর্থাৎ যেসব শিশুরা হাঁপানির ওষুধ গ্রহণ করেছে, তাদেরই অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বেশি।
ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক ফ্র্যাংক গিলিল্যান্ড বলেন, “হাঁপানি অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তাই আমাদের অতি দ্রুত জানতে হবে যে হাঁপানি প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক চিকিৎসা ভবিষ্যতে স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা কমাতে পারবে কি না।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *