লিড নিউজ সারা বাংলা

নিয়ম না মানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিপাকে ইউজিসি

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: নানা অনিয়মে অভিযুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কোনো প্রক্রিয়াতেই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। বরং নিয়ম না মানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেই তারা আদালতে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে একের পর এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হচ্ছে। তাছাড়া আর ইউজিসির কোনো বিকল্পও নেই। ইউজিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই কোনো না কোনো নিয়ম না মানার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৯২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টিতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো উপাচার্য নেই। উপ-উপাচার্য নেই ৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর কোষাধ্যক্ষ নেই ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রির সার্টিফিকেটের মূল স্বাক্ষরকারীই হবেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য। তবে ইউজিসি সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। তার মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করছে ইউজিসি।

সূত্র জানায়, নানা অভিযোগের কারণে সরকার ২০০৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা বন্ধ ঘোষণা করে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রিট পিটিশন দাখিল করলে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় প্রদান করেন। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর অনুমতি দেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর আলোকে ক্যাম্পাসের বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্ত পূরণের অগ্রগতি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করে। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ইউজিসিও আপিল করেছে। তাছাড়া ইবাইস ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ দুভাগে বিভক্ত এবং রয়েছে একাধিক মামলা। দ্বন্দ্ব নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইউজিসির গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়েও আদালতে মামলা রয়েছে।

সূত্র জানায়, পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ঠিকানা সৃষ্টিগড়, শিবপুর, নরসিংদী। আর অস্থায়ী ক্যাম্পাস ৩/২ ব্লক-এ, আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি অননুমোদিতভাবে উত্তরায় ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। একইভাবে অননুমোদিত ক্যাম্পাস রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদিত স্থায়ী ক্যাম্পাস বনানীর বি ব্লকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি বনানীর সি ব্লকে অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। তাছাড়া সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে গণবিশ্ববিদ্যালয়েরও কয়েকটি বিভাগ আদালতের নির্দেশনার আলোকে চলছে। তাছাড়া আদালতের রায় নিয়ে চলছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।

এদিকে সরকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি বন্ধ করে দিয়েছে। বিগত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১ বছরের জন্য সাময়িকভাবে শর্তসাপেক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু উক্ত নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলের অনিয়ম প্রসঙ্গে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে আইন না মানা বিশ্ববিদ্যালয় এক সময় বন্ধ হতে বাধ্য হবে। সেগুলো এক সময় সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *