রাজনীতি লিড নিউজ

সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উঠছে রোববার

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগাীম রোববার তিনি সড়ক পরিবহন আইন আইন সংসদে উপস্থাপন করবেন। গতকাল বুধবার নগর ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সভায় তিনি বলেন। তিনি বলেন, রোববার সংসদে উত্থাপনের পর এটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে। তারা যাচাই-বাছাই করবেন। পরে পার্লামেন্টের সর্বশেষ অধিবেশনে (অক্টোবরে) এটি পাস হবে ইনশাল্লাহ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে অগাস্টের শুরুতে তড়িঘড়ি এ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে সরকার।

আন্দোলনকারীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদ-ের দাবি জানালেও প্রস্তাবিত আইনে প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- ও অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এক মতবিনিময় সভায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-কিশোরীদের আন্দোলনকে ‘স্যালুট’ জানিয়ে কাদের বলেছিলেন, তারা আন্দোলন করেছে বলেই আইনটা যেভাবেই হোক আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সংশোধনের সুযোগ আছে; সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের মানুষের জন্য আইন যদি যুক্তিযুক্ত না হয় তাহলে আইন এর সুফল দেবে না। ভিআইপি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেন একথা জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এটা স্ট্রিকলি দেখতে হবে। কোন ভিআইপি আইন মানেন না। কোন ভিআইপি বাধা দেয় সেটাও দেখবেন। আমার গাড়িও ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে ধরবেন, জরিমানা করবেন। ‘ল’ মেকার শুড নট বি ‘ল’ ব্রেকার।

ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যত কার্যক্রমই নেই না কেন, উপকারভোগীরা যদি উপকার না পায় তাহলে আমরা যে কার্যক্রম চালাচ্ছি তার দরকারটা কি? দুর্ঘটনা তো কমছে না, যানজট কমছে না। এজন্য আরও জোরালোভাবে কার্যক্রম চালাতে হবে। হাইওয়েতে থ্রি হুইলার চলবে না, তারপরেও চলছে। মহাসড়কে ৮০ এর উপরে গতি থাকবে না, এটা নির্দেশনাই আছে, তারপরেও স্পিডে ট্রাক চলে কিভাবে? তাহলে সেই নির্দেশনার কার্যকরিতা কি? গতকাল বুধবার ডিটিসিএ সভায় মন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আগামি ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকবে। সামনে নির্বাচন, সব দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় যাবেন, সাংবাদিকরা যাবেন। ঢাকায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার গেটওয়ে গাজীপুর। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ওই রাস্তা দুর্ভোগ এড়াতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গাজীপুরে বিআরটির নামে রাস্তা বন্ধ করে খোঁড়াখুঁড়ি মোটেও এপ্রিশিয়েট করি না। যেহেতু এই কাজ শেষ করতে দেরি হবে, চার মাস পরে হলে কী হবে? রাস্তা খোঁড়াখুড়ি বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের অন্য কাজ চলবে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার বিআরটি চালু হলে উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে চড়া শিশুদেরও হেলমেট পরা নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরার পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এটা ইতিবাচক। তবে এটা শিশুদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে হবে। দুর্ঘটনায় পড়লে শিশুরাও যেন মারাত্মক ক্ষতির শিকার না হয়। নাগরিকদের সচেতন করতে সেপ্টেম্বরজুড়ে ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কোনো মটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকলে তার গাড়িতে জ¦ালানি সরবরাহ না করতেও অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মন্ত্রী জানান, রাজউক থেকে ঢাকার পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বাস ডিপো করতে ডিটিসিএ-এর নামে সাত একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের গঠন করতে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে ডিটিসিএ সভা শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মামা বাড়ির পুরনো আবদার। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে কার কাছে দায়িত্ব দেবেন? দেশে কি কোনো সংবিধান থাকবে না, আইন-কানুন থাকবে না? এটা যেন তাদের মামা বাড়ির পুরনো আবদার। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না, যাচ্ছিও না। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, চলমান অধিবেশন শেষে অক্টোবরে আরেকটি অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশন সম্ভবত মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে। তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। অক্টোবরের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। এরপর মন্ত্রীরা কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবেন। আর সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙবেও না, সংসদের কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না, নির্বাচনকালে সংসদ বসবেও না। দেশে যদি যুদ্ধপরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেটা ভিন্ন কথা। তবে আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আলাপ-আলোচনা করেই সব কিছুর সমাধান চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াইনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতিয়েরেসের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, জাতিসংঘ যদি তাকে আমন্ত্রণ করে, তারা যদি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী এজেন্ডা আছে আমি তা জানি না। নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সেসব নালিশের ব্যাপারে তাদের মতামত কী, সামনাসামনি তাদের পলিটিক্যাল উইং আলাপ করতে পারে বলে অনুমান করছি। সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি করার বিষয় নয়। আমাদের শক্তির উৎস এদেশের জনগণ। নির্বাচনে জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। আমাদের সিদ্ধান্ত, কোনো সংবিধানবর্হিভূত ‘প্রেসারের’ বা চাপের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আর নির্বাচনকালীন সরকারের বিএনপিকে তো আমন্ত্রণ করিনি, তারা তো সংসদে নেই।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি প্রসঙ্গে দলটির নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এদেশের জনগণ যদি উতলা হতো, তাহলে গ্রেফতারে পরেই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। একটা ছোট আন্দোলনও দেখলাম না। তারা সর্বাত্মক আন্দোলন করবে এটা লোকে বিশ্বাস করে না। তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যেই ঐক্য নেই। একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করে না। একজন আরেকজনকে বলে সরকারের দালাল। তারা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ নয়, সর্বাত্মক আন্দোলন করবে কিভাবে? তাদের সর্বাত্মক আন্দোলন নিরীহ অনশনে পরিণত হয়েছে। এত নিরীহ কর্মসূচির পর সর্বাত্মক আন্দোলনের সাহস নেই। সাহস থাকলে আগেই হতো, এখন আর সময় নেই। এখন তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। জায়গা পাবে না। জনগণ এখন নির্বাচনী মুডে আছে। বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন করেন, জনগণকে নিয়ে করেন। আন্দোলন অহিংস করলে শান্তি। আর যদি সহিংস হয় তাহলে জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিহত করবো। ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রকিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সাভার, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র, পুলিশ, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা এ সভায় অংশ নেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *