সারা বাংলা

স্বাস্থ্য বিভাগ কিভাবে দায় এরিয়ে যাবে?

সোনারগাঁয়ে একই পরিবারের ৫ জন বিরল রোগে আক্রান্ত

ফজলে রাব্বী সোহেল
সামাজিক জীব মানুষ একসঙ্গে সমাজ বদ্ধ ভাবে বসবাসের কারনে তাদের সুখ-দুঃখ্য, হাসি-কান্না কিছুই আর গোপন থাকেনা। গাণিতিক নিয়মে তা এক থেকে দুই, দুই থেকে চার এভাবে বহুজনে প্রচার হয়ে যায়। দিন পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রচারেও বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন এসেছে। গ্লোবালাইজেশনের এ যুগে ইন্টারনেটের ব্যবহার মানুষের হাতে হাতে। মোবাইল ইন্টারনেটের কারনে অজোপাড়াগাঁয়ের কোন ঘটনা বা ছবি মুহুর্তের মধ্যেই বিশ্বময় ছরিয়ে যাচ্ছে।

সারা দুনিয়ার খবরা-খবর যখন মানুষের দোরগোড়ায় এসে কড়া নাড়ছে। এসময় সোনারগাঁয়ের স্বাস্থ্য কর্তা ডাঃ তানভির আহাম্মেদ চৌধুরী খবর পাননি যে, তারই উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জন সদস্য দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরল প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে। তিনি জানবেনইবা কি করে, তার এ্যয়ারকন্ডিশন করা অফিস রুমের দরোজা-জানালা যে থাইগ্লাসে সাটানো। আর নিন্দুকেরা বলেন, তার চারপাশ ঘিরে থাকেন সুবিধা ভোগী কিছু মৌমাছি। তা না হলে স্বাস্থ্য কর্তা ডাঃ তানভিরেরই অধীনে রয়েছে ১১ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৫৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী। সোনারগাঁ উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটিতে ১ জন সহকারী স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ১১ জন ফ্যাসেলি প্লেনিং অফিসার ও ফ্যামেলি ওয়েলফেয়ার এ্যাসিসটেন্ড মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

স্বাস্থ্য সহকারীর মতো ফ্যামেলি ওয়েলফেয়ার এ্যাসিসটেন্ডরাও ইউনিয়নবেদে ৬/৭ জন করে কর্মরত রয়েছেন। উপজেলা সমাজ কল্যান অফিসেরও মাঠ কর্মিরা ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করছে। তাহলে কি কোন বিভাগের কর্মীর চোখেই এই পরিবারের দূর্দশার চিত্র চোখে পরেনি। তাদের সবার চোখই কি ছানা ভরা ছিল ? মাঠ পর্যায়ে এ কর্মীরা শুধু সরকারের বেতন ও সুবিধা ভোগ করার জন্যই কি শুধু চাকুরী করেন। তাদের বেতন-ভাতায় কি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ঐ পরিবারের করের টাকা নেই? অবশ্যই আছে। ঐ পরিবারের সদস্যদের হয়তো সরকারের দেয়া অজ¯্র সুযোগ-সুবিধার কথা জানা নেই। এদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষের জন্য চিকিৎসা, বিভিন্ন ভাতা সহ বহু সুযোগ তৈরী করেছেন এবং অব্যাহত রেখেছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানাযায়, সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পাঁচানি গ্রামের আঃ রশিদ মিয়া (৬৫) তার তিন ছেলে জজ মিয়া (৪৫), জহিরুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (১৫) ও নাতি নজরুল ইসলাম (১৪) একই রকম পা ফোলা রোগে আক্রান্ত। বহু চিকিৎসা করানোর পরও তাদের এই রোগ নিরাময় হচ্ছেনা। ডাক্তাররাও সঠিক ভাবে এই রোগ নির্ণয় করতে পারছেনা। রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এই পরিবারের যতটুকু জায়গা-জমি ও সহায়-সম্বল ছিল তার সবই বিক্রি করতে হয়েছে। উপার্জনকারী ব্যাক্তিরা সবাই একই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বর্তমানে ক্ষুধার যন্ত্রনা ও অভাব অনটনে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রোগাক্রান্ত আঃ রশিদের স্ত্রী সাহিদা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের বিয়ের পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পরেন। ধীরে ধীরে পরিবারের সব পুরুষ সদস্যই একই রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘ এতো বছর যাবৎ একটি পরিবার রোগাক্রান্ত অথচ স্বাস্থ্য বিভাগের কোন খবর নেই ! এই দায় সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তানভির আাম্মেদ চৌধুরী কি ভাবে এরিয়ে যাবেন ? আর নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ এহসানুল হকই বা কি ভাবছেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *