রাজনীতি লিড নিউজ

চলতি মাসেই তৃণমূলে সরবরাহ হবে হালনাগাদ ভোটার তালিকার সিডি

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩শটি নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকার সিডি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহে সরবরাহ করা হবে। আর আগামী ১০ অক্টোবর ভোটার তালিকার সিডি অনুযায়ী ছবিসহ এবং ছবি ছাড়া ভোটার তালিকা মুদ্রণ শুরু করবে কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম অনানুষ্ঠানিক বন্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার আগে নির্বাচন কমিশন এক আদেশে মাঠ প্রশাসনকে আবাসস্থল পরিবর্তন অথবা অন্যবিধ কারণে ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনসমূহ গত ৩১ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিগত ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই হিসেবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় নির্বাচনের কাউন-ডাউন শুরু হবে। তারপর যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সংসদ নির্বাচনে সাধারণত ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করার কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ। আর সিডি প্রস্তুতির কাজ শুরু হলে ভোটার স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়। কারণ একবার সিডি প্রস্তুত করার পর কেউ ভোটার হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে পুনরায় দুটি নির্বাচনী এলাকার সিডি প্রস্তুত করতে হয়। সেটি করা বেশ সময়ের ব্যাপার। ভোটার তালিকা করার সুবিধার্থে তফসিল ঘোষণার কমপক্ষে দুই মাস আগে ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার স্থানান্তর করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ভোটার স্থানাস্দরের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রাখা আইনের পরিপন্থী। কারণ ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১০ ধারায় বলা আছে, ‘বিভিন্ন নির্বাচিত সংস্থার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার তারিখ হইতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়কাল ব্যতিরেকে, অন্য যে কোনো সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজন অনুসারে নিম্নোক্তভাবে সংযোজন ও বিয়োজনপূর্বক ভোটার তালিকা সংশোধন করা যাইবে।’ ওই ধারা অনুযায়ী ৪টি কারণে জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তার মধ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, মৃত ভোটার কর্তন, ভোটার স্থানান্তর এবং ভোটার তালিকা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা। আর নতুন ভোটার করার ব্যাপারে ১০ ধারার উপধারা (ক) তে বলা আছে, ‘তালিকায় এমন কোনো ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা, যার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই বা যিনি ইহা প্রণয়নের পর বা ইহার সর্বশেষ পুনঃপরীক্ষার পর অনুরূপ উক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হইবার যোগ্য হইয়াছেন।’ তাছাড়া ভোটার স্থানান্তরের বিষয়ে উপধারা (গ) তে বলা আছে, ‘যিনি বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে নতুন ভোটার এলাকা বা ক্ষেত্রমতে, নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী হইয়াছেন, পূর্বের ভোটার এলাকা বা ক্ষেত্রমতে নির্বাচনী এলাকা তালিকা হইতে তাহার নাম কর্তৃনপূর্বক নতুন এলাকায় বা ক্ষেত্রমতে ভোটার এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।’ নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রেখেছে।

সূত্র আরো জানায়, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে ইচ্ছা করলে ভোটার হওয়ার যোগ্য যে কেউ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার তালিকার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তফসিলের আগ পর্যন্ত নতুন যারা ভোটার হবেন পরবর্তীতে ভোটার তালিকায় সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে তাদের যুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, যৌক্তিক কারণ ছাড়া আপাতত ভোটার স্থানান্তর করা হবে না। কেননা জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে যে কেউ চাইলে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হতে পারবেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *