অর্থনীতি লিড নিউজ

এলএনজি সরবরাহে স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী সরকার

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে সরকার বিদ্যমান গ্যাস সঙ্কট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। আর ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) পরিবর্তে স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। মূলত কক্সবাজারের মহেশখালীতে নোঙ্গরকৃত দেশের একমাত্র ভাসমান টার্মিনাল পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা এবং ভবিষ্যতে সময়ক্ষেপণ এড়াতেই ওই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে আংশিক চালু পেট্রোবাংলার টার্মিনাল এবং সামিট গ্রুপের নির্মাণাধীন টার্মিনাল ছাড়া নতুন করে অন্য কোনো ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের অনুমতি না দিতেও তিনি নির্দেশনা দেন। বিগত ২০১০ সালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। পেট্রোবাংলা ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। টার্মিনালটি নির্মাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাই ওই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা তৈরি করেছে। তারপর গত ২৪ এপ্রিল কাতার থেকে এলএনজিবাহী জাহাজ আসার পরও তা গ্রিডে যুক্ত করতে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট ক্ষমতার টার্মিনালটি থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে প্রতিদিন ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ২ বছওে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৮ বছরেও পুরোদমে এলএনজি সরবরাহ করা যায়নি। তাই সরকারি উদ্যোগে আর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের আর অনুমোদন দেয়া হবে না।

সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলা-এক্সিলারেট এনার্জির এবং সামিটের দুটি প্রকল্প ছাড়াও আরো দুটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে আলোচনা চলমান রয়েছে। ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ারের সঙ্গে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় টার্মিনাল নির্মাণে দরকষাকষি চলছে। আর চীনের হংকং সাংহাই মাঞ্জালা পাওয়ার ওই একই স্থানে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ওই দুই বিদেশি উদ্যোক্তার সাথে আলোচনা গুটিয়ে আনতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ৩টি প্রকল্প বর্তমানে অপেক্ষাকৃত এগিয়ে রয়েছে। চীনের এইচকিউসি এবং সিএএমসি কনসোর্টিয়াম মহেশখালীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উপযোগিতা যাচাই সম্পন্ন করেছে। ভারতের পেট্রোনেট কুতুবদিয়ায় টার্মিনাল স্থাপনে উপযোগিতা যাচাই শেষে সরকারের সাথে টার্মসিট স্বাক্ষর করেছে। চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে দরকষাকষি চলছে। তাছাড়া পায়রা বন্দর, কুতুবদিয়া এবং মহেশখালীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য জাপানের টোকিও গ্যাসকে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি দূর করার কথা বলেছেন। একইসাথে কাজ এগিয়ে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বাদে নতুন করে আর ভাসমান টার্মিনাল না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণের উপর জোর দেয়া হবে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। পটুয়াখালীর পায়রায় ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চিন্তা রয়েছে। তা নিয়ে জ্বালানি বিভাগ কাজ করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *