আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়াকে মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান

বিএনএন ৭১ ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবিলম্বে মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে মিয়ানমারের সেনা কমান্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।

মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে আসছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোন নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা,সংঘবদ্ধ ধর্ষণ,শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ২০১৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর তাই রোহিঙ্গাদের ইস্যুতে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চারটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠন।

অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (এসিএফআইডি), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়। বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন দেশটি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উত্থাপনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে উদ্বুদ্ধ করে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় দায়ীদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে আলামত সংরক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে একটি প্রস্তাব তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের বেশ ক’জন সেনা কর্মকর্তা, কয়েকটি ইউনিট ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বাতিলে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান। অস্ট্রেলিয়া সরকার মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র অবরোধ আরোপ করলেও গত অর্থবছরে দেশটি মিয়ানমারকে প্রায় ৪ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারকে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন এসিএফআইডি’র প্রধান নির্বাহী মার্ক পুরসেল। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বন্ধের সময় এসেছে।’

সম্প্রতি জাতিসংঘের সত্য অনুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং সহ শীর্ষ পর্যায়ের ছয়জন সেনা কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়। বলা হয়, ‘অপরাধ ঠেকাতে ও অপরাধীদের বিচারে তারা পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এ ব্যর্থতা ও সংঘটিত নৃশংসতার মধ্যে সংযোগ রয়েছে।’ গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জেনেভায় শুরু হয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৩৯ তম অধিবেশন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি আগামি ১৮ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে উত্থাপনের কথা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *