অর্থনীতি লিড নিউজ

কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে লবণের দাম বাড়ানোর আশঙ্কা

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: আর মাত্র একদিন পরেই ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে লবণের প্রয়োজন হয়। সেজন্য এই ঈদে লবণের চাহিদাও বাড়ে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লবণ সিন্ডিকেটের সদস্য ও কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী লবণের বাজারকে অস্থির করার কারসাজিতে নেমেছেন।

যদিও ঈদুল আজহা এলে নিয়ম করেই বাড়ে লবণের দাম। কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে বাড়তি চাহিদা থাকায় শেষ মুহূর্তে লবণের সংকটও দেখা দেয়। আর ওই নিয়ম মেনেই যেন গত এক মাসে লবণের দাম বেড়েছে বস্তায় অন্তত একশ’ টাকা। যদিও লবণ মালিক সমিতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- কোরবানিকে সামনে রেখে দেশে লবণের কোনো সঙ্কট হবে না। কিন্তু তাদের এমন বক্তব্যে ভরসা পাচ্ছেন না কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে শেষ মুহূর্তে মিলাররা লবণের দাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে মিল গেটে চামড়ায় ব্যবহারের উপযোগী লবণ প্রকারভেদে ১০ টাকা সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ৭৫ কেজি ওজনের লবণের বস্তার দাম পড়ছে সাড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। মাসখানেকের ব্যবধানে লবণের দাম প্রতি বস্তায় বেড়েছে অন্তত একশ’ টাকা। প্রতিবছরই কোরবানির অজুহাতে একটি শ্রেণী দেশে লবণ আমদানি করতে চায়। তারা নিজেদের স্বার্থে লবণের দাম বেড়ে গেল বলে হুলস্থূল ফেলে দেয়। যদিও ঢাকায় এক বস্তা লবণের দাম খরচসহ কোনভাবেই ৯শ’ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে বাংলাদেশ লবণ মিল সমিতি মনে করে।

সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ টন লবণের চাহিদা রয়েছে। আর উৎপাদন হয় ১৫ লাখ টনের মতো। ঘাটতি বিবেচনায় গত বছর ৫ লাখ টন লবণ আমদানির সুযোগ দিয়েছিল সরকার। ট্যারিফ কমিশনের তথ্যানুযায়ী আমদানির পাশাপাশি প্রতিবছরই ৪ থেকে ৫ লাখ টন লবণ অবৈধভাবে দেশে আসে। সোডিয়াম সালফেট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্টের নামে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন লবণ আমদানি হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু কোনো অসাধু ব্যবসায়ীই ওই লবণই খাবার লবণ হিসাবে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টি হওয়ায় লবণের উৎপাদন কম হয়েছে। আবার মহেশখালী-মাতারবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও অন্যান্য শিল্প গড়ে ওঠার কারণে লবণ উৎপাদনের জমিও সংকুচিত হয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে পরিশোধনযোগ্য ১৫ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। সারাবছরের চাহিদার তুলনায় তারপরও ১ লাখ ২৮ হাজার টন লবণের ঘাটতি রয়েছে। সেই অনুযায়ী দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সুপারিশও করেছে বিসিক।

এদিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। আর ব্যবসায়ীদের সোয়া কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠনের মতে, বড় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ১০ থেকে ১২ কেজি, মাঝারি চামড়ায় ৭ থেকে ৮ কেজি ও ছোট চামড়ায় ৫ থেকে ৬ কেজি লবণ লাগে। ওই হিসাবে এবার কোরবানিতে এক থেকে দেড় লাখ টনের মতো লবণ লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে বছরটিতে ঠিক কী পরিমাণ লবণ প্রয়োজন তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি ওই ব্যবসায়ী সংগঠন। তবে সঙ্কট না থাকলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে লবণের দাম বেড়ে যায়।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ লবণ মিল সমিতির সভাপতি নুরুল কবির জানান, বছরের সার্বিক চাহিদায় লবণের কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে কোরবানির ঈদকে ঘিরে লবণের সঙ্কট নেই। ট্যানারি শিল্প সংশ্লিষ্টদের বলেছি, তাদের কতটুকু লবণ লাগবে বললে মিলারদের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রায় দুই বছর ধরে অর্থাৎ ২০১৬ সাল থেকে লবণের দাম সাতশ থেকে আটশ টাকার মধ্যেই আছে। কিন্তু বস্তার দাম কখনওই ১৪শ টাকায় ওঠেনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *