বিশেষ প্রতিবেদন সারা বাংলা

জন্মের পর পরই শিশুকে দেয়া হবে এনআইডি!

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশে শিশুর জন্মগ্রহণের পর পরই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। পাশাপাশি একই আইডি নম্বর সারজীবনের জন্য ব্যবহার করা হবে। সামনের বছরের শুরু থেকেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই শিশুর সকল তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করে পরিচয়পত্র দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। একবার যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া হবে সেই নম্বরই সারাজীবন বহাল থাকবে। জানা গেছে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুসারে ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধিমালাতে বলা হয়, ভোটার হওয়ার যোগ্য নয়, এমন নাগরিকদের পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

এরপর বিধিমালার আলোকে অনুবিভাগ তাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। সেই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সদ্য জন্মগ্রহণ করা শিশু থেকে শুরু করে প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে বলে ঠিক করে এনআইডির অনুবিভাগ। বিধিমালা প্রকাশ করার পর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই থেকে এখনো পর্যন্ত শূন্য থেকে সকল নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে পারেনি এনআইডি অনুবিভাগ। তবে ২০১৬ সালে একবার ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের নিবন্ধন করেছিল নির্বাচন কমিশন। তথ্য হালনাগাদ করলেও তাদের এনআইডি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে আমরা নতুন করে কাজ শুরু করব। শূন্য বছর থেকে সকল নাগরিককে ইউনিক (অদ্বিতীয়) আইডি দেওয়া হবে। যা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই। তবে শুধু ওই আইডি ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, প্রথমে শিশুর সকল ডাটা সংগ্রহ করবে জেলা বা উপজেলার জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। বাচ্চাটির বাবা-মা কিংবা জন্ম তারিখসহ সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এরপরে ওই শিশুটির জন্য ১০ ডিজিটের একটি আইডি নম্বর দেওয়া হবে। ওই আইডির নাম হবে ইউনিক আইডি। ওই শিশুর যাবতীয় তথ্যের সঙ্গে ১০ ডিজিটের একটি এনআইডি নম্বর সার্ভার থেকে অটোমেটিক যোগ হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে সাইদুল ইসলাম বলেন, সময় স্বল্পতা ও আর্থিক দিক এবং প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠার ভয়সহ আরো অনেক কারণে করা হয়ে উঠেনি। তবে আমরা কিন্তু ২০১৬ সালে তিন বছরের একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছি। যেখানে ১৬, ১৭ এবং ১৮ বছর বয়সী নাগরিকদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। যারা এরইমধ্যে ভোটারও হয়ে গেছে।

ওই হালনাগাদ নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে, সরকারের কোনো নীলনকশাকে বাস্তবায়ন করতে এসব করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে অনেক কারণে আর বিষয়টি সামনে এগোয়নি। মহাপরিচালক বলেন, প্রথমিক অবস্থায় শিশুদের ইউনিক আইডি দিতে সকল ধরনের তথ্য সংযুক্ত করা হলেও শুধু বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন হবে না। এরপরে শিশুটির বয়স ৯ বছর পূর্ণ হলে তার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা হবে। কারণ ৯ বছরের আগে বায়োমেট্রিক করলে পরবর্তী সময়ে আবার পরিবর্তন করতে হতে পারে। লেখাপড়া করা শিশুরা যখন প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করবে তখন তার স্কুল থেকেই তাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বা আঙুলের ছাপ নিয়ে রেজিস্টেশন করানো হবে।

এরপরও যারা বাদ পড়ে যাবে তাদেরকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করানোর সময় দ্বিতীয় ধাপে বায়োমেট্রিক করে নেয়া হবে। আর যাদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হবে না তাদেরকে বিভন্ন সময় নির্বাচন অফিস থেকে বায়োমেট্রিক করে নেওয়া হবে। ভোট দেয়া ছাড়া সকল কাজই চলবে ইউনিক আইডি দিয়ে। তিনি আরো বলেন, ‘সকল নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা এবং তাদের সকল তথ্য সংগ্রহ করা, এটা কিন্তু আমাদের একটি মহাপরিকল্পনা। হয়তো একই সময়ে সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে দেওয়া হবে। একসময় সবাই এনআইডি কার্ড পাবে।

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কার্ড দিয়ে শুধু ভোট ছাড়া সব কাজই করতে পারবে। এরপরে ১৮ বছর হয়ে গেলে তিনি নিজে নির্বাচন অফিসে গিয়ে হালনাগাদ করে আসবেন। এরপর থেকে ওই কার্ড ব্যবহার করে তিনি ভোট দিতে পারবেন। ভোটার হওয়ার আগে বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, স্কুল ও কলেজসহ যাবতীয় স্থানে এই আইডি ব্যবহার করতে পারবেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, জন্মের পরেই একজন শিশুকে যে ইউনিক আইডি নম্বর দেওয়া হবে সেটাই সারাজীবন বহাল থাকবে। বয়স থেকে শুরু করে কোনো কিছুই আর পরে পরিবর্তন করার দরকার হবে না।

বাংলাদেশের সকল নাগরিককে পরিচয়পত্র দিতে পারলে সবারই তথ্য আমাদের কাছে থাকবে। এতে যে কোনো সময় যেকোনো ধরনের তথ্যের প্রয়োজন হলে আমরা কাজে লাগাতে পারব। এদিকে, শিশু বয়স থেকেই যদি তার তথ্য নির্বাচন কমিশনে থাকে তাহলে বারবার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। এতে করে সরকারের কর্মঘণ্টাসহ বেঁচে যাবে অনেক টাকাও। বারবার তথ্য হালনাগাদ করার জন্য কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারেও যেতে হবে না এবং তথ্য হালনাগাদও সার্ভার থেকে অটোমেটিক হয়ে যাবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *