রাজনীতি লিড নিউজ

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পল্টনে সমাবেশ

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার। এ উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশের জন্য অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই সমাবেশ থেকে বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান আসবে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি একটি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্য ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রীক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লহ্ম্য জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা চড়াই-উড়রাই পর করে রাজনৈতিক এই দলটি। কয়েক মেয়াদে দেশ শাসন করা বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীল প্রাক্কালে বলছেন, দল সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। একটি মিছিল করলে পুলিশ দিয়ে পেটানো হয়। মিছিল ভেঙে দেয়া হয়। নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। এভাবে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। এ কারণে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানানো হবে। এই আন্দোলনের সফলতার ওপর নির্ভর করবে বিএনপির আগামি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া।

বিএনপির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি খারাপ সময় পার করছে, এটি সত্য। তবে এই সময় বেশি দিন থাকবে না। যত তুফান আসুক, বিএনপি সেই তুফান মোকাবিলা করবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি পরিবর্তন আনবে। এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আর বেশি দিন লাগবে না, পুলিশের কাছে অনুমতি নিয়ে বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে না। এ দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনবে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, টানা ১২ বছর দল ক্ষমতায় না থাকার কারণে নেতা-কর্মীরা হতাশ। দলের চেয়ারপারসনের কারাবাস নেতা-কর্মীদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় করণীয় কী, তার সমাধান বের করতে দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রতি সপ্তাহে তিন-চারবার করে বসছেন। কিন্তু কোনো সমাধান আসছে না। সব দিক থেকে সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে যে, কোনোভাবেই কোনো কিছু করা যাচ্ছে না। ওই সূত্র বলছে, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু বিএনপির সামনে নেই। শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের পরিবর্তন আনতে হবে।

বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য বিএনপির ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ। এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে না পারলে বিএনপিকে দোষ দেবে জনগণ। এ কারণে দলের মহাসচিব দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার ফেরাতে বিএনপি কাজ করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি একা এই অবস্থা থেকে দেশকে বেরিয়ে আনতে পারবে না। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে বলেও মনে করেন দলের শীর্ষ নেতারা। এর পেছনেও সরকার ‘দায়ী’ বলে তাঁরা দাবি করছেন। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে। অনেকে বাড়িছাড়া। গুম-খুনের শিকার হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী। এসব কারণে দলের তৃণমূলও সেভাবে মাঠে নামতে পারছে না। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাঠে নামার জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানাবেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এরপর দলটি নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়েও করণীয় নির্ধারণ করবে।

বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ১২ বছর আগে ক্ষমতা ছাড়া হওয়ার পর থেকেই বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না, আবার নেতা-কর্মীরা নিজেরাই আছে বেকায়দায়। ফলে সবকিছু ঠিকভাবে এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, আগের অনেক অনড় বিষয় থেকে বিএনপি বেরিয়ে এসেছে। দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যা যা প্রয়োজন তা করছে। তাঁর মতে, বিএনপি একটি কঠিন সময়ের মধ্যে আছে, তবে এই পরিস্থিতি থেকে দলটি বেরিয়ে আসবে।

ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, দলটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারলে দলটির জন্য ভালো তো বটেই, দেশের জন্যও ভালো। তবে এই সময়টা কবে আসবে, বলা কঠিন। আগামি এক-দেড় মাস সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে রাজনীতিতে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি বিএনপির খারাপ অবস্থানেরও পরিবর্তন আসতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *