অর্থনীতি লিড নিউজ

এলএনজির দর পরিশোধে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিলিং পদ্ধতি কঠোর করা হচ্ছে

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দর পরিশোধ করতে বিলিং পদ্ধতিতে কঠোর হচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। কারণ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিল প্রদানের ক্ষেত্রে গড়ে ৪ মাস পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে। তাতে বহুজাতিক কোম্পানির গ্যাসের দাম পরিশোধের ক্ষেত্রে তারল্য সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। আর কোন কারণে বহুজাতিক কোম্পানির গ্যাসের দর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে লাইবরের সঙ্গে এক ভাগ হারে সুদ যোগ করে পরিশোধ করতে হয়। তাতে পেট্রোবাংলা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজির বিল আমদানি পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাছাড়া ওআইসির দাম পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ দিতে হয়। কিন্তু সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাজে গড়ে ৪ মাসের বিল বকেয়া থাকছে। এমন অবস্থায় সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রদানে বাধ্য করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ এখনো দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫৭ দশমিক ৮৭ ভাগ গ্যাস থেকে উৎপাদন হয়। আর দেশে মোট গ্যাস চালিত ১০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। গ্যাসচালিত বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকারি। পিডিবি ছাড়াও পিডিবির বিভিন্ন কোম্পানি ওসব কেন্দ্র পরিচালনা করছে।

সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আসার পর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কিছুটা গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। এলএনজি আসায় চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এলএনজি আসায় সম্প্রতি হরিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি এলএনজির সরবরাহ বাড়লে এরা কয়েকটি গ্যাস চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো হবে। তাতে তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রেখে গ্যাসচালিত কেন্দ্র চালানোয় উৎপাদন খরচ কমে আসবে। বর্তমানে পেট্রোবাংলা দৈনিক গড়ে এক হাজার ১শ’ থেকে এক হাজার দেড় শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ দিয়ে আসছে। আর এখনো একক গ্রাহক হিসেবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রই গ্যাসের সব থেকে বড় গ্রাহক।

সূত্র আরো জানায়, পিডিবি বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করে। বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরা গ্রাহকের কাছে আবার ওই বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এখনো সারাদেশের অধিকাংশ গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর বিল দিয়ে থাকে। ফলে আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়, তারপর অর্থ আসে। তাতে কিছুটা সময় লেগে যায়। ফলে পিডিবির গ্যাস বিল প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হওয়া স্বাভাবিক। কারণ বিতরণ কোম্পানিগুলোও পিডিবির অর্থ পরিশোধে দেরি করে থাকে। তবে ক্রমান্বয়ে প্রিপেইড মিটার চালু হলে ওই সমস্যা কেটে যাবে। পাশাপাশি একই প্রক্রিয়ায় পেট্রোবাংলাও গ্যাস বিতরণ করে। পেট্রোবাংলা উৎপাদন কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে বিতরণ কোম্পানিকে দেয়। আবার বিতরণ কোম্পানি পেট্রোবাংলার গ্যাসের দাম পরিশোধ করলে পেট্রোবাংলা ওআইসি এবং অন্য ব্যয় নির্বাহ করে।

এদিকে সম্প্রতি পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোঃ ফয়েজ উল্লাহ জ্বালানি সচিব আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ চুক্তি ছাড়াই সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পেট্রোবাংলা গ্যাস দিয়ে থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পেট্রোবাংলার দ্বিপক্ষীয় গ্যাস সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল না দিলে তাদের ১২ ভাগ হারে সারচার্জ প্রদান করতে হয়। পিডিবি গ্যাস বিল পরিশোধে দেরি করায় বিলম্ব ফি প্রদানের ব্যবস্থা যুক্ত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *