লিড নিউজ সারা বাংলা

ঈদ উপলক্ষ্যে রেলের ব্যাপক প্রস্তুতি

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: আসন্ন ঈদুল আজহায় যাত্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। শুরু করা হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে (টিকিট থাকা সাপেক্ষে) বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ৭ জোড়া ( ১৪টি ট্রেন) বিশেষ ট্রেন ও ১৫০টি যাত্রীবাহী বাড়তি বগি রেলওয়ে পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ওয়ার্কশপ দুটিতে বাড়তি বগি প্রস্তুতে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এমনকি কাজ শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের পরও ওসব শ্রমিক অভারটাইম করছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নিরাপদ পরিবহন হিসাবে বরাবরই ঈদ যাত্রায় রেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আর ওই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠে টিকিট কালোবাজারিরা। এবার টিকিট কালোবাজারি রোধ ও যাত্রী নিরাপত্তায় ঢাকা কমলাপুর-বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে আরো সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিশেষ ব্যবস্থায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ২৬টি ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ১০টি কাউন্টার থেকে একযোগে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন পপ্রর্তন করা হয়েছে। আরো প্রায় ৭শ’টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর কারখানায় শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬০টি বগি রেলওয়ে বহরে সংযুক্ত করতে তারা দিন-রাত কাজ করছে। পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের প্রায় ৮শ’ শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের পরও ওভারটাইম করছেন শুধু অতিরিক্ত বগিগুলো যথাসময়ের মধ্যে প্রস্তুত করতে। ওই ওয়ার্কশপে ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীবহনে প্রায় ৮০টি বগি মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৫টি বগি মেরামত সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকিগুলো ১৮ কিংবা ১৯ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। আর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার প্রায় ১১শ’ শ্রমিক পুরোদমে কাজ করছে। সেখানেও ৮০টি বগি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত করতে হচ্ছে। সেজন্য শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত সময়ের পরও ওভারটাইম করছে।

সূত্র আরো জানায়, ঈদকে সামনে রেখে কমলাপুর রেল স্টেশন ধোয়ামোছা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কাউন্টার প্রস্তুসহ স্টেশনের ভেতর ও স্টেশন চত্বরে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো স্টেশন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে। ২৬টি কাউন্টার থেকে একযোগে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোট ৬৫ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। বাকি টিকিট ভিআইপি কোটা ও ই-টিকিটে বিক্রি করা হবে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন জানান, এবারও ঈদ উপলক্ষে মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীসেবা ও অতিরিক্ত যাত্রীবহন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। ছোট-বড় রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালোবাজারিদের কাছে থাকা প্রায় সব টিকিটই নকল, ওসব নকল টিকিট না কিনতে তিনি যাত্রীদেও অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত যাত্রীবহনে এবারও বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক জানান, ঈদকে সামনে রেখে রেলওয়েতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত যাত্রীবহনে ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও প্রায় ১৬০টি বগি সংযোগ করা হচ্ছে। রেলের কিছুকিছু বগি খুবই পুরনো ও নড়বড়ে ছিল। ওসব বগি খুব যত্নসহকারে মেরামত করে রঙ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সেবা বৃদ্ধিতে আরামদায়ক সিটসহ যাবতীয় নতুনের মতো করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মহিলা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদাসহ অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *