রাজনীতি লিড নিউজ

ইউটার্ন নির্মাণে ডিএনসিসি ও সওজের জটিলতার অবসান

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: অবশেষে দূর হচ্ছে ঢাকায় ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পে শর্তসাপেক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজি হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের মধ্যস্থতায় ইউটার্ন প্রকল্প নির্মাণের ওই জটিলতা দূর হয়েছে। বর্তমানে উত্তরার জসিম উদ্দিন, রাজলক্ষ্মী ও কাওলায় ৩টি ইউটার্নের নির্মাণের কাজ চলছে। বাকিগুলোর কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএনসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর যানজট নিরসনে বিগত ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন (লেন পরিবর্তন করতে ভূমিতেই গাড়ি ঘোরানোর জায়গা) নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। ওই ইউটার্নগুলো নির্মাণ করতে প্রয়োজন ছিল ৩৭ দশমিক শূন্য ৯ বিঘা জমি। তার মধ্যে সড়ক ও জনপথের ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা, রেলওয়ের ১ দশমিক ৬১ বিঘা এবং সিভিল অ্যাভিয়েশনের ১ দশমিক ৮৩ বিঘা জমি রয়েছে। আর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তার মধ্যে সরকারের দেয়ার কথা ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বাকি ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার জোগান ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়ার কথা। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের আপত্তি থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাগুলোর কাছে জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ডিএনসিসি চিঠি দেয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে একধরনের নীতিগত অনুমোদনও মেলে। কিন্তু গত বছরের ৪ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউটার্ন নির্মাণ কাজ শুরু করলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাধায় তা আটকে যায়। পরবর্তীতে ৭ মাস পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিলে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে শুরু করে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাব অনুসারে প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুমোদন পেতেই দুই বছরের বেশি সময় লেগে যায়। তারপর প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই হিসেবে চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জমি নিয়ে জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এখন সড়ক ও জনপথের ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা জমির বিনিময়ে ৫ কোটি টাকার চাহিদার কথা জানিয়ে সিটি করপোরশেনকে চিঠি দিয়েছে। আর সওজর ওই চাহিদা পূরণ করে সিটি করপোরেশন ইউটার্ন নির্মাণ কাজ শুরু করতে সম্মত হয়েছে। সওজর চাহিদাকৃত টাকা প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, রাজধানীতে ইউটার্নগুলো তৈরি হলে বিমানবন্দর সড়কের যানজট প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ কমে যাবে। ইউটার্নের নকশা অনুযায়ী একটিতে ছোট-বড় দুই ধরনের যানবাহনই চলবে এবং অপরটিতে শুধু ছোট গাড়ি চলবে। একটি ইউটার্ন থেকে আরেকটি ইউটার্নের সর্বনিম্ন দূরত্ব হবে ৮০০ মিটার আর সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। ওসব ইউটার্ন দিয়ে গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারবে। ফলে তখন বিভিন্ন মোড়ে কোনো ট্রফিক পুলিশেরও প্রয়োজন হবে না।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী ও ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মাহাবুব আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে বৈঠক হয়। সওজের ভূমি ব্যবহারে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, বৈঠকে ওই জটিলতা দূর হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *