লিড নিউজ সারা বাংলা

চালকদের অর্ধেকেরই লাইসেন্স নেই!

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশে সরকারি হিসেব মতে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত যানবাহনের সংখ্যা ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০টি। এরমধ্যে ২২ লাখ ৬ হাজার ১৫৫টিই মোটরসাইকেল। এসব যানবাহনের বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের সংখ্যা ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৬ জন। অর্থাৎ ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৮০৪ জন চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

মন্ত্রী জানান, দেশে পর্যাপ্ত ড্রাইভিং স্কুল ও ইনস্ট্রাক্টর না থাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ গাড়িচালক তৈরি হচ্ছে না। এ লক্ষ্যে বিআরটিএ যথাযথ পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ১২৩টি ড্রাইভিং স্কুলকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে এবং ১৭৯ জনকে ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ওইসব ড্রাইভিং স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ ড্রাইভার তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে দক্ষ ও মানবিকগুণসম্পন্ন পেশাদার গাড়ি চালক সৃষ্টির লক্ষ্যে পেশাজীবী গাড়িচালকদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পেশাজীবী গাড়িচালকদের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় দুইদিন মেয়াদি এ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ৮৪ হাজার ১৯ জন পেশাজীবী গাড়িচালককে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম চলমান। তা ছাড়া জাল লাইসেন্স বা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী গাড়িচালক, যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ, রংচটা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে।

দিদারুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লক্কর-ঝক্কর মোটরযান যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে লক্ষ্যে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট ম্যানুয়েল পদ্ধতির পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার লক্ষ্যে চারটি বিভাগীয় শহরে ৫টি (ঢাকায় ২টি, চট্টগ্রামে ১টি, রাজশাহীতে ১টি ও খুলনায় ১টি) মোটরযান পরিদর্শন কেন্দ্র (ভিআইসি) স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে মিরপুরে ভিআইসি’র কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তা ছাড়া বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৯ হাজার ১৪৮টি মামলার মাধ্যমে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন মেয়াদে ১৪৬ জনকে কারাদণ্ড এবং ৫২টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশন পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে জনকল্যাণ সমিতি মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু রাস্তার জন্যই হয়, ব্যাপারটা এমন নয়।

এখানে রাস্তায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাপার আছে, সচেতনতারও ব্যাপার আছে। শুধু বেপরোয়া ড্রাইভার দায়ী নয়, শুধু রাস্তাও দায়ী না। বেপরোয়া পথচারীরাও অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নিজের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে যখন রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। আমি দুটি পয়েন্টে দেখতে পেলাম যে, হঠাৎ করে এক ঝাঁক তরুণ রাস্তায় নেমেছে। গাড়ি তো চলছে, চলমান গাড়ি। সে সময় যদি কেউ গাড়ির তলায় পিষ্ট হয়, কাকে দায়ী করবেন? তারপর দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তা পার হচ্ছে মোবাইলে কথা বলতে বলতে। চলমান গাড়ি অনেক কষ্টে থামাতে হলো। সে অবস্থায় চলৎ গাড়ি যদি তাকে চাপা দেয়, সেটার জন্য কে দায়ী হবে? আপনি যাচ্ছেন, গাড়িতে চড়ে, দিক বিজয়ী আলেকজান্ডার অনেক সময় ড্রাইভার হয়ে যায়!

তিনি বলেন, অনেক সময় যাত্রীরা আনন্দে বাসের জানালা দিয়ে হাতটাকে প্রসারিত করেন। তখন আরেকটা গাড়ি এসে আপনার হাতটা নিয়ে গেল, এখানে কে দায়ী? এখানে শুধু বেপরোয়া ড্রাইভার দায়ী নয়, শুধু রাস্তাও দায়ী না। বেপরোয়া পথচারীও অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে জনকল্যাণ সমিতির রিপোর্টকে ভুয়া আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, এনডিটিভি অনলাইনে দেখলাম ভারতে প্রতি ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘনায় আমাদের দেশ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে এগিয়ে এটা সত্য নয়। ভুয়া একটা জনকল্যাণ সমিতি বাংলাদেশে আছে। যাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন নাই। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে এমন একটা লোক এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়। সময়ে সময়ে মতলবি মহল তাকে আশ্রয় দেয়, প্রশ্রয় দেয় এবং আমি দেখি সমাজের বিশিষ্টজনও ওই লোকটির সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সদ্য শেষ হওয়া ঈদে পুলিশ এবং সংবাদপত্রে রিপোর্টে যেখানে ৪২+৪২ অর্থাৎ ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে তারা মনগড়া তথ্য দাঁড় করিয়েছে যে ৩৩৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এগুলো মনগড়া রিপোর্ট, তথ্য। আমাদের এখানে ১০ হাজার লোকের মৃত্যু গত ২০ বছরে রেকর্ড হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও একটা রিপোর্ট আছে। এই বছরে যেটা রেকর্ড, সেটাও ৫ হাজারের বেশি নয়। মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা মোটেই উচিত না। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা দরকার।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *