আইসিটি

ইউনিকোডে বাংলা লিপির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতামত উপেক্ষিত

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: ইউনিকোডে বাংলা লিপির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য ইউনিকোড বাংলা লিপি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতামতকে অনেক ক্ষেত্রেই গৌণভাবে দেখছে। উপেক্ষিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অক্ষর ব্যবহারে আমরা সমস্যার সম্মুখীন হই। মনে রাখতে হবে বাংলা ভাষার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সীমানা থাকুক। কিন্তু ভাষাগত নয়। ভাষাটা সারা পৃথিবীতে একই হওয়া উচিত। এ জায়গাটায় মতবিনিময় হওয়া ভালো। মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের কাছে কতোটা প্রিয় কিংবা বাংলা বর্ণমালা আমাদের কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলা ভাষা পৃথিবীর একটিমাত্র দেশের রাষ্ট্রভাষা। যেটি হলো বাংলাদেশ। তাই বাংলাভাষার চর্চা, গবেষণা, ভাষা সম্পর্কিত উন্নয়নের কাজগুলোকে সামনে নিয়ে যাওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ করা।

এটি আমাদের আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। ভাষার জন্য সংগ্রামের মতো এর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আমাদের চেষ্টার ঘাটতি ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তুত বাংলা ভাষার জন্য আমরা লড়াইটা যতোটুকু করেছি প্রযুক্তিগত দিক থেকে ততোটা কাজ আমরা করিনি। যার কারণে যখন আমরা দেশকে স্বাধীন করলাম তখন আমাদের বাংলা হরফ তৈরি করার মতো অবস্থা আমাদের ছিলো না। সরকার ভাষার উন্নয়নে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সম্ভবত বাংলা ভাষার ইতিহাসে এ প্রথম এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সরকার ১৫৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি টুলস ডেভেলপ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডর, মেশিন ট্রান্সলেশন, করপাস গড়ে তোলা, বাংলা ভাষার প্রমিতকরণের ভিত্তিতে তার লেখার পদ্ধতি তৈরি করা, প্রতিবন্ধিদের জন্য কেমন করে ব্যবহার করা যেতে পারে সে বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। বাংলা একাডেমিতে বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে নিও ব্রাহ্মী জেনারেশন প্যানেলের (এনজিবিপি) সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের দিনব্যাপী আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোস্তাফা জব্বার।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভাষাবিজ্ঞানীসহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান সরকার বাংলা ভাষার প্রযুক্তিগত ব্যবহারকে যুগোপযোগী এবং সহজসাধ্য করতে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি। মূলত কম্পিউটারে লিপি বা অন্যান্য অক্ষর সংরক্ষিত হয় সেই অক্ষরগুলির প্রতিটির পেছনে একটি করে একক সংখ্যা দিয়ে। ইউনিকোড এই একক সংখ্যা বা নম্বর দেয়। আর ইউনিকোড সংক্রান্ত কাজগুলো করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম। বাংলাদেশ ২০১০ সালের ৩০ জুন এই কনসোর্টিয়ামের সদস্য পদ লাভ করে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ইউনিকোডে প্রমিত বাংলা ফন্ট তৈরির কাজ করা হচ্ছে। ‘আমার বর্ণমালা’ নামের এই ফন্ট তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেনশন (এটুআই) প্রোগ্রাম।

বাংলা একাডেমি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার, অধ্যাপক ড. উদয় নারায়ণ সিংহ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, ড. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী, থাইল্যান্ডের পিটিনান কুয়ারমর্নপাতানা ও বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা। কর্মশালার ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এনজিবিপির কো-চেয়ার সমীরণ গুপ্ত। এদিকে, ‘সবার জন্য জ্ঞান’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলা একাডেমি গ্রন্থাগার-অনলাইন’। নিও ব্রাহ্মী জেনারেশন প্যানেলের (এনজিবিপি) সঙ্গে আলোচনা পর্বের শেষে মোস্তাফা জব্বার এই অনলাইন গ্রন্থাগারের উদ্বোধন করেন।

বাংলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত প্রায় লক্ষাধিক দুষ্প্রাপ্য বই থেকে বাছাই করা এক লাখ পৃষ্ঠা সরাসরি ইন্টারনেটে পড়ার সুযোগ করে দেওয়াই এই অনলাইন উদ্যোগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। সপ্তাহখানেকের মধ্যে ১ লাখ পৃষ্ঠা আপলোড করা হবে। ৮০ হাজার পৃষ্ঠা এরইমধ্যে স্ক্যান করা হয়েছে। এই স্ক্যান ম্যাটার ই-বুক ফরমেটে প্রতিদিনই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে। www.library.banglaacademy.org.bd ঠিকানায় ক্লিক করে সরসারি ই-বুক পড়া ও ডাউনলোড করা যাবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *