লিড নিউজ সারা বাংলা

রাজধানীর অধিকাংশ ওয়েস্ট বিন হাওয়া!

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ওয়েস্ট বিনের অধিকাংশই চুরি ও অকেজো হয়ে গেছে। অথচ ওই খাতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে অল্প কিছু বিন টিকে থাকলেও সেগুলো তেমন ব্যবহৃত হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে অডিট অধিদপ্তর থেকে গত মার্চে ওয়েস্ট বিন ক্রয়ের বিষয়ে অডিট আপত্তিতে ডিএসসিসির জবাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি কোনো জবাব দেয়নি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনই পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১১ হাজার ওয়েস্ট বিন (ময়লা ফেলার ছোট পাত্র) স্থাপন করেছিল। ওই বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। ডিএসসিসির ভান্ডার ও ক্রয় বিভাগ বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে ৫ হাজার ৭০০টি ওয়েস্ট বিন কিনেছিল। একই সময় প্রায় সমপরিমাণ ওয়েস্ট বিন কিনেছিল ডিএনসিসি। ডিএসসিসির ওয়েস্ট বিন কেনা ও স্থাপন বাবদ খরচ হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি বছরের ২০ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়েস্ট বিন বাবদ খরচের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে অডিট অধিদপ্তর। ওই দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিকল্পিতভাবে রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ওয়েস্ট বিন কিনে স্থাপন করা হয়েছে। তাতে প্রায় ২ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ওই অর্থ দায়ি ব্যক্তিদের থেকে আদায় করে ডিএসসিসির তহবিলে জমা দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এখনো ওই সংক্রান্ত অডিট বা নিরীক্ষা করা হয়নি।

সূত্র জানায়, বিগত ২০১৬ সালে ডিএসসিসির বিভিন্ন রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে কটি বিন আছে, তার পরিসংখ্যান ডিএনসিসির কাছে নেই। চলতি বছরের শুরুর দিকে নগরের ফুটপাতগুলোয় টাইলস বসানোর সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অর্ধেকের বেশি ওয়েস্ট বিন উপড়ে ফেলেছে। ওসব বিন মানুষ তেমন ব্যবহার করে না বলে সেগুলো পুনঃস্থাপনের তেমন উদ্যোগ নেই। যদিও প্রথম দিকে মানুষ রাজধানীতে স্থাপন করা ওয়েস্ট বিনগুলো ভালোভাবেই ব্যবহার শুরু করেছিল। তবে অনেক জায়গায় ওই বিনে বাসা-বাড়ির বর্জ্যও বাসিন্দারা ফেলা শুরু করে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতো না। ফলে বিনের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতো। তার মধ্যেই একটি একটি করে চুরি হতে থাকে। তাছাড়া কিছু রাস্তা ও ফুটপাত মেরামতের সময়ও ওয়েস্ট বিন খুলে ফেলা হয়। ওভাবেই নাই হয়ে গেছে অর্ধেক ওয়েস্ট বিন।

সূত্র আরো জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ওয়েস্ট বিনগুলো নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। ওই হিসাব অনুযায়ী ৫ হাজার ৭০০টি বিনের মধ্যে ৫১ শতাংশ বিন ভালো বা ব্যবহার উপযোগী। বাকি ২৭ শতাংশ বিন এখন মেরামতযোগ্য, আর ২২ শতাংশ বিন চুরি হয়েছে। আর ডিএসসিসি মতে এখনো অর্ধেকের বেশি ওয়েস্ট বিন ব্যবহার হচ্ছে। যেগুলো চুরি হয়েছে ও ব্যবহার অনুপযোগী, সেখানে নতুন বিন স্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে যথাযথ নিয়ম ও চাহিদার ভিত্তিতেই ওসব ওয়েস্ট বিন কেনা হয়েছিল। সম্প্রতি অডিট অধিদপ্তরকে সে জবাব দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, তাদের ওয়েস্ট বিন কেনার বিষয়ে অডিট অধিদপ্তরের কোনো আপত্তি পাননি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *