রাজনীতি লিড নিউজ

সংসদ নির্বাচন ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিটি সংসদীয় আসনেই বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে অনুমোদন পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন প্রকল্প। মূলত ভোটারদের মন জয় করতেই সংসদ সদস্যরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। সেজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রী-এমপিদের আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) জমা পড়ছে। তাতে সরকারের খরচ হবে হাজার হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচনের আগেই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলায় মসজিদ-মন্দিরসহ সামাজিক, ধর্মীয় ও খেলাধুলা বিষয়ক অবকাঠামোও নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেজন্য সরকার ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) গৃহীত মেগা প্রকল্পে ২৩ হাজার কোটি টাকার কাজ করবে। আর ইতোমধ্যে ৩ হাজার নতুন ভবন এবং ৩ হাজার ২৫০টি ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। তাছাড়াও ৩২৩টি সরকারি স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৬শ কোটি টাকা এবং ২০০ সরকারি কলেজ উন্নয়নের জন্য এক হাজার ৮শ কোটি টাকা ছাড়ের সরকারি অর্ডার (জিও) অপেক্ষমাণ।

সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় ১০টি নতুন ভবন করতে পারবেন। ওই প্রকল্পের আওতায় ৭টি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র দেয়া হবে। প্রতিটি ভবনে টানা বারান্দা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট, সুপেয় পানি, ছাত্রীদের জন্য পৃথক কমন রুম, শিক্ষকদের জন্য একটি কক্ষ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও র‌্যাম্পের ব্যবস্থা থাকবে। দেশে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা ভবন হবে ২ হাজার ১৫০টি, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ তলা ভিতবিশিষ্ট ৬ তলা ভবন হবে ১০০টি, পাহাড়ি এলাকায় চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা ভবন হবে ৫০টি, উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা ফাঁকা রেখে পাঁচতলা ভবন (নিচতলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র-কাম শ্রেণিকক্ষ) হবে ১৫০টি। তাছাড়া হাওর এলাকায় পাঁচতলা ভবন হবে ৫০টি, লবণাক্ত এলাকায় চারতলা ভিতবিশিষ্ট ভবন হবে ১৭৫টি এবং নদী-ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য সেমিপাকা কাঠামোয় নির্মাণ হবে ২৫টি ভবন। ওসব ভবন নির্মাণ করতে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৬টি ক্যাটাগরিতে সারাদেশে আরো তিন হাজার ২৫০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও আসবাবপত্র কেনার জন্য ৬ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ৫টি করে নতুন মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকে তা পাস হওয়ার অপেক্ষায়। ওই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। আর দেশে ৩২৩টি সরকারি স্কুলের জন্য ৪ হাজার ছয়শ’ কোটি টাকা এবং ২০০টি সরকারি কলেজের ভবনের অবকাঠামো নির্মাণে এক হাজার ৮শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত সাড়ে ৮ বছরে সারাদেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ১০ হাজার ১১টি নতুন ভবন নির্মাণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। আরো চলমান রয়েছে ২ হাজার ৪৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ।

এদিকে সংসদ সদস্যরা মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নেও বরাদ্দ পাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলায় অন্তত ২ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম হবে, যা পরিচালনা করবেন সংসদ সদস্যরা। ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৫ হাজার ১৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১০টি প্রল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। ওসব প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে ৪ হাজার চারশ’ ৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা; সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ কোটি ৯৩ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ৬৯৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রায় ৯০৩ কোটি টাকায় বাংলাদেশের ৩০০টি নির্বাচনী আসনে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের বিশেষ প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদন দিয়েছে। পুরো টাকা সরকার নিজস্ব উৎস থেকে দেবে।

অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা নিজের নির্বাচনী এলাকায় কোথায় কোথায় নলকূপ ও টয়লেট নির্মাণ করতে হবে, তা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানাবে। অধিদপ্তর সংসদ সদস্যদের চাহিদামতো নলকূপ ও টয়লেট তৈরি করবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। বিগত ২০১০ সালেও ৪ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়। ওই প্রকল্পে পরের ৫ বছরে ২৭৯ জন সংসদ সদস্যের প্রত্যেকে ১৫ কোটি টাকার কাজ শেষে করেছেন। যদিও ওসব কাজ নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, সংসদ সদস্যরা সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ পাবেন। ওসব প্রকল্পের মাধ্যমে কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা, ঈদগাহ ও খেলার মাঠের উন্নয়ন হবে। সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের ৪৯১টি উপজেলায় এক কোটি করে মোট ৪শ ৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সেজন্য পরে আরো এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। তাছাড়া পূর্ত কাজের বরাদ্দ হিসেবে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *