শিল্প সাহিত্য

প্রিয় ১৫ : শোয়াইব জিবরানের কবিতা

ছায়া এলিজি

রাত্রি ছিলে। রাস্তায় একা পেয়ে শুনিয়েছ গান, মানে বুঝি নি। আজ অন্ধকারে ভয়ে ভয়ে তুলে ধরেছি মাথা, ঐ যে আকাশ নুলোভাই আর তারা সাতজন, বোনের লাশ নিয়ে শ্মশানেতে যায় নিত্যরাতে, কী বেদনা তাদের সাথে খেলা করে, জানি।

ভাষা তার অর্ধ বুঝি। যিনি জেগে আছেন মাঠের ওপারে, বটগাছ নদী আর বাতাস নিয়ে। আত্মা মাঝে মাঝে পাঠাই তার খোঁজে, কী কঙ্কাল বেঁচেবত্তে থাকা, অর্ধ স্বপ্ন আর অর্ধ জাগরতা নিয়ে। দিবানিশি।

সে ডাকে। দিঘির জলে ডুবে গেলে চাঁদের দেহ। আমি কি আর ফিরে যেতে পারি? ফিরে কি কেহ? যে ফেলে এসেছে ছায়া পথের ধুলোয়।

ছায়া ফেলে হাঁটি। তিনি স্নেহ আর শৈশব। তার সাথে জানাশোনা ছিল সেকালে, আজ শুধু মাছির মতো মুখ মনে পড়ে। রাত্রি ছিলে।

লাল বসন্তের গান

আমাদের পিতাকে যেদিন হত্যা করা হয়েছিল পেরেক বিঁধে, গাছে ঝুলিয়ে
তখন জেরুজালেমের রাস্তায় রোদন করেছিল যে সকল নারী, আমরা সাতভাই

সে দলে ছিলাম। শুধু বোন, আমাদের একটি মাত্র বোন হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল।

লোকেরা বলেছে, তার চিৎকার শোনা গিয়েছিল মাঠের ওপারে আর
চিরে গিয়েছিল আকাশ, দুইফালি। সাক্ষ্য আছেন ধর্মপুস্তক।

হত্যাকারীরা যখন ফিরে এসেছিল নগরে রক্তচক্ষু নিয়ে আমরা সাতভাই
পালিয়ে বেঁচেছিলাম।
তারপর হায়! আমাদের পিতার হত্যাকা-টি গসপেল হয়ে গিয়েছিল।

আমরা সে গসপেলটি আমাদের নারীদের শুনিয়েছিলাম রোদনভরা জ্যোৎস্নারাতে
আর তারা গর্ভবতী হয়েছিল।

আমাদের নারীরা বলেছিল, ‘রোদন করো না দীন স্বামী,
তোমাদের সন্তানেরা ফুটবে কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে ফুল হয়ে
লাল বসন্তের দিনে।’

দ্যাখ আমাদের নারীরা আমাদের সত্য বলেছিল।

শিকারি

মাথায় পালক নিয়ে এই অসময়ে বেরুনো কি ঠিক হবে?
চারিদিকে আগুন নদী, পথঘাট অগ্নিবাতাস।

যারা গিয়েছিল অন্ধ পাখি হাতে কোড়া শিকারে
ফিরে নি। রক্তের ঘ্রাণ বাতাসে
চাপ চাপ ছড়িয়ে আছে।

পিতা প্রপিতামহ খেয়েছে বনের বাঘ
আমি সামান্য ভগ্নস্বাস্থ্য বালক, দু’হাতে কী আর আগলাবো
রক্তমাখা দাঁত, নখর, বাঘডাক।

নাকেমুখে বনের কাঁটা, পাতা লেগে আছে
কাঠুরিয়া শক্ত কুড়ালে কেটেছে বৃক্ষকোমর
অরণ্য হাত পা ছড়িয়ে বনের গায়ে পড়েছে
আমার শুধুই অরণ্যবাস, না কাঠুরিয়া, না শিকারি।

নারী এবং হরিণমাংস খেয়েছে যারা, জিহ্বা পাতালব্যাপী
নারীর গর্ভে জন্ম মাগো, পিতা ছিলেন হরিণ শিকারি
ব্যাধের সংসারে জন্ম বধূ বংশসুতোবনে
আমার হাতেই দিয়েছে তুলে তিরধনু পাখির পালক
এই অসময়ে করাল বনে কার কাছে আত্মা রাখি?

ধুলোর গাথা

চাকার উপর ক্লান্ত শুয়ে ছিল পথ
চাকা ঘোরাতে ঘোরাতে পথ ফিরছিল বাড়ি।

পথের উপর ছিলাম সামান্য পথিক
ছুটে আসা অশ্বখুর, ধুলো, শত্রুর হল্লা
শব্দ গুনতে গুনতে বিপন্ন অস্থির।

যারা ছিল ঘরে ঘরে পিতা পুত্র মাতা
তারা তুলেছে হাহাকার, ছুটেছে চৌদিকে
রাজা ছিলেন সুরাঘুমে তিনি গেছেন বনে
আর আমি সামান্য শব্দশিকারি
শত্রুর ধুলো গুণে সন্তান করেছি প্রসব

তারা আজ ধুলোর উত্তরাধিকারী।

ঘর

একটুখানি ঘরের জন্যই তো
আমাকে এত বাহিরে ঘুরে মরতে হয়

ঝড়, বৃষ্টি, আগুন ঝঞ্ঝায়, একেলা সন্ধ্যায়।

দিগন্তবিস্তারী আকাশও আমাকে এতটা
খোলা স্থান দিতে পারে না, যা পারে ছাদের নিচের এতটুকু

আমি দশফুটের ছায়ার জন্য ঘুরিয়া বেড়াই দশ দিগন্ত।

বৃক্ষকে সকলে প্রশংসা করে ছায়ার জন্যই তো?
অথচ কতই তুচ্ছ সে তোমার আঁচলের কাছে
আমি তোমার একটুখানি আঁচলের ছায়ার জন্য

কত না দ্রুত ঘরে ফিরি ফেনা, রক্তমাখা পায়।

শান্তা।

সইবাস

১.
নিঃসঙ্গতা আমার সই। কালো আর ক্লান্তিমান। তাকে নিয়ে ডেরা গহিন গুহায়-ডিহাং পাহাড়েতে, সেইখানে আমাদের বাস। পাশে মনু নদী বয় সই সই বাতাস নিয়ে। বাতাস কন্যার সখি হয়, তিনি হাহাকার। রাতে আসেন হাতের বালা নিয়ে। দুই সখি প্রেমালাপ সারারাত পাশে আমি জবুথবু একা একা বই কম্পন আর পিঁচুটি নিয়ে।

২.
দেহের ভেতর শুয়ে থাকিÑগহিন পরবাসে এ কঠিন দুঃখদিনে আত্মীয়রা কই? তারা ছিল বাতাস বাসনা বিদ্যুৎরেখা, জলের ওপারে সাড়ে সাত’শ ভাই। আজ আর কেউ নাই, অজিন কুর্তা, স্তিমিত লন্ঠন আর পঞ্চভাই।

পাশার চালে হেলেদুলে গহিন বনে দ্যাখ বনবাসে যাই।

পথ্য

ক্ষুধার্ত করো তোলো, হাংরি রাখো নিজেরে

যেন এই বনে, পাশের লোকালয়ে কোনো রক্তমাংস নাই।

সেই স্বাদ মনে করে জেগো ওঠো মাত্রই তো গতকালের, নরমাংস ভক্ষণের। যেন বহুদিন তুমি খুব অনাহারে

দুঃখিত নিপতিত মাংসাশী ঘাস পাতা খেয়ে বেঁচে আছো, লজ্জা আর ক্রোধের জীবন।

নিজেরে আগ্রাসী করে তোলো, শিকারে। ক্রুদ্ধ করে তোলো
গেথে চলো সেই সকল হরিণের ছায়া, পথরেখা যে দিকে গেছে, আর
আর নখ লুকিয়ে খুব নরম পায়ে হেঁটে চলো গহন বনপথে।

নিজেরে তৃপ্ত করো না। কিছুতেই। না কিছুতেই

তবেই না ধরা দেবেন তোমার পাতায় দেবী, অমরতার।

গুহাবাস

বৃষ্টির ফোঁটা চুলে নিয়ে গুহায় ফিরেছি। দুঃখতাপ উড়ছে কু-লী পাকিয়ে। সল্তেটা আরেকবার উস্কে দিতে চাই। জ¦লছে চর্বি গলে গলে অন্ধকার; আলোর পিঠে কাঁপা কাঁপা। শোনাও বন্ধু মন্ত্র হরিণধরা, সুরা আল বাকারা মেঘের কাপড় আমার দু’চোখে। অন্ধতা নিয়ে কার কাছে যাব, কে ফেরাবে নপুংসতার অহং শব্দব্রহ্মা, শব্দ সাজাই কাঠের কারুকা, পালং ছুতার মিস্ত্রি।

কী কবিতা লিখে গেলেন গুরু, ঘুম ভেঙে যায়। অতৃপ্ত বাসনায় ভিজে উঠা রাতের পোশাক ফেলে হামাগুড়ি দেবো, ডাকল দেখ রাপসোদাই। তিনবার। ঘুম থেকে গীত ভালো, হাঁটু ভেঙে জমিনে গড়াই।

এই বুঝি হাতের তালুতে লেখা ছিল, তা¤্রলিপি। উলুখাগড়ার দেহ নিয়ে উড়ে উড়ে যাওয়াÑমন্ত্রে বেঁধেছি দেহ আচমন শেষে শরীর পাতন।
বৃষ্টির ভেতর উস্কানি থাকে পদাবলির। ভক্তিমার্গ, রাধাগীত। এই শব্দে সঙ্গম সাজাই।

শিষ্যবচন

ট্যাবু দিয়েছেন গুরু, প্রসাদভাগ না দিয়ে কেমনে খাই। ভিক্ষা মাগি দ্বারে দ্বারে, দুগ্ধবাটি উল্টো করে দাও। রমণীরা বেঁধেছে স্তন কাঁচুলিতে, গুরু তোমার ভাগ কোথা পাব?

এতদিন লতাপাতা, আকন্দকষ, গাভীদুগ্ধফেনা খেয়ে বেঁচেছি। আজ গভীর পরিখায়। চক্ষু দু’টি কই? নাম ধরে ডাকো গুরু, নাম ধরে ডাকো, তোমার রাস্তা যেন দেখিতে পাই।
কী হবে গো আমার, কে তরাবে পার, লকলকে অগ্নিমালার মাথায় ঝুলবে সুতো এই নাকি পথ, মহিষ পিঠে ফিরবেন মাতা, পুত্র তার আঁচলে কী উপায়ে পাবে বলো ঠাঁই?
গিয়েছিলে চিল্লায় অনুপস্থিতির সকল দায়ভার আমায় দিয়ে। পতœী তোমার এইকালে রজস্বলা হলো। করি নি ভোগ, রিপু স্বমেহনে ভুলেছি।

এইবেলা শুধু নাম ধরে ডাকো গুরু, অন্ধ আজ পড়ে আছি গভীর পরিখায়।

মনু পারে করি বাস

একা একা বইছে বাতাস, কবিমনে। মনুতীরে। সেইখানে আমাদের বাস। লোকে বলে, কিতাবা ভালা নি? আমি বাতাসের ভাই, কত গন্ধের বহিছি খবর।
যে বার কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ হলো। এক অক্ষৌহিণী সৈন্য গেল। মনুর বাহিকা হতে। তাতে আমার দুধভাই সেও গেল। আর ফিরল না। ও নাকি নরকে গেল কৌররগণের সাথে, ধর্মগ্রন্থ গাহিল বয়ান। আর ধর্মপুত্র অর্জুন আমার বোনেরে নিল। শুনি সে শুয় দ্রৌপদীর সাথে। বাতাস করিছে কানাকানি, দুঃখ নিয়ে বোনের।
ভগবানের জটা হতে যেদিন নামলেন নদী। কে যেন বলিল তাকে, ব্রাহ্মণেরা ঐ দিকে থাকে। তিনি ছুটে এলেন শুদ্ধ মনে আমাদের গাঁয়।
আমরা খুব গরিবি হালতে থাকি। ক্ষুধা যথা নিত্য অতিথি। বান্ধি প্রতি বৎসরে জমির আইল। রাজা আইন নিয়া হাতি গরীবর বাড়ি, কার্তিকে যখন জমি থাকে ন্যাড়া। তানে দেই সেবা, নিজে খাই বা না খাই।
এরই মাঝে নদী তিনি এলেন বসতি ছাপিয়ে, রান্না ঘরে।

হাড়িতে চাউল নাই, পানি ফুটাই পাথর দিয়া। আরেকটু অপেক্ষা কর বাবা, আসিতেছে ভাতের বলকÑহাসিমুখে শিশুরে বলি। লুকায়ে ফেলি দীর্ঘশ্বাস।

আমার ভাইয়াইন লন্ডনো থাকইন, তবে কেন দুঃখ আমার বারো মাস!

জ্বরের ঘোরে গদ্য


আত্মহত্যা করে চলে যায় পরাণের শাদা পাখি অন্ধকার দেশে। দ্রুত স্খলনের ঘাম, হা-পিত্যেশ শালার দিবসযাম, সকলই করুণ বিনয় তার। কার কাছে ছিলাম সখি বিকেলের হলুদ রৌদ্র, রাস্তা মাড়িয়ে পরিখা হতে ফিরেছিÑসগরের শতপুত্র, আজ ধূধূ বালি উড়ানিরদিন কেবলই তার কথা মনে পড়ে। ও প্রভু আমাদের কেন দুঃখতাপে নির্মাণ করেছিলে?

এ জীবন হাত হতে ফেলে দিই মথুরার মাঠে। যাক, কে যে কবে কার ছিল, এই বিকেলে বালি উড়াতে উড়াতে ঘরে ফিরছে ধুলোশিকারি রাম সীতার দেশে।

বাল্মীকি মন তাতেই উদাস, ফুঁ দাও আত্মায় পরাণ, ও পরাণ।

প্রভুকৃপা

তারা বহুদূর ক্রুশপথ, সদ্ সদ্ জ্ঞানফল বৃক্ষের তৈরি সাঁকো আর বাঁকানদী পেরিয়ে আমার আশ্রমে এল। গোটা তিন। হয়তো মুদারা পুরুষ, চেনা যায় না, ফ্যাকাশে লোকজনÑসে-কালের মাছির মতো মুখ। বলে, ‘প্রভু আমাদেরও কিছু দ্যান।’ কী আর দেবো, বড়ো বিকেলে তারা এল। শব্দের ঘটিতে একটু ধ্বনি দিই তারা উলু ধ্বনি দেয় জোরেশোরে। কেন না, প্রভু তাদেরও কৃপা দিলেন। ঘটি নিয়ে তারা মৌমাছি, গুঞ্জন তুলে পরস্পরকে ঘুরে ঘুরে আর চক্ষু ভীষণ কুটিল, খালখন্দ কপালের ভাঁজরেখা। ‘প্রভু আমাদের কী দিলেন?’ ‘বাতাস, বাতাস, দেখছ না কেমন হাহাকার শোনা যায়’। অন্যজন মাথা নেড়ে ‘মু সন্দেহ বাহে এ জল। ঘূর্ণায়িত ভাব আছে ইহার ভিতরে আর ঘটিটি কেমন নদী নদী।’ তৃতীয়জন আনমনা ‘শস্যকণা হলে ভালো হতো। আমাদের স্ত্রীগণ ভীষণ কামুক, তারা শুধুই সবুজ পোকা চায় ধানক্ষেতের।’ অতঃপর

শব্দের ঘটিটি তারা কানের কাছে নিলো আর ঝুঁকে ঝুঁকে বাজাল। তখন দেখো, তিন হাজার তিন’শ নটীর পায়ের নূপুর শোনা যায়।

পাখি পুরাণ

বানবিদ্ধ ক্রৌঞ্চ। ছ’হাজার বৎসর পেরিয়ে এসেছ
তমসার তীর হতে, রক্তপালকে
বন্দনা নিষাদের।

ও নিষাদ জগতে তোমার প্রতিষ্ঠা হবে।

যারা পাখি শিকারি ক্রূর চক্ষু, সই হাতের নিশান
আঙুলের কড়, সোনাদানা, গল্পের রাজকুমারী
সকলই তার। মৃত হরিণ, নারী মাংস, ইরানি গোলাপ।

আমি গাই বাল্মীকি গান ‘বও বাতাস বও।’

রথের চাকা, সড়কি, বল্লম, তির কুরুক্ষেত্রে
নিষাদ যুবাদের কোলাহল ভেসে আসে
পাখি, আমার আহত পুরাণের পাখি
শব্দ কি শুনতে পাও? পালাও পালাও আরও দূরে
তমসার তীর হতে, বুড়িগঙ্গার তীর হতে
নহে অরণ্যে, নহে লোকালয়ে।

আমি ভগ্নস্বাস্থ্য সামান্য কবি
আহতপাখি, তোমাকে কী আর উপশম দেবো

দেখো গাইছি ভয়ে ভয়ে নিজেই নিষাদের গান।

জীবতত্ত্ব

প্রকাশ্য দিবালোকে, হত্যাকা- সেরে পঞ্চজন গেল পাঁচদিকে, সন্ধ্যার কুয়াশার ভেতর। রক্তাক্ত মাঠে সই সই বাতাস নিয়ে, আমি একা। পঞ্চজনের আত্মীয় হই।
আর কী জানিতে চাহ পথিক প্রবর, বংশপরিচয় লবণনদী, ঘাম সে এক করুণ কাহিনি। মাতা ছিলেন গুহার ভিতর, বৃক্ষপ্রদীপ জে¦লে। পিতা নিহত হরিণ কাঁধে এলেন যবে, কাঠে বিঁধে মাংসপি- পোড়া, দেহের ভেতর ঘাম; রাত্রি তারে আরও অধিক করে দিল, আমি তবে সম্বন্ধ হই।
আমি নই, আমরা একে একে পাঁচভাই, ভীষণ গথিক, পাঁচজনে একদেহে, হাজার ও লক্ষ বছর একসাথে কাটিয়েছি, শিখেছি কৃষিকষ্টকাম, বানিয়েছি নগর আর অলীক বন্দর। একদিন এই মাঠের ভেতর দেখা জ্ঞানী সর্পের সাথে। ডাকিয়া কহিলÑ‘ওহে পঞ্চজন, তোমরা কেউ কারও নয়, বৃথাই যৌথ বসবাস। পরস্পরের বিরুদ্ধে যাবে সে-এক ভীষণ পুরুষে, ওজন মাপার মাঠে।’
সেই থেকে নিমগ্ন বিষাদে, একা একা।
আজ এই হত্যাকা-, তোমার সম্মুখে, সাক্ষী পথের দেবতা, কবিতা কল্পনালতা।

উনুনের পাশে শীত

উনুনের পাশে বসে আছি, জবুথুবু
নাচিছে প্রেতিনি, ডাকিনি, যোগিনী, বহাভুতগণ গগণবিদারী
তবু শীত নাহি যায় আজ এই রাতে।

এই উনুনের সাথে যোগ আছে হাবিয়া দোজখের
যতসব মাতৃগামী, সমকামি, অনাচারি, ব্যভিচারিগণের শিৎকার ভেসে আসিতেছে

দপদপ পুড়ার ফলে সাতগুণ আগুনের।

যুক্তি তর্কও শোনা যাচ্ছে জ্ঞানফল, সক্রেটিসের, আবু লাহাবের।

এইসব যুক্তিতর্ক, শীৎকার আর আগুনে বহে যাচ্ছে শীত, আজ এই রাতে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *