আইসিটি লিড নিউজ

হাজার হাজার সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিটিআরসি

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়লেও কারোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না বিটিআরসি। বিটিআরসির চালু করা শর্টকোড নাম্বারে ওসব অভিযোগ জমা পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন অভিযোগ জানানোর জন্য বিটিআরসি নতুন শর্টকোড নাম্বার চালু করে। নতুন শর্টকোড নাম্বার ‘১০০’ কে বেছে নেয়া হয়েছে। যদিও ২০১৬ সালে ‘২৮৭২’ নাম্বারের একটি শর্টকোড চালু করা হয়েছিল। কিন্তু ওই শর্টকোড কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এবার পুরনো নাম্বার বাতিল করে নতুন শর্টকোডের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। পাশাপাশি বিটিআরসির ‘কমপ্লেনস ফর টেলিকমিউনিকেশনস সার্ভিসের (সিটিএস)’ মাধ্যমে কলসেন্টার পরিচালনা করাও আরো সহজ হয়েছে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী- এই শর্টকোডের মাধ্যমে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এদেশে কর্মরত মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন অফার ও ইন্টারনেট প্যাকেজ থেকে শুরু করে কলড্রপ সব কিছু মনিটর করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। ইতিমধ্যে অপারেটররা অফার ও ইন্টারনেট প্যাকেজের নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের কয়েক হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলো আমলে নেয়া হচ্ছে। গতবছরের মার্চে বিটিআরসির বোর্ড মিটিংয়ে মনিটরিং সেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এবার ফোর জি চালুর পর ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। মনিটরিং সেল যে কোন অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করবে। আর তদন্তে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে আইন অনুযায়ী গ্রাহককে বড় অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মোবাইল অপারেটরগুলোকে এ বিষয়ে বিটিআরসি কয়েক দফা চিঠি দিয়ে সতর্ক করলেও অপারেটররা তাতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এবার বিটিআরসি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেবে।

সূত্র জানায়, বিটিআরসি গ্রাহক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বোর্ড সভায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ মোবাইল অপারেটররা বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন প্যাকেজ ও অফার দিচ্ছে। দিনের কোন অংশে কত পয়সা মিনিট বা সেকেন্ড, আবার কোন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা রিচার্জ করলে ‘এত মিনিটি ও এত এসএমএস ফ্রি’। ওসব অফার পাঠিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। আর গ্রাহকরা ওসব অফার গ্রহণ করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। একইভাবে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও অফার দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। মোবাইল গ্রাহকরা ওসব এসএমএসর কারণে এখন অতিষ্ঠ। তারপরও অপারেটররা কাজটি করেই যাচ্ছে।

বিটিআরসি অপারেটরদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করলেও তারা অফার দিয়েই যাচ্ছে। অথচ সাধারণ গ্রাহক কোন না কোনভাবে প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা আশঙ্কা রয়েছে এমন কোন প্যাকেজ বা অফারের অনুমোদন নেই। এমনকি গ্রাহকদের ফিডব্যাক ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোন প্যাকেজ বা অফারের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৭ দিন হতে হবে। তবে ঈদ, পূজা, বড়দিন ও নববর্ষ ওসব ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা আলাদাভাবে স্বল্প সময়ের জন্য (ন্যূনতম তিন দিন) অনুমোদন দেয়া হবে।

যদি কোন অপারেটর বিশেষ দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কম অফার দেয় তাহলে ওই অপারেটরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অফার বা প্যাকেজ গ্রাহকের অনুমোদন ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। কোন অফার শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাসিক অফার হতে হবে ন্যূনতম ৩০ দিন। মাসিক অফার ৩০ দিনের এক ঘণ্টা কম হলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে সব গ্রাহক বিটিআরসিতে অভিযোগ দিয়েছেন, তারা সমাজের সচেতন ও শিক্ষিত মানুষ। তারা বিটিআরসি পর্যন্ত আসার মতো সুযোগ তাদের রয়েছে। যারা খুব সাধারণ গ্রাহক তারা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হলেও বিটিআরসি পর্যন্ত আসতে পারছেন না। দেশে বর্তমানে ১৪ কোটির ওপরে মোবাইল গ্রাহক। প্রতিদিন যদি মোবাইল অপারেটররা এক টাকা করেও হাতিয়ে নেয়, তাহলে প্রতিদিন ১৪ কোটি টাকা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে কত কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে?

সূত্র আরো জানায়, গ্রাহকদের স্বার্থের মাথায় রেখেই বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষাসহ অপারেটরদের ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ সমাধান ও এ সংক্রান্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কমিশনে গঠনকৃত ‘এক কমপ্লেন ম্যানেজমেন্ট টাক্সফোর্স’ সামগ্রিক বিষয়টি তদারকি করবে। কলসেন্টার থেকে বিভিন্ন অভিযোগের সমাধান করা হবে। টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের অনিষ্পত্তিকৃত অভিযোগ বিটিআরসির কলসেন্টার আমলে নেবে। কলসেন্টার থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ বিটিআরসির অভিযোগ ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে পাঠানো হবে। অপারেটর থেকে অভিযোগের সমাধান বিটিআরসিকে জানানোর পর তা গ্রাহকদের জানানো হবে। বর্তমানে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য মোট লাইসেন্স সংখ্যা ২ হাজার ২৫টি। ওই বিপুল সংখ্যক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতারা বিভিন্ন সময় নানা বিড়ম্বনার শিকার হন। গ্রাহকদের ওই বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা করতে বিটিআরসি এমন উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাহকরা যাতে নানা অনিয়মের প্রতিকার পান সেজন্য বিটিআরসি চালু করা কলসেন্টারের কাছে তারা ১০০ নাম্বারে ডায়াল করে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিটিআরসি ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। দেশে ফোর জি সেবা চালু করা হয়েছে। ফোর জি সেবার মধ্য দিয়ে দেশ টেলিযোগাযোগ খাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তবে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিপদ বাড়ছে। সাইবার ক্রাইমের ঝুঁকিও বেড়েছে। সেজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিটিআরসিও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তাছাড়া গ্রাহকদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ওসব প্রতিকূল অবস্থার সমাধান করতে বিটিআরসি একটি শর্টকোড নাম্বার দিয়েছে। ১০০ নাম্বারের শর্টকোড নাম্বারে ফোন করে যে কোন গ্রাহক যে কোন স্থান থেকে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *