সারা বাংলা

ড্রেজিংয়ের অভাবে জামালপুরে ব্রম্মপুত্র নদ এখন মরা খাল

বিএনএন ৭১ ডটকম
জামালপুর: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ, বকসিগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ এবং জামালপুর পৌর শহরের কূল ঘেসে একেঁবেঁকে প্রবাহিত নদটি নব্যতা সংকটে হারিয়ে ফেলেছে তার হাজার বছরের চিরচেনা ছন্দময়ী স্রোতধারা। নদ থাকলেও ড্রেজিংয়ের অভাবে ব্রক্ষপুত্র নদটি এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। কালের বিবর্তনে হয়ত একদিন মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।

শীতকালে নদে পানি থাকাতো প্রচুর, এখন তা’আর নেই। পানি থাকা তো দূরের কথা, ভরা বর্ষা মৌসুম পেরুতে না পেরুতেই নদে পানি শূন্যেতা দেখা দেয়। নদী মার্তৃক বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদীকেন্দ্রীক এলাকাগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন নিত্য দিনের সঙ্গি। তারপরও একসময় এখানকার লোকজন ব্রক্ষপুত্র নদকে ঘিরে হাজারও পরিবার জীবন জীবিকা চালিয়ে আসছিল। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে থাকতো, থৈ থৈ পানি থাকতো মায়াবিনী স্রোত। ঢেউয়ে ঢেউয়ে ছিল নদীর কলতানে মুখরিত। ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ,কাছ জাতের ডলফিন (শিশু) আর এখন এ নদীটি সবকিছু হারিয়ে এখন এটি খালে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে নদীটি শুধুই মানুষের কাছে স্মৃতি হয়ে রয়েছে। এক সময়ে দৈনদিন জীবনের জীবিকার সন্ধানে কাকডাকা ভোরে ছুটে যেতো ব্রক্ষপুত্র নদের পাড়ে। এখন তা’আর নেই, রয়েছে শুধু ধূ ধূ বালুচর। নদে পানি না থাকায় শত শত জেলে পরিবার বেকার হয়ে পড়েছে। চলে যাচ্ছে তারা অন্য পেশায়। দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোতে ব্রক্ষপুত্র নদে পানি না থাকায় খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। একসময় জামালপুর জেলার ইসলামপুরের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল এই ব্রক্ষপুত্র নদ।

এ নদে চলতো বড়, বড় পাল তোলা ডিঙি নৌকা, লঞ্চ, মালবাহী নৌকা দিয়ে এলাকার মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল পরিবহনসহ যাতায়াত করতো। ব্রক্ষপুত্র নদটি তার ঔতিহ্য হারানোর কারণে অস্তিত্বও হারিয়ে ফেলেছে। এখন নদীটি তার নাব্যতা হারানোর কারণে চরাঞ্চলের মানুষদের এপার ও ওপারের দুইপারের বাসিন্দাদের পায়ে হেটে আবার নৌকায় করে অনেক কষ্টে তাদের পাড়ি জমাতে হচ্ছে।

এসবের মুল কারণ উজান থেকে পলি এসে নদের তলদেশ ভরাট হয়ে দিন দিন নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। প্রতি বৎসর পলি জন্মে নদের তলদেশ ভরাট হয়ে তার ধারণ ক্ষমতা হরিয়ে ফেলছে। ফলে বর্ষার মৌসুমে সামান্য বন্যায় নদের পানি দু’কূল উপচে কৃষিজমিসহ জনবসিতে গিয়ে তলিয়ে পড়ছে। এতে প্রতিবৎসর কৃষি সম্পদ, বাড়িঘরসহ, যানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় পরিবেশ হারাবে তার ভারসাম্য, দেখা দিবে পানির অভাব।

এ বিষয়ে সরকারী উদ্দ্যোগে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ব্যক্তিরা। এদিকে জেলার জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতা জাহাঙ্গীর সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত তারা জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে নদ শুকিয়ে যাচ্ছে আর বর্ষা মৌসুমে এলাকায় প্রবল বন্যা ও নদী ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তাই জেলাবাসির প্রাণের দাবী অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি যেহেতু জামালপুর সদর উপজেলার ছনকান্দা, শরীফপুর, হামিদপুর, নান্দিনা, কানিল, নরুন্দি পর্যন্ত মোটা উন্নতমানের সিলিকন যুক্ত বালি নির্মাণ শিল্পের পাশাপাশি উত্তালন করে তা’ কাঁচ শিল্পে ব্যবহৃত করে কাঁচ শিল্পের উন্নয়ন ঘটানো আশাবাদ ব্যক্ত করছেন এলাকাবাসি।

এ বিষয়ে জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ব্রক্ষপুত্র নদের উৎস স্থল থেকে শুরু করে নরসিন্দী পর্যন্ত নদের ডেজিং করার একটি প্রস্তাবনা বি আর ডব্লিও টিএ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করছে। অনুমোদন পেলে তারা ডেজিং কাজ শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জামালপুরের উন্নয়নের রূপোকার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি এবং জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি বলেন, ব্রক্ষপুত্র নদ ডেজিং বিষয়ে পরিকল্পনা বর্তমান সরকার গ্রহন করেছে। অচিরেই তা’বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলে জানান।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *