লিড নিউজ সারা বাংলা

ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিং

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশজুড়েই অবৈধ রেলক্রসিংয়ের নামে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। অথচ তার নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয় না। ফলে রেলক্রসিংয়ে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা। গত তিন বছওে রেলক্রসিংয়ে ৮৩৭টি দুর্ঘটনায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কোনোভাবেই অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সারাদেশে অবৈধ ১ হাজার ৭৬১টি রেলক্রসিং মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ওসব অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিং ট্রেন চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে রেল নেটওয়ার্কে মোট ২ হাজার ৫৪১টি লেবেল ক্রসিং আছে। তার মধ্যে অনুমোদিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা মাত্র ৭৮০টি। আর সারাদেশে ৩৭১টি রেলক্রসিংয়ে গেইটম্যান আছেন। তার মধ্যে ২৫০ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। অনেকে দৈনিকভিত্তিক মজুরিতে কাজ করেন। তাদের কোনো প্রশিক্ষণও নেই। আর দীর্ঘদিন থেকে গেইটম্যান নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তরা মামলা করে তা আটকে দেয়। আর দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের কথা উল্লেখ করে দায়সারা প্রতিবেদন দেয়া হয়। অথচ অবৈধ রেলক্রসিংয়ের নামে তৈরি হওয়া মরণফাঁদের নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয় না।

সূত্র জানায়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেসব স্থানে ক্রসিং নির্মাণ করে সেখানে গেইটকিপার নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বা অনুমোদন না নিয়ে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও রেললাইনের উপর রেলক্রসিং নির্মাণ করে থাকে। যা রেলওয়ের আইনে নিষিদ্ধ। তাছাড়া দুর্ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর অব্যবস্থাপনাও সমানতালে দায়ি। ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে রেল কর্তৃপক্ষ ‘সতর্কীকরণ’ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু ট্রেনের গতি বাড়ানো হয়েছে। তাতে করে অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কারণ অরক্ষিত ক্রসিংগুলোর আগে ট্রেনের গতি কমানো ছাড়া চালকদের উপায় থাকে না। সাবধানতার পরেও যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চালানোর জন্য চালকদের ক্রমাগত চাপে মধ্যে রাখা হয়। বলা হয়- ডিপার্টমেন্ট যে গতি নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই গতিতে চালানোর।

এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন জানান, অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন রেলক্রসিং প্রায় সমান সমান। তাছাড়া যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন তা ন্ইে। তবে অনুমোদনহীন বেশকিছু রেলক্রসিং আমরা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার কিছু অনুমোদনহীন রেলক্রসিং অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। রেলক্রসিং সমস্যাটা একটু জটিল। তারপরও রেলক্রসিং উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ তিনটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *