অর্থনীতি

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতায় কাজে লাগেনি কোটি কোটি টাকার মিনি ডাস্টবিন

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: রাজধানী শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দুই সিটি কর্পোরেশন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত মিনি ডাস্টবিন তেমন কোনো কাজেই লাগেনি। বরং ২০১৬ সালে দুই সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর রাস্তায় স্থাপন করা প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিনের অধিকাংশই এখন চোখেই পড়ে না। তবে কিছু ডাস্টবিন এখনো কোনো রকমের অস্তিত্ব থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সেগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো ওসব ডাস্টবিন নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তেমন কোনো কাজেই আসেনি। নগরবিদদের মতে, এদেশের মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতেই অভ্যন্ত। আর ওই অভ্যাসের যত দিন পরিবর্তন না হবে, ততদিন নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার হাজার প্রকল্প নিলেও বাস্তবে তা কোনো কাজ আসবে না। আর এতো বিশাল জনসংখ্যার শহর পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্বও হতে পারে না। এক্ষেত্রে মূলত মানুষকেই সচেতন হতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর সড়কগুলোতে প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন বসানো হয়। তার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ডগুলোতে ৫ হাজার ৭০০ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়ার্ডগুলোতে ৫ হাজারেরও বেশি মিনি ডাস্টবিন বসানো হয়। ছোট ডাস্টবিন তৈরিতে ৭ হাজার ও মাঝারি ডাস্টবিন তৈরিতে ১২ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। ওইই হিসেবে ওসব ডাস্টবিন স্থাপনে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া বিনগুলো মেরামত করতেও একেকটির পেছনে গড়ে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকার বেশি। ফলে কাজে না এলেও ওসব বিনের পেছনে দুই সিটি করপোরেশনকে প্রায় ১২-১৪ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রি ডিএসসিসি পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, সংস্থার ৫ হাজার ৭০০টি বিনের মধ্যে মাত্র ৫১ শতাংশ বিন রয়েছে। বাকি ২৭ শতাংশ বিন এখন মেরামতযোগ্য আর ২২ শতাংশ বিনের কোনো হদিসই নেই। রাজধানীর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলামোটর ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে একটি মিনি ডাস্টবিনেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র লোহার স্ট্যান্ডটি দাঁড়িয়ে আছে বাকিটা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। উত্তর সিটিসহ রাজধানীর অন্য এলাকার চিত্রও প্রায় একই। তাছাড়া গুলিস্তান, পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে বসানো ২ হাজার বিনের মধ্যে সিংহভাগ বিনই গায়েব। আর উত্তর সিটির বনানীর স্টাফ রোড থেকে মহাখালী, সাতরাস্তা, বিজয় সরণি, রোকেয়া সরণি ও শ্যামলী রিং রোড এলাকায় বসানো এক হাজার বিনেরও একই অবস্থা। ইতিমধ্যে সিংহভাগ মিনি ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, মিনি ডাস্টবিনগুলো আশানুরূপ কাজে না লাগার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে ফুটপাতে হকারদে দৌরাত্ম। তারা ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য অনেক বিন ভেঙে ফেলেছে। আবার কোথাও কোথাও ভাঙতে না পেরে বিনের মুখ উল্টো করে রাখা হয়। অনেক সময় বিনের মুখ পলিথিন বা অন্য কিছু দিয়েও বেঁধে দেয়া হচ্ছে। যেন কেউ বিনে ময়লা না ফেলে।
এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোঃ আশরাফুল আলম জানান, শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে সর্বপ্রথম মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ সচেতন না হলে ও মানুষের মধ্যে নৈতিকতা বোধ তৈরি না হলে জনগণের এসব সম্পত্তির চুরি রোধ করা যাবে না। এ বিষয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে সিটি করপোরেশন চিন্তা-ভাবনা করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *