সারা বাংলা

পানি শূন্য পদ্মা এখন মরা খাল

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ ধরে রাখতে ভারত সরকারের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। পানি চুক্তির ২২ তম বছরের ৭টি সাইকেল শেষ হলেও চুক্তি অনুযায়ী একবারও পানি পায়নি ভাটির এ দেশ। যৌথ নদী কমিশন’র ওয়েব সাইটে চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৭টি সাইকেলে পানি প্রাপ্তির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার থেকেও বাস্তব চিত্র ভয়াবহ। পানি নেই পদ্মায়। পানি শূন্য পদ্মা নদী এখন মরা খাল। পানির অভাবে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল বালুচর।

জের অর্ধেকের বেশী গার্ডার এখন দাঁড়িয়ে আছে বালুচরের উপর। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির লক্ষে ১৯৯৬ সালে ভারত সরকারের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী পানি চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ১লা জানুয়ারী থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময় কে শুষ্ক মৌসুম হিসাবে অভিহিত করে প্রতিটি মাসকে তিনটি সাইকেলে ভাগ করা হয়েছে। কোন চক্রে বাংলাদেশ কি পরিমান পানি পাবে তাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কখনই ন্যায্য হিস্যা পায়নি বাংলাদেশ। যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্র জানায়, পানি বন্টন চুক্তির সংলগ্নি ২ এর ইন্ডিকেটিভ অনুযায়ী জানুয়ারী থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৭টি সাইকেলে বাংলাদেশের পানি পাওয়ার কথা ছিল ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬’শ ৩১ কিউসেক। এসময়ে পানি পাওয়া গেছে ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪’শ ৩৫ কিউসেক। বাংলাদেশ কম পেয়েছে ৪২ হাজার ১’শ ৯৬ কিউসেক পানি।

এরমধ্যে জানুয়ারী মাসের প্রথম ১০ দিনের ১ম সাইকেলে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি। এ সময় পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৫৪ কিউসেক পানি। এ হিসেবে ভারত বাংলাদেশ কে প্রথম চক্রেই কম দিয়েছে ১১ হজার ৪’শ ৬২ কিউসেক পানি। চুক্তির ধারা অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে ভারতকে ৪০ বছরের গড় পানিপ্রবাহ অর্থ্যাৎ ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু তা না করে পানির প্রবাহ দেখিয়েছে ৮৮ হাজার ৭’শ ৮৩ কিউসেক। ভারতের হিস্যা অনুযায়ী ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভারত ঠিকই বুঝে নিয়েছে। ১১ জানুয়ারী থেকে ২০ জানুয়ারী ২য় সাইকেলে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৫৭ হাজার ৬’শ ৭৩ কিউসেক পানি। এ সময় পাওয়া গছে ৪৭ হাজার ৫’শ ৩৩ কিউসেক পানি। ২১ জানুয়ারী থেকে ৩১ জানুয়ারী ৩য় সাইকেলে ৫০ হাজার ১’শ ৫৪ কিউসেক পানি দেওয়ার কথা থাকলেও দিয়েছে ৪৩ হাজার ৬’শ ১০ কিউসেক। ফেব্রুয়ারী মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ৪র্থ সাইকেলে ৪৬ হাজার ৩’শ ২৩ কিউসেক’র স্থলে ভারত দিয়েছে ৪১ হাজার ৮’৫৫ কিউসেক পানি। ৫ম সাইকেলে ১১-২০ ফেব্রুয়ারী ৪২ হাজার ৮’শ ৫৯ কিউসেক পাওয়ার কথা থাকলেও ভারত কম দিয়েছে ৪ হাজার ৬’শ ১৩ কিউসেক। এ সময় পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ২’শ ৪৬ কিউসেক পানি।

২১-২৮ ফেব্রুয়ারী’র ৬ষ্ট সাইকেলে ৩৯ হাজার ১’শ ৬ কিউসেকের স্থলে পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮’শ ৫১ কিউসেক। মার্চ মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের ৭ম সাইকেলে ৩৫ হাজার কিউসেকের স্থলে পাওয়া গেছে ৩৩ হাজার ২’শ ৮৬ কিউসেক। জানুয়ারী থেকে ৩১মে পর্যন্ত ১৫ টি সাইকেলের ৭ টি সাইকেলেই ৪২ হাজার ১’শ ৯৬ কিউসেক পানি কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে পদ্মা নদী। পানি নেই হার্ডিজ্ঞ ব্রীজের নীচে। ব্রীজের নীচে এখন ফসলের মাঠ। ব্রীজের ১৫ টি গার্ডের মধ্যে মাত্র ৭ টি গার্ডার কার্যত পানির ভিতর দাঁড়িয়ে আছে। বাকি ৮টি এখন বালুচরে। দিনযতই যাচ্ছে পদ্মা নদীতে ততই জেগে উঠেছে বালুচর। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে করুন পদ্মা নদীর চিত্র। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ও লালন শাহ্ ব্রীজের যুগল সৌর্ন্দয্য দেখতে আসা ভেড়ামারা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিহা আহমেদ মেঘলা জানিয়েছেন, পাঠ্য বই এ পড়েছি প্রমত্ত পদ্মা নদীর কথা। যার উত্তাল গর্জন শোনা যেত দূর থেকেই। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। পাঠ্যবই এর সাথে বাস্তব অবস্থার কোন মিল নেই। পানির অভাবে পদ্মা এখন মরা খাল। জলরাশির পরিবর্তে চারিদিকে শুধু ধু-ধু বালুচর। পদ্মার বুক এখন ফসলী জমির মাঠ। পানি হ্রাসের এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামি প্রজন্ম হার্ডিঞ্জ ব্রীজ নির্মানের কোন কারণ খুঁজে পাবে না।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *