সারা বাংলা

আন্তর্জাতিক মানের করার হচ্ছে দেশের সকল স্থলবন্দরের সড়ক

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশের স্থলবন্দরগুলোর সড়ক অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের নয়। অথচ ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রই হচ্ছে ওসব বন্দর। বর্তমানে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে বন্দর থেকে পণ্য আমদানি-রফতানিতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। আর বন্দরগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন শহরের সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণেও কমে যাচ্ছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের গতি। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ২৪ স্থলবন্দরের সড়ক অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি ২৪টি স্থলবন্দরকে আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে (সওজ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেই প্রেক্ষিতে সংস্থা দুটি ইতিমধ্যে বন্দরসংলগ্ন নিজেদের আওতাধীন সড়ক অবকাঠামোগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করেছে। এলজিইডি ও সওজ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের স্থলবন্দরগুলোর সড়ক যোগাযোগ সহজ ও আন্তর্জাতিক মানের করতে নির্মাণ করা হবে আন্ডারপাস, ওভারপাস বা ফ্লাইওভারের মতো নতুন অবকাঠামো। এলজিইডির আওতাধীন বন্দরসংলগ্ন সড়কগুলোর বেশকিছু ডাবল লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বাড়ানো হবে সড়কের পুরুত্ব। তাছাড়া সওজের কিছু সড়কও চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রতিস্থাপন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুনঃনির্মাণ করা হবে বন্দরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। তাছাড়া বন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক স্থাপনের পাশাপাশি নির্মাণ হবে নতুন বাইপাস সড়কও।

বর্তমানে দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে এলজিইডির আওতাধীন সড়ক রয়েছে এমন বন্দরের সংখ্যা ৬টি। তার মধ্যে বেনাপোল বন্দর থেকে শার্শা-ঝিকরগাছা-ছুটিপুর, কায়েমখোলা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক যুক্ত হবে আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে। এলজিইডি সড়কের নতুন ডিজাইন অনুযায়ী পুনর্নির্মিত হবে সড়কটি। বন্দরের এলজিইডির পক্ষ থেকে ওই সড়কটিকে বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সড়কের নতুন নকশা অনুযায়ী এলজিইডির আওতাধীন সড়কের লেয়ার থিকনেস হবে সর্বোচ্চ ৯৭৫ ও সর্বনিম্ন ৭০০ মিলিমিটার। পাশাপাশি পোর্ট ও পাওয়ার প্লান্টসংলগ্ন সড়কগুলোর জন্য প্রণয়ন করা হবে বিশেষ নকশা। তার আগে রোড ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড ২০০০ অনুযায়ী এলজিইডির সড়কের সর্বোচ্চ লেয়ার থিকনেস ছিল ৬৫০ ও সর্বনিম্ন ৫৫০ মিলিমিটার।

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বেনাপোল কাস্টমস অফিস ও বন্দরের পাশ দিয়ে ছোট আঁচড়া মোড় থেকে বন্দরের রেলপথ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়কটি প্রায়ই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ দেশের বৃহত্তম এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হচ্ছে। একই সঙ্গে তা ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এ সড়ক দিয়েই পণ্য নিয়ে আসা ৪০০ থেকে ৫০০টি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। তাছাড়া বেনাপোল বন্দরের টার্মিনালের অধিকাংশ যানবাহনও এ সড়কে চলাচল করছে। তাছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে বাল্লা স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণসহ ৩ কিলোমিটার ডাবল লেনে পুননির্মাণ করবে এলজিইডি। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ওই সড়কটি প্রায়ই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাছাড়া যশোর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছে সওজ। বর্তমানে ওই রাস্তার অনেকটাই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আর ভুরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরের রাস্তাটিও খুব খারাপ। সড়কটি দুই লেনে রূপান্তরের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে। আর বন্দরসংলগ্ন দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে এলজিইডির আওতাধীন সড়ক আছে এমন অন্য স্থলবন্দরগুলো হচ্ছে- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর। আর সওজের আওতাধীন সড়ক আছে এমন অন্য বন্দরগুলো হলো- ফেনীর বিলোনিয়া স্থলবন্দর, জামালপুরের ধানুয়াকামালপুর স্থলবন্দর, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর, দিনাজপুরের তামাবিল স্থলবন্দর, লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর, ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া কড়ইতলী স্থলবন্দর, শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর, রাঙ্গামাটির থেগামুখ স্থলবন্দর, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর, কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর ও সিলেটের শেওলা স্থলবন্দর । সরকার শুধুমাত্র বন্দরসংলগ্ন নয়, বরং বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে গ্রামীণ যানবাহনেও। কারণ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই অতিরিক্ত মালবাহী যান চলাচলের পরিমাণও বেড়েছে। বিশেষ করে বন্দর, বড় কোনো বাজার বা বিদ্যুৎকেন্দ্রসংলগ্ন সড়কগুলো দ্রুত খারাপ হচ্ছে। শুধু অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষতি হয় স্বাভাবিকের চেয়ে ২১ গুণ বেশি। মূলত এসব বিবেচনায় স্থায়িত্ব ও ভার বহন ক্ষমতা বাড়াতে এলজিইডির আওতাধীন সব সড়কের নকশাতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইফতেখার আহমেদ (পরিকল্পনা) জানান, সরকার থেকেই দেশের স্থলবন্দরগুলোর সড়ক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার নির্দেশনা এসেছে। তবে শুধু বন্দর নয়, বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে গ্রামীণ যানবাহনেও। তাই বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এলজিইডি সড়কের জন্য নতুন করে নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *