আন্তর্জাতিক

সিঙ্গাপুরের দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় বিলাস দ্রব্য সরবরাহের অভিযোগ

বিএনএন ৭১ ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে উত্তর কোরিয়ায় বিলাস দ্রব্য পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অভিযোগের কথা জানিয়েছে বিবিসি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া চূড়ান্ত এ প্রতিবেদন সপ্তাহের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের সরকারও অবৈধভাবে বিলাস দ্রব্য সরবরাহের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় বিলাস দ্রব্য সরবরাহে জাতিসংঘের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর সরকারেরও নিষেধাজ্ঞা আছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওসিএন এবং টি স্পেশালিস্ট ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় ওয়াইন, স্পিরিটসহ বিভিন্ন বিলাস দ্রব্য সরবরাহ করে গেছে বলে ফাঁস হওয়া জাতিসংঘের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান দুটিকে ‘সিস্টার কোম্পানি‘ বলছে বিবিসি, যাদের পরিচালক একই। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তেই থাকে। গত বছর উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের কথার লড়াই আন্তর্জাতিক মহলকেও বেশ উদ্বেগে ফেলেছিল।

চলতি বছরের শুরু থেকে পরিস্থিতির অভূতপূর্ব বাঁক বদলের সম্ভাবনা দেখা দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের সূত্র ধরে দুই কোরিয়ার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে অংশ নিতে কিমের বোনসহ উত্তরের প্রভাবশালী নেতারা সিউল ও পিয়ংচ্যাং সফর করেন। একই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনার দরজা খুলে যায়।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে তার হাতে কিম জং উনের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন; ট্রাম্প ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মে মাসের মধ্যে উনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন বলেও পরে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণের প্রতিনিধিনরা জানিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও ওয়াশিংটন বলেছে, পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তির আগ পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দেওয়া সব নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও ওয়াশিংটন বলেছে, পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তির আগ পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দেওয়া সব নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ওসিএন ও টি স্পেশালিস্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তর কোরিয়ায় অবৈধভাবে পণ্য সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ায় বিলাস দ্রব্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আছে জাতিসংঘের। কয়েক বছর ধরে একই নিষেধাজ্ঞা আছে সিঙ্গাপুরেরও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া অভিযোগটি সত্য হলে এশিয়াজুড়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পদ্ধতি প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। মহাদেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্যের বিস্তৃতি কতটুকু তা নিয়েও দেখা দেবে উদ্বেগ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *