সারা বাংলা

বিদ্যুৎ বিল আদায় সহজ না করেই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেয়ায় ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: প্রিপেইড মিটারে অগ্রিম বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দিতে গিয়ে প্রায় পুরো দিন লেগে যাচ্ছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে কর্মজীবী মানুষের মূল্যবান সময়। মূলত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির উদাসীনতা ও বিদ্যুৎ বিল আদায় সহজ না করেই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেয়ায় গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই বিল দিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার গ্রাহককে উদ্ধারের কথা বলা হলেও এখনো কার্যকর কিছু করে ওঠা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী ও ডিপিডিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই বিল দিতে হচ্ছে। আগে মাস শেষে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে মাস শেষে বিল নিয়ে নিজেই বিল পরিশোধ করতেন। কিন্তু প্রিপেইড মিটার সংযোজনের পর বিল দেয়ার দায়িত্ব ভাড়াটিয়ার ওপর বর্তেছে। নতুন পদ্ধতিতে টাকা শেষ হওয়ার আগেই মিটারে পুনঃরিচার্জ করা সম্ভব না হলে ঘরের বাতি নিভে যায়। পাখাও ঘোরে না। সঙ্গত কারণে গ্রাহক বিল দিতে বাধ্য হয়। আর প্রিপেইড মিটারের প্রত্যেক গ্রাহক নিজেই বিল দিতে যাওয়ায় লোকস্যংা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ডিপিডিসি আড়াই লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দিয়েছে। ওই আড়াই লাখ গ্রাহকই প্রতি মাসে রিচার্জ করতে যান। ডিপিডিসি নিজস্ব ভেন্ডিং স্টেশনের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে দিয়ে প্রিপেইড মিটারের অর্থ আদায় করে। দেশের ২৬ টি ব্যাংকের সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিল আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিপিডিসি অর্থ তাদের অধীনে নিয়ে যেতে চাওয়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকগুলোতে বিল নেয়ার জন্য যে রিসিট সরবরাহ করতে হয়, ডিপিডিসি তা সরবরাহ করে থাকে। কোন কোন সময় ব্যাংকে ওই রিসিট না থাকলে বিল নেয়া বন্ধ রাখা হয়। যেহেতু আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর মতবিরোধ রয়েছে তাই ওসব ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের প্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ। ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যমান ও নতুন মিলিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার পাবেন। তাছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থাৎ আগামী ৫ বছরের মধ্যেই সারাদেশে ব্যাপকভাবে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করা হবে।
এদিকে প্রিপেইড মিটারে বিল পরিশোধের জটিলতা প্রসঙ্গে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (হিসাব) গোলাম মোস্তফা জানান, প্রিপেইড মিটার নতুন সংযোজন। শুরুতে নতুন কিছু আসলেই কিছু সমস্যা তৈরি হয়। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে সমস্যার সমাধান করতে। সেজন্য একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। অন্য আরো মোবাইল ফোন কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তি করা হবে। আশা করা যায় এই সমস্যা আর দীর্ঘসময় থাকবে না।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তির বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। বিল দেয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা দেখেই পেমেন্ট গেট ওয়ে তৈরি করা হচ্ছে। দেশে মোবাইলে যেভাবে রিচার্জ করা হয়, একইভাবে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহক বিল দিতে পারবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো কিছুটা সময় প্রয়োজন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *