আন্তর্জাতিক

পক্ষত্যাগী গুপ্তচরের ওপর হামলার পেছনে ‘সম্ভবত মস্কো’: মে

বিএনএন ৭১ ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার পেছনে ‘সম্ভবত মস্কোই জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। গত সোমবার পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর যে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাশিয়ায় বানানো সামরিক ঘরানার। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর, খবর বিবিসির। মঙ্গলবারের মধ্যে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ না পেলে যুক্তরাজ্য পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলার ঘটনাকে মস্কোর ‘বেআইনী বলপ্রয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছেন মে। গত ৪ মার্চ ইংল্যান্ডে সলসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের ওপর নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পরে পুলিশ নিশ্চিত করে। বাবা ও মেয়ের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক হামলায় ব্যহৃত নার্ভ এজেন্টটি সনাক্ত করা হয়েছে, এটি নভিচক নামে পরিচিত বলে জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

হতে পারে এটি (হামলা) আমাদের দেশের বিরুদ্ধে রুশ সরকারের সরাসরি পদক্ষেপ, কিংবা হতে পারে তারা (রাশিয়া সরকার) ক্ষতিকর ও ভয়াবহ মাত্রায় ধ্বংসাত্মক এ নার্ভ এজেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যার ফলে এটি অন্য কারও হাতে চলে গেছে, বলেন মে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। মস্কোকে নভিচক কর্মসূচির আদ্যপান্ত এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল উইপনসের কাছে দিতে হবে বলে বরিস রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, ভাষ্য কনজারভেটিভ দল প্রধানের। সাবেক গুপ্তচরের ওপর রাসায়নিক হামলার প্রেক্ষিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মে জানিয়েছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে ‘পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা’ না পেলে বুধবারেই হাউজ অব কমন্স থেকে নিষেধাজ্ঞাসহ ওই পাল্টা পদক্ষেপগুলো ঘোষিত হতে পারে বলে ধারণা বিবিসির।

যুক্তরাজ্যের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাচেষ্টায় রাশিয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেলে ব্রিটিশ সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কূটনীতিক বহিষ্কার করাসহ একাধিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সাবেক গুপ্তচর হত্যাচেষ্টাকে যুক্তরাজ্যের মাটিতে রাশিয়ার চালানো ‘রাষ্ট্র-পরিচালিত হামলা’ বলে ঘোষণা করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিলে স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ের পর প্রথম রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকবে বলে মন্তব্য পর্যবেক্ষকদের। ব্রিটিশ তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনই এ হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। যদিও রাশিয়া এ ঘটনার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাবেক গুপ্তচর কর্নেল স্ক্রিপাল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার চরে পরিণত হওয়ার অভিযোগে রাশিয়ার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বিচারে ১৩ বছরের কারাদ- হলেও আটক গুপ্তচর বদলাবদলিতে ২০১০ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়েই স্ক্রিপাল ব্রিটেনে চলে যান। স্ক্রিপালের কন্যা ইউলিয়া মস্কোতে বসবাস করলেও বাবাকে দেখতে তার নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যাতায়াত ছিল।

পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণ আগে পিতা-কন্যাকে ওই এলাকার জিজ্জি রেস্তোরাঁর সামনের গলি ধরে হেঁটে আসতে দেখা গেছে। ঘটনার পর সতর্কতা হিসেবে রেস্তোরাঁটি ও পাশের বিশপ’স মিল পাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাসায়নিক বিশেষজ্ঞরা পরে রেস্তোরাঁর একাংশে ‘নার্ভ এজেন্ট’ এর আলামত পান। খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় বাবা-মেয়েকে পার্কের একটি বেঞ্চে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও রেস্তোরাঁটির আর কোনো অতিথি অসুস্থ হননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
৬৬ বছর বয়সী সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার (৩৩)‘অবস্থা জটিল হলেও তারা স্থিতিশীল আছেন’ বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট নিক বেইলিকেও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; তিনি সজাগ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন।

ঘটনা বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে ‘দৃঢ় সংলাপ’ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন জেরমি করবিন। কনজারভেটিভ দলের তহবিলে রুশ ধনকুবেরদের অর্থ দান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারি সাংসদদের তোপের মুখেও পড়েন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলীয় এ নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, হামলার পেছনে রাশিয়া আছে, যুক্তরাজ্যের এ ধারণায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আছে।
মস্কো যুক্তরাজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া মে-র বিবৃতিকে ‘সার্কাস মঞ্চায়ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এটি (যুক্তরাজ্যের অবস্থান) উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক প্রচারণা, ভাষ্য তার। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এ ঘটনায় মস্কোর হস্তক্ষেপ নেই বলে ইঙ্গিত করেছেন। সেখানে এর শেষ হোক, তারপর এ নিয়ে আলোচনা করবো, বলেছেন তিনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *